ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২০ ● ১৩ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার   বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২০
শিরোনাম: ওসি প্রদীপের দেহরক্ষী রুবেল শর্মা ফের রিমান্ডে       প্রতারণা মামলায় আটক দেবাশীষের দেড়ঘণ্টা পর জামিন       যে কোনো হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকুন: প্রধানমন্ত্রী       শিগগিরই ভারতে পর্যটন ভিসা চালু: হাইকমিশনার        ঢাকায় আসছেন এরদোগান        লিভারপুল-ম্যানসিটির সহজ জয়       এবার মুসল্লিদের হত্যার হুমকি দিয়ে ফরাসি মসজিদে চিঠি      
প্রিন্ট সংস্করণ
উন্নয়নে গতি
রবিউল ইসলাম
Published : Sunday, 18 October, 2020 at 1:19 AM



বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ‘নিম্ন অগ্রাধিকার’ ৪৬৯টি উন্নয়ন প্রকল্পে টাকা ছাড়ের স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছে সরকার। সাত মাস পর এসব প্রকল্পে আবারো টাকা ছাড় শুরু হচ্ছে চলতি সপ্তাহেই। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় দুই-একদিনের মধ্যেই পরিপত্র জারি করবে। চলতি অর্থবছরে এসব প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা।
এর ফলে গ্রামীণ পর্যায়সহ বিভিন্ন ছোট-মাঝারি উন্নয়ন কাজ যেসব মাঝামাঝি পর্যায়ে থেমে আছে, ঠিকাদাররা বিল পাচ্ছেন না, সেসব কাজে গতি ফিরবে এবং ঠিকাদারদের মুখে ফুটবে হাসি। এই সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ঠিকাদাররা।
করোনা ভাইরাসের কারণে সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির আলোকে গত এপ্রিল মাসে এসব প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির তিন ভাগের এক ভাগ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। আয় কমে যাওয়া এবং এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে গত এপ্রিল মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির শুধু অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর টাকা ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
করোনার প্রকোপ কমে যাওয়া এবং সরকারের আয় বৃদ্ধির কারণে এখন সব উন্নয়ন প্রকেল্প টাকা ছাড়ারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়গুলোকে মোট বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ২৫ শতাংশ টাকা সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়গুলো সিদ্ধান্ত নেবে কোন কোন প্রকল্পের কত টাকা সংরক্ষণ করবে। সরকারে এই সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন উন্নয়ন কাজের ঠিকাদাররা। কারণ আট মাস ধরে এসব ঠিকাদার চরম আর্থিক সঙ্কটে সময় পার করছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ একাধিক কর্মকর্তা আজকালের খবরকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গত এপ্রিল মাস থেকে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় কমানো হয়। শুধু অগ্রাধিকার প্রকল্পে টাকা ছাড়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী সব প্রকল্পের টাকা ছাড় করার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে এখন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ২৫ শতাংশ টাকা সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। কারণ এই শীতে করোনার প্রকোপ বাড়লে করোনা মোকাবেলায় সরকারের ব্যয় বাড়তে পারে এবং আয় আরো কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়গুলোকে ইতোমধ্যেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলো ২৫ শতাংশ টাকা সংরক্ষণ করে প্রকল্পের টাকা ছাড়ের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই পরিপত্র জারি হবে। এরপর থেকে নিম্ন অগ্রাধিকার প্রকল্পের টাকা ছাড় শুরু হবে।
চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল সপ্তম জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ কমিয়ে করোনা মোকাবেলায় ব্যয় করার কথা জানান। এ অনুশাসনের পর ২২ এপ্রিল শুধু অগ্রাধিকার প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরুতেই গত জুলাই মাসে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে তিন ভাগ করা হয়। সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বা অগ্রাধিকার প্রকল্প, মধ্যম অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প এবং কম অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার দুই লাখ পাঁচ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। এডিপিতে মোট দেড় হাজার প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প, যার সংখ্যা ৫৬২। ৩০ শতাংশ মধ্যম অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প, এর সংখ্যা ৪৬৯। বাকি ৩০ শতাংশ বা ৪৬৯টি প্রকল্প কম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এই কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অর্থ ছাড় স্থগিত করে অর্থ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি সরকারি যানবাহন কেনা বন্ধ, অপ্রয়োজনীয় বিদেশভ্রমণ, আপ্যায়নভাতাসহ বিভিন্ন খাতে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো হয়। তবে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ মন্ত্রণালয় হিসাব করে দেখেছে, এতে সরকারের সাশ্রয় হবে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা। এখন ২৫ শতাংশ টাকা সংরক্ষণ করায় সরকারের সাশ্রয় এখনো ৫২ হাজার কোটি টাকাই থাকছে। তবে সব প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাবে।
গত ১১ অক্টোবর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো টাকা ছাড়ের তালিকা থেকে জানা যায়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের চলতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ১০৬টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। তার মধ্যে ১১৭৯ কোটি টাকা সংরক্ষণ করে চার হাজার ১৪৬ কোটি টাকা ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। তালিকায় দেখা যায়, প্রকল্প ভেদে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ টাকা পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়েছে। নিম্ন অগ্রাধিকার অধিকাংশ প্রকল্পে শতভাগ টাকা ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পারুল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনসালটেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পার্থ সারথি সেন আজকালের খবরকে বলেন, নিম্ন অগ্রাধিকার প্রকল্পের টাকা গত এপ্রিল মাসে সরকার হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেয়। এতে আমাদের চরম বিপাকে পড়তে হয়। বেশকিছু কাজ শেষ হয়েছে এবং সব কাজই চলমান ছিল। প্রকল্পে যতটুকু কাজ হয়, তার পরিমাণ নির্ধারণ করে বছরে চার কিস্তিতে টাকা ছাড় করে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের শেষ কিস্তির টাকার জন্য আমরা কাজ সম্পন্ন করি; কিন্তু আমরা পাইনি। টাকা না পাওয়ায় ব্যাংকে যেমন বেশি সুদ দিতে হচ্ছে, তেমনি শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছিলাম না। বাধ্য হয়েই কাজ বন্ধ করে দিতে হয়। নিম্ন অগ্রাধিকার ৪৬৯টি প্রকল্পের ঠিকাদরারা দেনায় জর্জিরত। তাদের চরম সঙ্কটের মধ্যে দিন যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে আমরা স্বস্তি পেয়েছি। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। এনএমএস।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com