ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২০ ● ১৩ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার   বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২০
শিরোনাম: ওসি প্রদীপের দেহরক্ষী রুবেল শর্মা ফের রিমান্ডে       প্রতারণা মামলায় আটক দেবাশীষের দেড়ঘণ্টা পর জামিন       যে কোনো হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকুন: প্রধানমন্ত্রী       শিগগিরই ভারতে পর্যটন ভিসা চালু: হাইকমিশনার        ঢাকায় আসছেন এরদোগান        লিভারপুল-ম্যানসিটির সহজ জয়       এবার মুসল্লিদের হত্যার হুমকি দিয়ে ফরাসি মসজিদে চিঠি      
প্রিন্ট সংস্করণ
ডিজিটাল প্রতারণার ফাঁদে শত শত মানুষ সর্বস্বান্ত
সাইফুল ইসলাম
Published : Sunday, 18 October, 2020 at 2:14 AM


দেশব্যাপী সাধারণ মানুষ ডিজিটাল প্রতারণার ভয়ঙ্কর ফাঁদে পড়ছেন। ইন্টারনেট, ইউটিউব, সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই চক্র বেড়েই চলছে। প্রতারকদের নিত্যনতুন কৌশলে সাধারণ মানুষ ধরাশায়ী হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার চাকরিজীবীরা এই প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সময়ের সঙ্গে বাড়ছে প্রতারণার ধরন। বাড়ছে প্রতারকের সংখ্যা। প্রতিদিন রাজধানীতে ছোট-বড় প্রতারণা শিকার হচ্ছে শত শত মানুষ। আর প্রতি বছর সারা দেশে ছোট-বড় প্রতারণার শিকার হচ্ছে কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষ। এই ভয়ংকর প্রতারণার ফাঁদে পড়ে শত শত কোটি টাকা খুইয়েছেন তারা। অনেকে জীবনের সব সঞ্চয় খুইয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। কিছু ভুক্তোভোগী পুলিশের কাছে গেলেও অধিকাংশই লোকলজ্জার ভয়ে ও ঝমেলার ভয়ে পুলিশ কাছে যায় না। এতে বহু প্রতারণার ঘটনা আড়াল হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থা নানা পর্যায়ের নজরদারির কারণে চলতি বছরের ৯ মাসে ভয়ংকর প্রতারক সাহেদ, ডা. সাবরিনা ও আরিফ দম্পত্তিসহ ছোট-বড় প্রায় পাঁচ হাজার প্রতারককে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে শতাধিক বিদেশি নাগরিক রয়েছে। বিদেশিদের মধ্যে নাইজেরিয়ান নাগরিক বেশি। তাদের নিত্যনতুন প্রতারণার ফাঁদে পড়ে লাখ লাখ টাকা খুইয়েছেন অনেক নারী ও পুরুষ। এসব ভয়ংকর প্রতারকের পিলে চমকানো কৌশল জেনে অবাক হচ্ছেন পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা। তারপরও থেমে নেই প্রতারকচক্রের কারসাজি।
করোনা মহামারির সুযোগ নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ওরা নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে। এতে এই প্রতারকদের কখনো ক্ষমতাসীন দলের নেতা সাজতে দেখা যায়। কখনো তাদের পরিচয় উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, এমনকি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয়েও নানাভাবে প্রতারণা করে থাকে। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা ছবি বা ফটোশপের মাধ্যমে ছবি বসিয়েও প্রতারণা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের সম্পর্কে প্রচার করেও কেউ কেউ প্রতারণার ফাঁদ পাতে। এদের অনেকে আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে এসে আবার প্রতারণা করছে। সম্প্রতি এক বাবা ও ছেলে মিলে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, পুলিশ প্রধানসহ বিশিষ্টজনের নাম ভাঙিয়ে অনেক মানুষকে বিপাকে ফেলেছেন। দুটি ব্যাংকে তাদের হিসাবে প্রায় শতকোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। যার কোনো বৈধ উৎস পুলিশ খুঁজে পায়নি। ছেলের বিরুদ্ধে ধানমণ্ডি ও পল্টন থানায় প্রতারণা, মতিঝিল থানায় অস্ত্র ও মাদক এবং উত্তরা থানায় অপহরণসহ হত্যা মামলা রয়েছে। এত অভিযোগের পরও এই বাবা-ছেলে জামিনে মুক্ত পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পুরনো কায়দায় আবারও প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তাদের কবলে পড়ে রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশ সুপারও খুইয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা। গত বছর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকার দুই ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পরিবারও তাদের খপ্পরে পড়ে লাখ লাখ টাকা খুইয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে ফুল বিক্রেতা শিশু জিনিয়াকে অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত এক নারীর বিরুদ্ধেও প্রতারণা বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের গোয়েন্দারা সিনিয়র সাংবাদিক পরিচয়ে তার তদবির ও বহুরূপী প্রতারণার তথ্য পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর গলাচিপায় তিনটি হত্যা, অপহরণ ও মানবপাচারের মামলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ের কর্মী হিসেবে তিন মাস পিয়নের কাজ করেছিলেন এমন এক প্রতারক নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সচিব, কখনো উপসচিব, কখনো কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক, পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ গ্রেপ্তার হয়েছে। প্রতারকদের কৌশলের অন্ত নেই। দেশি-বিদেশি ব্যাংক থেকে ঋণ পাইয়ে দেওয়া, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিসহ বিভিন্ন টোপ ফেলে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয় এসব ভয়ংকর প্রতারক। রাজনৈতিক দলের লোক পরিচয়ে ওরা অবৈধ প্রভাব খাটায়। আবার ক্ষমতাসীন জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও অনেকের নৈকট্য রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, অপরাধের সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের বাঁচাতে কোনো সংসদ সদস্যই যেন চেষ্টা না করেন, সে নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। জনপ্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে চললে প্রতারকদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে যাবে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর তৎপরতা আরো বাড়াতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।
সিআইডি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৯ মাসে আড়াই হাজার প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। প্রতারণার অভিযোগে ১৮০০ মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০০ মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শেখ রেজাউল হায়দার আজকালের খবরকে বলেন, প্রতারণার অভিযোগ ৪১ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের বেশিরভাগে নাইজেরিয়ান নাগরিক। গ্রেপ্তারকৃতরা নাইজেরিয়া নাগরিকরা দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তাদের কারও ভিসার মেয়াদ নেই। বাংলাদেশে অবস্থান করে ডলার বা গিফট দেওয়ার নাম করে মানুষকে বোকা বানিয়ে তারা প্রতারণা করে আসছিলেন।
এদিকে র‌্যাব সদর দপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৯ মাসে ১৭৬টি অভিযানে ভয়ংকর প্রতারক সাহেদসহ ৪০৭ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। প্রতারণা অভিযোগে ১৭৮ মামলা হয়েছে। এদের মধ্যে শতাধিক মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

র‌্যাবের পুলিশ সুপার সুজয় সরকার আজকালের খবরকে বলেন, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে ১৫টি অভিযানে ৭৯ জন প্রতারক, ফেব্রুয়ারিতে ১৪টি অভিযানে ২২ জন প্রতারক, মার্চে ১২ অভিযানে ২৫ জন প্রতারক, এপ্রিলে ৯টি অভিযানে ১৬ প্রতারক, মে মাসে ১০টি অভিযানে ১৪ জন প্রতারক, জুন মাসে ৩৭টি অভিযানে ৮০ প্রতারক, জুলাই মাসে ৩০টি অভিযানে ৫৮ জন প্রতারক, আগস্ট মাসে ২৫টি অভিযানে ৪৫ জন প্রতারক, সেপ্টেম্বর মাসে ২৪টি অভিযানে ৬৮ জন প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলে ১৭৮টি প্রতারনা মামলা হয়েছে। এদের মধ্যে বিদেশী নাগরিক প্রায় ৩০ জন। এদিকে ডিএমপি মিডিয়ার সূত্র জানায়, চলতি বছর ৯ মাসে প্রায় তিন হাজার প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে। এতে প্রায় এক হাজার মামলা হয়েছে।
প্রতারকের ধরন: রাজধানীর মগবাজার মধুবাগের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শাহীনা আক্তারের আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা দেখছিলেন পরিবারের সদস্যরা। একটি অজ্ঞাত ফোন এলেই ব্যস্ত হয়ে উঠতেন তিনি। ফোনের হদিস করতে গিয়ে পরিবারের লোকেরা জানতে পারেন, অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিটি একজন প্রতারক। তিনি মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে শাহীনার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করেছেন। শাহীনা বুঝতে পারেন, প্রতারকের খপ্পরে পড়ে জীবনের সব সঞ্চয় তিনি খুইয়ে ফেললেন। শুধু শাহীনা নন, প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও মানুষ এভাবে প্রতারকের খপ্পরে পড়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছেন। গভীর রাতে জিনের বাদশাহ পরিচয়ে ফোন দিয়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠা মানুষকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ে সক্রিয় রয়েছে দুই শতাধিক চক্র। পরিবার ও পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার জানান, ২০১৭ সালে তিনি অবসরে যান। তিনি গত বছরের জুনে বেসরকারি একটি টিভির বিজ্ঞাপনে যেকোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান ও মনের বাসনা পূর্ণ করার কথা বলে এতে একটি মুঠোফোন নম্বর দেওয়া হয়। তিনি ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে দুই হাজার ১০০ টাকা মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে পাঠিয়ে নিবন্ধন করতে বলা হয়। টাকা পেয়ে এক ব্যক্তি ফোন করে জানান, নিবন্ধন হয়ে গেছে। এরপর সেই ব্যক্তি নিজেকে ‘হুজুর’ পরিচয় দিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন। ওই হুজুর পরিচয় ব্যক্তি বলেন, আপনি ভাগ্যবতী, তবে ছেলেমেয়েদের ফাঁড়া বা বিপদ আছে। তা কাটাতে হলে জিনের মাধ্যমে চালান দিতে হবে। এতে টাকা লাগবে। টাকা না দিলে পরিবারের সবাই মারা যাবেন। শাহীনা আক্তার জানান, সেই হুজুর তাকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন নম্বর দেন। এরপর তিনি ব্যাংকে জমানো পেনশনের টাকা এবং সোনা বন্ধক রেখে টাকা নেন। চার মাসে তিনি ২৫ লাখ টাকা বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে পাঠান। অনেক পরে তিনি বুঝতে পারেন প্রতারকের খপ্পরে পড়েছেন। শাহীনার ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল কাদের আজকালের খবরকে বলেন, বহু কষ্টে জমানো টাকা খুইয়ে মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। সিআইডি সূত্র জানায়, শাহীনার ছেলে আবদুল কাদের বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে হাতিরঝিল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, টিভিতে ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রচারের ব্যবস্থা করে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন ফরিদউদ্দিন নামের এক সাংবাদিক। প্রতারকের খপ্পরে পড়ে সব খুইয়েছেন পল্লবীর আরেক নারী (৫০)। তিনি পেশায় স্কুলশিক্ষিকা। ওই শিক্ষিকা জানান, তিন বছর আগে একদিন রাতে আমার মোবাইলে ফোন আসে। অপর প্রান্ত থেকে ওই ব্যক্তি নিজেকে জিনের বাদশাহ পরিচয় দিয়ে আমাকে গুপ্তধন পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখান। ওই হুজুর বলেন, টাকা না দেওয়া হলে আমাকে ও আমার একমাত্র ছেলের বড় ধরনের ক্ষতি করবেন। তার এমন আচরণে আমি ভয় পেয়ে যাই। শিক্ষিকা জানান, সারা জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ ও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ধারদেনা করে কথিত জিনের বাদশাহর দেওয়া ১৫টি বিকাশ নম্বরে ১০ লাখ টাকা পাঠান। পরে সেই জিনের বাদশাহর কথামতো নতুন সিম কার্ড কেনেন। মাসখানেক পরে রহিম, বাদশা, হাবিবুর রহমান, মান্নাত, মিন্টু আসাদ, রশিদ ও জুয়েল নিজেদের জিনের বাদশাহর প্রধান বলে পরিচয় দিয়ে টাকা চেয়ে আগের মতো ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন। শিক্ষিকা জানান, ঘটনার পর থেকে আমি অসুস্থ। স্বজনদের কাছ থেকে জমি কেনার কথা বলে টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। এখন তারা প্রতারকের খপ্পরে পড়েছি জানলে টাকার জন্য আমাকে মেরেই ফেলবে। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সিআইডি কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় জিনের বাদশাহ পরিচয় দেওয়া জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধ দলের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মিনহাজুল ইসলাম জানান, লোভ ও ভয় থেকে দূরে থাকলে এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের হট লাইনে যাচাই করে নিলে মানুষ এসব প্রতারকের কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, দেশের বিভিন্ন থানায় প্রতারণার ঘটনায় হওয়া মামলার এমন অর্ধশতাধিক ঘটনার তদন্তভার পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত তিন বছরে তারা এসব ঘটনায় জড়িত অন্তত ৫০ প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের ২০ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে একজন ব্যক্তির আপত্তিকর ছবি পোস্ট করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা, অশ্লীল লিংক ছড়িয়ে ব্যবহারকারীকে বিব্রত করা, কারও ফেসবুক বা ই-মেইল আইডি হ্যাক করে অর্থ দাবি করা, মোবাইলে লটারি জেতার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ আদায়সহ প্রতারক চক্র বিভিন্নভাবে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এভাবে ফাঁদে ফেলে তারা সাধারন মানুষ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ওদের প্রতারণা কৌশল সাধারণ মানুষ অনেক সময় বুঝে উঠতে পারে না। এ ছাড়া ওয়েবসাইট, নিউজ পোর্টাল তৈরি, আউটসোর্সিং, ইউটিউবে এ্যাকাউন্ট করে আয়ের প্রলোভন ও ফেসবুক লাইক বিক্রির নামেও টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বৈধভাবে আয়ের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চটকধারী বিজ্ঞাপন দিয়ে বেকার-তরুণদের কাছ থেকে ওরা কৌশলে টাকা আদায় করছে। এভাবে প্রতিদিন অসংখ্য ব্যক্তি প্রতারিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেকে লজ্জিত হয়ে বিষয়টি চাপা দেওয়ায় প্রতিকারও পাচ্ছে না।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ইন্টারনেটের বৈধ ব্যবহারকে যারা প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যথাযথ অভিযোগ পাওয়া গেলে এদের বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্টে মামলা করার সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের কয়েকটি চক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগীকারী সংস্থা ব্যবস্থা নিয়েছে। অনেকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে খোঁজা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর পল্টন, মতিঝিল, ফকিরাপুল, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, পান্থপথ, কলাবাগান, ধানমন্ডি, কারওয়ান বাজার, আর কে মিশন রোড, মালিবাগ, মহাখালী, উত্তরা এলাকায় গড়ে উঠেছে কয়েকশ ডিজিটাল প্রতারক চক্র। এদের নেই নির্দিষ্ট ঠিকানা, অফিস থাকলেও কয়েক দিন পর পরই পরিবর্তন করে থাকে। শুধু ল্যাপটপ ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমেই চলে এদের কাজ। সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়ে বিভিন্ন খাত থেকে টাকা লুটেরও ভুল পথ খুঁজে দিচ্ছে এরা। আর এসব ফাঁদে পা দিয়ে প্রশাসনের কয়েকটি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা সমস্যায় রয়েছেন। এনএমএস।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com