ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  শুক্রবার ● ২৭ নভেম্বর ২০২০ ● ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার  শুক্রবার ● ২৭ নভেম্বর ২০২০
শিরোনাম: ছাব্বিশ দিনে ডেঙ্গুর রেকর্ড       পেঁয়াজের রোড ম্যাপ: চারবছরে উদ্বৃত্ত        সবজিতেও বাম্পার        নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি ও টিউশন ফি বেশি নিলে এমপিও বাতিল       এক বাংলাদেশির সিঙ্গাপুরে পাচার করা বিলিয়ন ডলারের সন্ধান       বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক স্থগিত       অক্সফোর্ডের করোনা টিকা ৩ কোটি ডোজ কিনবে বাংলাদেশ      
প্রিন্ট সংস্করণ
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি পাত্তা পাচ্ছে না অডিট আপত্তি
নূরুজ্জামান মামুন
Published : Saturday, 21 November, 2020 at 2:17 AM


দেশের ১০ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ১৩টি খাতে ৪৭ কোটি টাকার বেশি টাকা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে মহাহিসাব নিরীক্ষা অধিদপ্তর (সিএজি)। অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিধি বর্হিভূতভাবে খরচ করলেও হিসাব দিতে পারেনি। দফায় দফায় ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিলেও পাত্তাই দিচ্ছে না। সর্বশেষ ১৫ দিনের সময় দিয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে। ব্যর্থ হলে অনিয়ম প্রমণিত ধরে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা চিঠিতে জানিয়ে দিয়েছে সিএজি । সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিএজি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগুলো হচ্ছে-শিক্ষার্থী ভর্তি ফরম বিক্রির টাকা ৪০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা না রাখা, সরকারি কোয়র্টারে বসবাস করেও নির্ধারিত হারের চেয়ে কম হারে বাড়ি ভাড়া কর্তন, অনিয়মিত ও অসম গ্রেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেতন সমতা করা, শিক্ষকদের মাসিক দায়িত্বভাতা বাড়িয়ে দেওয়া, বিধি বহির্ভুতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মোবাইল ভাতা, যাতায়াত  ভাতা , ডিন ভাতা, গবেষণা ভাতা, পরিচালক ভাতা,  প্রোভোস্ট ভাতা, চেয়ারম্যান ভাতা ও জ্বালানি ভাতা প্রদান প্রদান , প্রাপ্যতার চেয়ে বেশি বই ভাতা নেওয়া, সম্মানি থেকে আয়কর কর্তন না করা, ঠিকাদার, সরবরাহকারী এবং দোকান ভাড়ার বিল হতে আয়কর কর্তন না করা এবং শিক্ষাছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান না করার পরেও তাদের বেতন ভাতাদি দেওয়া।  
সংশ্লিষ্টরা জানান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে এসব খাতের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও লুটপাটের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে বছরের পর বছর অডিট আপত্তি ঝুলে থাকলেও নিষ্পতি হচ্ছে না। শুধু অর্থ সংশ্লিষ্ট অভিযোগ রয়েছে আরো ২২ ধরনের।  একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের রিরুদ্ধে। বছরের পর বছর চলে আসা এসব অনৈতিক সুবিধা বন্ধ করতে শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় মাঝে মধ্যে শুদ্ধি অভিযানের কথা বললেও কার্যত কিছু হয়নি।
গত ১০ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে সিএজির পাঠানো অডিট আপত্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের হিসাব সম্পর্কিত অডিট ইন্সফেকশন রিপোর্ট (এআইআর) এর ওপর নিষ্পত্তিমূলক জবাব একাধিবার চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। এর আগে এক মাসের মধ্যে জবাব পাঠানোর কথা বলা হলেও কোনো বিশ্ববিদ্যালয় জবাব দেয়নি। এরমধ্যে শুধু  ইউজিসি পাঁচটি অনুচ্ছেদের জবাব দিয়েছে। সিএজি আইইআর রিপোর্টে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ২৭টি অনুচ্ছেদের মধ্যে ১৩টি অনুচ্ছেদকে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তিমূলক জবাব প্রেরণের জন্য পুনরায় অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়া না গেলে উক্ত অনিয়মসমূহকে সঠিক হিসেবে গন্য করে বাংলাদেশ কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (নিরীক্ষা আপত্ত্বি) অন্তর্ভুক্তির লক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ১৮ নভেম্বার এই চিঠিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা হয়েছে।   
যেসব খাতে অডিট আপত্তি:
ইউজিসির বার্ষিক প্রাপ্তি ও পরিশোধের সম্পর্কিত হিসাব বিবরিণীতে অনলাইন মাধ্যমে প্রাপ্ত আয়ের অপেক্ষা কম আয় প্রদর্শন করায় তিন কোটি ৫৯ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬৫ টাকা রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে। অভিযুক্ত ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষার্থী ভর্তি ফরম বিক্রির কোন অর্থ জমা না দিয়ে চার কোটি ৩৫ লাখ ৭২ হাজার ৭০১ টাকা আত্মসাৎ করেছে। নিয়ম অনুযায়ী ভর্তির ফরম বিক্রির ৪০ শতাংশ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা রাখতে হয়। দুই অর্থ বছরে দুই ধরনের হিসাব বিবরণী  প্রণয়ন এবং কম আয় প্রদর্শিত করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি ১০ কোটি ৫০ লাখ ৮২ হাজার ৪৪২ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সরকারি কোয়র্টারে বসবাস করা সত্ত্বেও নির্ধারিত হার অপেক্ষা কম হারে বাড়ি ভাড়া কর্তন করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১৫ কোটি ৫৯ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৮ টাকা। অনিয়মিত অসম গ্রেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেতন সমতা করণের ফলে বেতন ভাতা বাবদ অতিরিক্ত পরিশোধ  করা হয়েছে ৫৪ লাখ ১৪ হাজার ৬৯৩ টাকা। শিক্ষকদের মাসিক সর্বোচ্চ ১৫শত টাকার পরিবর্তে ৩৬শ থেকে চার হাজার হারে দায়িত্বভাতা প্রদান করায় আর্থিক ক্ষতি দুই কোটি ২৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩০১ টাকা। বিধি বর্হিভুতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মোবাইল ভাতা, যাতায়াত  ভাতা , ডিন ভাতা, গবেষণা ভাতা, পরিচালক ভাতা, প্রোভোস্ট ভাতা, চেয়ারম্যান ভাতা ও জ্বালানি ভাতা প্রদান  করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি সাত কোটি ছয় লাখ ৫৪ হাজার ১৮৭ টাকা। শিক্ষকদের প্রাপ্য বই ভাতা ১২ শত টাকার পরিবর্তে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা হারে বই ভাতা প্রদান করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি ৮৮ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৭ টাকা। বিধি মোতাবেক প্রদত্ত সম্মানি হতে আয়কর কর্তন না করায় আয়কর বাবদ ৬০ লাখ ৩৭ হাজার ৮৭২ টাকা এবং দণ্ডসুদ বাবদ ১৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯০ টাকাসহ সরকারের মোট আর্থিক ক্ষতি ৭৪ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬২ টাকা। ঠিকাদার, সরবরাহকারীর এবং দোকান ভাড়ার বিল হতে আয়কর কর্তন না করায় ৬৫ লাখ ১৮ হাজার ৯৯৯ টাকা এবং দণ্ডসুদসহ ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬০ টাকা সরকারের মোট আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৮০ লাখ ৮৩ হাজার ৫৫৯ টাকা। বিধি মোতাবেক ঠিকাদার/সরবরাহকারী বিল হতে ভ্যাট কম কর্তন করায় বা কর্তন না করায় ভ্যাট বাবদ ৩৩ লাখ ৭৯ হাজার ৮৯৭ টাকা  এবং দণ্ডসুদ বাবদ আট লাখ ১১ হাজার ১৭৭ টাকাসহ সরকারের মোট আর্থিক ক্ষতি ৪১ লাখ ৯১ হাজার ৭৪ টাকা। অননুমোদিতভাবে দুই জন শিক্ষক শিক্ষাছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান না করা সত্ত্বেও বেতন ভাতাদি দেওয়ায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি ৩২ লাখ ৬৭ হাজার ৬৭০ টাকা। দুটি বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন সরবরাহকারী নিকট হতে বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে আয়কর কর্তন না করায় আয়কর বাবদ এক লাখ ৭০ হাজার ৮৪৩ টাকা এবং দণ্ডসুদসহ ৪১ হাজার তিন টাকাসহ সরকারের মোট আর্থিক ক্ষতি  হয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ৮৪৬ টাকা। এই ১৩ দফায় মোট ৪৭ কোটি ১৬ লাখ তিন হাজার ৫৫৫টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে সরকারের।               এনএমএস।





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com