ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  শনিবার ● ৩১ অক্টোবর ২০২০ ● ১৬ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার  শনিবার ● ৩১ অক্টোবর ২০২০
শিরোনাম: হত্যার পর পোড়ানোর ঘটনায় কারও ইন্দন আছে : ডিআইজি       তাবিথকে হারিয়ে বাফুফের সহ-সভাপতি মহী       বিশ্বে করোনায় একদিনে রেকর্ড পরিমাণ মানুষের মৃত্যু       লালমনিরহাটের ঘটনা তদন্তে মানবাধিকার কমিশনের কমিটি       আলুর বাজারে অভিযানে র‍্যাব       যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে লাখ ছাড়াল করোনা-শনাক্ত       মক্কায় মসজিদুল হারামের ফাহাদ গেটে গাড়ি দুর্ঘটনা      
প্রিন্ট সংস্করণ
মন্টুসহ আটজনকে বহিষ্কার করলেন কামালরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : Sunday, 18 October, 2020 at 2:21 AM


দুই অংশের বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে গণফোরামে অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট হয়ে উঠেছে। এবার মোস্তফা মোহসীন মন্টু ও অধ্যাপক আবু সাইয়িদসহ আটজনকে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করেছে গণফোরামের দুই পক্ষ। মন্টু-আবু সাইয়িদ গ্রুপ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে। আর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন অংশ গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে কেন্দ্রীয় কমিটির সভা করে। এই সভা থেকেই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আটজনকে বহিষ্কার করেছে ড. কামাল হোসেনরা। বহিষ্কৃত বাকিরা হলেন- অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিক, হেলালউদ্দিন, লতিফুল বারী হামিম, খান সিদ্দিকুর রহমান ও আব্দুল হাসিব চৌধুরী। এদের মধ্যে শেষের চারজনকে আগে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। এখন চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হলো। গণফোরামের সদস্য মোশতাক আহমদ সভার সিদ্ধান্ত পড়ে শোনান।
এতে বলা হয়, বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বাস্তবতায় সংগঠনকে শক্তিশালী, গতিশীল  ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে আগামী ১২ ডিসেম্বর শনিবার ঢাকায় কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

‘দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও গঠনতন্ত্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগের বিষয়ে পাঠানো শোকজ নোটিসের জবাব না দেওয়ায়’ মন্টু, সাইয়িদ, সুব্রত ও জগলুলকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সভায় উপস্থিত সদস্যরা হাততালি দিয়ে সমর্থন জানালেও মহানগর গণফোরামের হারুন তালুকদার দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমি এসব সিদ্ধান্ত সমর্থন করি না।’ পরে সভার সভাপতি  মোক্তাদির খান এমপি বলেন, ‘একজন সমর্থন করেননি। বাকিরা হাততালি দিয়ে এসব সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। এসব সিদ্ধান্ত পাস হল।’ তিনি আরো সভায় যেসব বক্তব্য এসেছে তাতে যে স্পিরিট উঠে এসেছে সেটা হলো- যারা দলীয় শৃঙ্খলা মানেন না, যারা দলীয় সিদ্ধান্ত মানেন না, যারা দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কথা শুনেন না, এই অবস্থায় একটি সংগঠন চলতে পারে না। প্রতিটি দলেই একটা ডিসিপ্লিন থাকে, তার একটা গঠনতন্ত্র থাকে, সকলকে সেই গঠনতন্ত্র মেনে চলতে হয়। আজ যেভাবে গণফোরামকে নিয়ে কতিপয় ব্যক্তি জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছেন, গণফোরামকে নিয়ে একটা খেলায় মেতে উঠেছে। সেটা মেনে নেওয়া যায় না।’
মোক্তাদির খান বলেন, ‘গণফোরাম কোনো এজেন্সির পারপাজ সার্ভ করার জন্য গঠিত হয়নি। গত ২৬ বছর দলের ভেতরে একটি গোষ্ঠী এই কাজটি করে আসছিল।’ সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, এক দলকে ছেড়ে আরেক দল করা বা অন্য দলে চলে যাওয়া এটা অনেক হয়েছে গণফোরামে। কিন্তু দলকে ছেড়ে দলের ক্ষতি করার চেষ্টা করাটা এটা একটু অন্যরকম ব্যাপার। যারা এটা করছে ভাগ্য ভালো যে আমরা তাদের চিনতে পেরেছি। চিনতে পারার সুযোগটা তারাই আমাদের দিয়েছে। তারা যে কী প্রকৃতির মানুষ, আমরা সবাই এখন আন্দাজ করতে পারছি, এটা প্রকাশ্যে চলে এসেছে।’
রেজা বলেন, ‘ওদেরকে নিয়ে আর আমরা কিছু আমি বলতে চাই না। দলের সভাপতির সঙ্গে ওদের চিন্তা ধারার মিল ছিল না। যখন ওরা ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে কটূক্তি করেছে আমি মনে করি তাদের এই দলে স্থান থাকতে পারে না। ড. কামাল শুধু দলের শ্রদ্ধেয় মানুষ নয়, উনি দেশের বিবেক হিসেবে কাজ করছেন।’
দলকে নতুনভাব সকলের সাথে আলোচনা করে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক।
এর আগে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা জেলায় জেলায় দলকে সংগঠিত করুন, দলে তরুণ ও নারীদের সংখ্যা বাড়ান। দলের পক্ষ থেকে সারা দেশে সভা-সমাবেশ করুন এবং গণফোরামের নীতি-আদর্শ মানুষের কাছে তুলে ধরুন।’
কামাল বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে হবে। গণতন্ত্র শুধু বইয়ের পাতায় থাকলে চলবে না, মানুষকে অধিকার ভোগ করে দেওয়ার সুযোগ আমাদের তৈরি করে দিতে হবে।’ গণফোরাম মুক্তিযুদ্ধের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সংগঠন শক্তিশালী হলে দেশে সত্যিকার অর্থে আমরা গণতন্ত্রকে আরো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গড়তে পারব, আমাদের যে স্বাধীনতার লক্ষ্য সেটাকে আমরা বাস্তবে রূপান্তরিত করতে পারব।’ দলের সদস্য বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে গণফোরামের সভাপতি বলেন, ‘এই সদস্য শুধু নামকাওয়াস্তে চাঁদা নেওয়ার জন্য নয়। যাদের সদস্য করা হবে, তাদের সত্যিকার অর্থে পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে। আমরা দেখেছি, জেলায় জেলায় নেতারা বলেছেন, অনেক মানুষ আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসছেন গণফোরামের সদস্য হওয়ার জন্য। এটা খুব ভালো লক্ষণ।’
কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে মিলিত হওয়ায় সদস্যদের ধন্যবাদ জানান কামাল। গত ১২ মার্চ কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর এটিই কমিটির প্রথম সভা। এই সভায় আহ্বায়ক কমিটির ৭০ সদস্যসহ ১৩০ জনপ্রতিনিধি অংশ নেন। আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোকাব্বির খান এমপির সভাপতিত্বে এই সভায় সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, আ ও ম শফিক উল্লাহ, মহসিন রশিদ, সুরাইয়া বেগম, জানে আলম ও মোশতাক আহমেদ মূল মঞ্চে ছিলেন।
অন্যদিকে ড. কামাল হোসেনের অংশ যখন জাতীয় প্রেস ক্লাবের হলরুমে নির্বাহী কমিটির সভা করছিল, তখন প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছিল মন্টু-সাইয়িদরা। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গণফোরাম একাংশের আহ্বায়ক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, ‘আজকে সারা দেশে ধর্ষণের মহোৎসব চলছে। এর প্রতিবাদ জানাতে আজকে আমরা এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছি। আজকে হেরোইনে আসক্ত হয়ে ক্ষমতাসীন যুবকরা যাকে তাকে ধর্ষণ করে যাচ্ছে। দেশে দুর্নীতির হরিলুট চলছে। ধর্ষণ ও হরিলুট যদি শিখতে চাও, দুর্নীতি শিখতে চাও তাহলে বাংলাদেশে আসো।’

এসবের প্রতিবাদে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে কয়েকজনের নির্বাচন দেখেছি, ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশের মানুষ একত্রিত হয়ে নির্বাচন করেছে, ৯০ সালে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। কিন্তু আজকে বাংলাদেশে নির্বাচনের নামে হরিলুট চলছে, ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা এর থেকে পরিত্রাণ চাই, দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে ধর্ষণ-দুর্নীতি-হরিলুটের প্রতিবাদে গণফোরামের নেতৃত্বে সারা দেশে আন্দোলন গড়ে তুলব।’
গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, ‘বিশ্বের কিছু কিছু দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৪০টি দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নেই, কারণ ধর্ষণ একটি স্পর্শকাতর বিষয়। আসলে মানুষের মনের খোরাক তোষামোদি করার জন্য ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। কারণ যারা ধর্ষক তারা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায়।’
সিনিয়র সহ-সভাপতি ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব সুব্রত চৌধুরী মানববন্ধনে বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজকে আমরা মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি। সরকার ১২ বছর যাবৎ অবৈধভাবে দেশ পরিচালনা করছে। সরকারি দল নষ্ট রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে গেছে অপরাজনীতির ধারক-বাহক হয়েছে, ধর্ষণ রাহাজানির ধারক-বাহক হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র নেই। চালের, আলুর সিন্ডিকেট, দুর্নীতির সিন্ডিকেট, সব জায়গায় শুধু সিন্ডিকেট। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে।’ মানববন্ধনের পর একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এনএমএস।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com