ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ২৪ নভেম্বর ২০২০ ● ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার  মঙ্গলবার ● ২৪ নভেম্বর ২০২০
শিরোনাম: ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর শপথ নিলেন ফরিদুল হক খান       গাজীপুরে ট্রাকচাপায় অটোরিকশাচালকসহ নিহত ২       আওয়ামী লীগে গণতন্ত্রের চর্চা নেই : গয়েশ্বর       তাজরিন শ্রমিকদের ৩ দাবি, গণভবনে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধা       ডি‌জিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ফটোসাংবাদিক কাজলের জামিন       শেখ হাসিনার বহরে হামলা : এক আসামির মামলা বাতিলে আবেদন খারিজ       মন্ত্রিসভার ৬ সদস্যের নাম ঘোষণা করলেন বাইডেন      
প্রিন্ট সংস্করণ
সিরিয়াল লাশ ধর্ষক সিআইডির জালে
নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : Saturday, 21 November, 2020 at 2:23 AM


বছর ত্রিশেকেরও বেশি আগে এক ভৌতিক মানুষের দেখা মিলেছিল বাংলাদেশে। খলিলুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি মর্গে মর্গে ঘুরে লাশের কলিজা বের করে খেত। সেই রহস্যের পেছনে ছুটে তা উদঘাটন করে বিকৃত খলিলুল্লাহকে ধরেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। এরপর বিশ্বের অন্য দেশে এ ধরনের নানা খবর শোনা গেলেও তার বেশিরভাগেরই সত্যতা মেলেনি। তবে আবারো একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশে এবং ধরাও সিআইডির জালে। এবার এক যুবকের মৃত নারী অর্থাৎ নারীদের লাশ সিরিয়ালি ধর্ষণের ভৌতিক ঘটনা উদঘাটন করে সিরিয়াল লাশ ধর্ষককে ধরে ফেলেছে সিআইডি।
গল্প নয় সত্যি। এই নরপশুর নাম মুন্না ভগত। বয়স বিশ বছর। সুন্দর চেহারার হালকা পাতলা গড়ন হলেও তার মধ্যে বাস করতো ভয়ঙ্কর অমানুষ। শুনলে যে কেউ আঁতকে ওঠবে। রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গের ডোমের সহকারীকে হিসেবে কাজ করতে গিয়ে মুন্না মৃত তরুণীদের লাশের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হতো। মধ্যরাতে সে মেতে উঠতো এক বীভৎস কর্মকাণ্ডে। আত্মহত্যার মতো অপঘাতে নিহত তরণীদের মৃতদেহের সঙ্গে সে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হতো। সবার অগোচরে দিনের পর দিন এই জঘন্য কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছে মুন্না ভগত। আত্মহত্যাকারী ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী মেয়েরাই ছিল মুন্নার লক্ষ্য। গত এক বছরে অন্তত ছয়জন মৃত নারীকে ধর্ষণ করেছে মুন্না। ছয় নারীর এইচভিএসে (হাই ভ্যাজাইনাল সোয়াব) মুন্নার ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। লাশগুলো আত্মহত্যাজনিত কারণে মৃত ছিল।
সম্প্রতি উচ্চ আদালতের নির্দেশে বেশ কয়েকজন মৃত নারীর এইচভিএসে (হাই ভ্যাজাইনাল সোয়াব) পরীক্ষা করা হয়। সেই সকল লাশের পরীক্ষা মধ্যে ছয় নারীর লাশ ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গত বৃহস্পতিবার মুন্নাকে গ্রেপ্তার করে। এরপরই বেরিয়ে আসে এই কদর্য ঘটনার খবর।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদর দপ্তরে সিআইডির অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক সৈয়দ রেজাউল হায়দার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের ডোম সহকারী হিসেবে প্রায় চার বছর ধরে কাজ করছে মুন্না। শুরু থেকে মর্গেই থাকে সে। ময়নাতদন্তের আগে লাশ রাতে পাহারা দেওয়ার সময় এই কাজে লিপ্ত হতো সে। সিআইডি কর্মকর্তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না তার এসব অপকর্মের কথা স্বীকার করেছে।
যেভাবে শনাক্ত করলো সিআইডি: ২০১২ সালে বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম ডিএনএ ল্যাব স্থাপিত হয়। ল্যাব স্থাপনের পর হতে ধর্ষণ ও হত্যাসহ আদালতের নির্দেশে প্রেরিত সব আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা ও প্রোফাইল তৈরি করে সিআইডি। গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ কয়েকটি নমুনা পাঠিয়েছিল সিআইডিকে। সেখানে মৃত নারীর এইচভিএসে পুরুষ বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া যাওয়ায় পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করার চেষ্টা করে তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিআইডির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘কোডিস (ঈঙউওঝ)  সফটওয়্যার আমরা সার্চ দিয়ে দেখি। মোহাম্মদপুর ও কাফরুল থানার কয়েকটি ঘটনায় প্রাপ্ত ডিএনএ’র প্রোফাইলের সঙ্গে একই ব্যক্তির ডিএনএ বারবার ম্যাচ করছে। যেটা অনেকটাই অস্বাভাবিক ছিল। ধারণা করা হয়, একজন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা অথবা ধর্ষণজনিত কারণে আত্মহত্যা হয়েছে। কিন্তু মরদেহগুলোতে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।
সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা তখন মনে করি, কোনো না কোনোভাবে ভিকটিমদের মৃতদেহের ওপরে কোনো ব্যক্তির বিকৃত যৌন লালসা চরিতার্থ হয়েছে। প্রতিটি মৃতদেহ মর্গে আনার পর তার মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হয়। সব লাশই ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রেখে দেওয়া হয়। সেখানে বেশ কয়েকজন ডোম নিয়মিত পাহারা দিতো। কিন্তু এই লাশগুলোর ক্ষেত্রে একজন ডোম সহকারী নিয়মিত ডিউটিতে থাকতো। প্রাথমিকভাবে তাকে সন্দেহ হয় আমাদের। পরবর্তীতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বাইরে নিয়ে গিয়ে কথা বলার নামে, চা খাওয়ার ছলে তার ডিএনএ সংগ্রহ করি আমরা। সেটা সিআইডি ল্যাবে নিয়ে এসে বিশ্লেষণ করলে ওই ছয় মরদেহের ডিএনএ’র সঙ্গে ম্যাচ করে। তখন শতভাগ নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাই। বিষয়টি আসামি বুঝতে পেরে গাঢাকা দেয়।
ইন্টারনেটে দেখা গেছে, মৃতদেহের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করা একটি মানসিক রোগ। এই ধরনের রোগকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় নেক্রোফিলিয়া বলা হয়ে থাকে। এনএমএস।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com