ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  সোমবার ● ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ● ১৩ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার  সোমবার ● ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
শিরোনাম: এমসি কলেজে গণধর্ষণ: আরও ২ আসামি গ্রেফতার       আইনজ্ঞ মাহবুবে আলমের শূন্যতা পূরণ হবার নয়: মেয়র তাপস       সহযোগিতার সব ক্ষেত্র বাংলাদেশ-ভারত কাজে লাগাবে: রাষ্ট্রপতির       মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ       অস্ত্র মামলায় পাপিয়া ও তার স্বামী বিরুদ্ধে রায় ১২ অক্টোবর       নড়াইলে একজনকে কুপিয়ে হত্যা       ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার হওয়া ২২ জনের ৮ জন বাংলাদেশি      
তিন বছর ধরে দেনা পরিশোধে ভারতীয় কোম্পানির টালবাহানা
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
Published : Saturday, 29 August, 2020 at 8:55 PM

ভারতের ভেংকিস ফিডস এইচভি গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফুডস অ্যান্ড ফিডস বাংলাদেশ লিমিটেডের কাছে দেশবন্ধু পলিমারসহ ৭০টি কাঁচামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৬ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে এই বকেয়া টাকা পরিশোধ না করে টালবাহানা করছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটি। 

সর্বশেষ গত ১৫ মার্চ বকেয়া পরিশোধের দিন ধার্য করে দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন। রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরা ফুডস অ্যান্ড ফিডস বাংলাদেশের সিইও চিরঞ্জীব সিং আনন্দ ও সহকারী ব্যবস্থাপক (ক্রয়) মি. জহিরুল ইসলাম দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ১৭ লাখ টাকা বয়েকা পরিশোধে ১৫ মার্চ ২০২০ দিন ধার্য করেন। তবে সে তারিখও তারা রক্ষা করেননি। বরং অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি তাদের যশোরে থাকা দুটি কারখানার একটি ভাড়া এবং অপরটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। উপরন্তু বকেয়া টাকা পরিশোধ না করেই বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে উত্তরা ফুডস অ্যান্ড ফিডস।

জানা গেছে, শুধু দেশবন্ধু পলিমার নয়, পাওনাদার বাকি সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৫ মার্চ বকেয়া পরিশোধে একই রকম পৃথক পৃথক চুক্তি করে। তবে দেশবন্ধু পলিমারের মতো তাদের কোনো প্রতিষ্ঠানকে একটি টাকাও পরিশোধ করেনি। এতে ভারতীয় ভিএইচ গ্রুপের উত্তরা ফুডস অ্যান্ড ফিডসের ‘প্রতারণায়’ দেশের প্রায় ৭০টি কাঁচামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানই ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। কিছু ছোট প্রতিষ্ঠানের পথে বসার উপক্রম। 

দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রহমান বলেন, যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় ভিএইচ গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যারা পোল্ট্রি ও ফিশ ফিড উৎপাদন করে বাজারজাত করে। তাদের এই কাজে বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ সরবরাহ করে তাদের সাহায্য করেছে দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেড। বিনিময়ে তারা আমাদের কোম্পানির পাওনা টাকা দিতে দীর্ঘদিন ধরে গড়িমসি করে। তাদের কাছে দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেডের পাওনা প্রায় ১৭ লাখ টাকা। এখন এই টাকা না পেয়ে ব্যাংকের সুদ টানতে হচ্ছে। ওই টাকা আদায়ের জন্য নানা দেন-দরবার করেও কোনো সুফল মেলেনি। অথচ ভিএইচ গ্রুপ বিশ্বের প্রায় ৪৪টি দেশে এই ফিডের ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করছে।

এদিকে বকেয়া টাকা আদায়ের দাবিতে গত বুধবার যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে পাওনাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- এগ্রো কনসার্ন, তুর করপোরেশন, সততা ট্রেডার্স, যুথি ট্রেডার্স, বিএস এগ্রো ট্রেডিং, পিকে এন্টারপ্রাইজ, কাজী এগ্রো লিমিটেড, ইনোভেট বিডি, বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স, এপিএল, নিউট্রিভেট লিমিটেড, জেএনএস টেকনোলজি, নিউ পাবনা ট্রেডিং, দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেড, ইয়াকিন পলিমার লিমিটেড, মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজ, সেঞ্চুরি এগ্রো লিমিটেড, ইয়ন গ্রুপ, ভৈরব এন্টারপ্রাইজ, সানশাইন এগ্রো, মেসার্স মা খোদেজা ট্রেডার্স, মাহিন এগ্রো, এম্পেল এগ্রো, টোটাল কার্গো ম্যানেজমেন্ট ও সিগমা বাংলাদেশ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমানে আমাদের দেশে পোল্ট্রি শিল্প একটি ঈর্ষণীয় পর্যায়ে এসেছে। গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে দেশের এই সফল শিল্পে বিদেশি কোম্পানি এদেশে ব্যবসা করতে এসে সাধারণ ব্যবসায়ীদের সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, পাওনা আদায়ে তাদের বহু দেন-দরবার করতে হয়েছে। বিষয়টি যশোরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার তুর করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী পল্লব সমীর ও কুদরত-ই-খোদা ব্রেজনেম বলেন, উত্তরা ফুডস অ্যান্ড ফিডস ২০১১ সালে এদেশে ব্যবসা শুরু করে। যশোরের মনিরামপুরে তাদের দুটি কারখানা আছে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে সারা দেশের ৭০টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৬ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। তাদের দুটি কারখানার মধ্যে একটি ভাড়া দিয়ে উপার্জিত অর্থে যাবতীয় খরচ ও ব্যাংকের পাওনা নিয়মিত পরিশোধ করছে; কিন্তু সরবরাহকারীদের বকেয়া পরিশোধ করছে না। পাওনা আদায়ে চাপ দিলে চলতি বছরের ১৫ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করবে বলে আশ্বস্ত করেন তারা। এ বিষয়ে পৃথক চুক্তিও হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করেনি।

সততা ট্রেডার্স ও যুথি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, উত্তরা ফুডস অ্যান্ড ফিডসের কাছে তার দুটি প্রতিষ্ঠানের পাওনা প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে তাগিদ দিয়ে পাওনা আদায় করতে পারছেন না তিনি। প্রতিষ্ঠানটি বকেয়া পরিশোধ না করেই ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, আমার মতো আরও অনেক সরবরাহকারী বিপাকে পড়েছেন। বকেয়া পাওনা না পাওয়ায় ব্যাংক ঋণ শোধ করতে পারছি না। আমার কাছে যারা টাকা পাবে তারাও চাপ দিচ্ছে। পাওনা পরিশোধে দুই দেশের সরকারপ্রধান, বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতের হাইকমিশনের হস্তক্ষেপ চান তিনি। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, এগ্রো কনসার্নের স্বত্বাধিকারী জাহিদুর রহমান, বিএস এগ্রো ট্রেডিংয়ের আশরাফুল আলম, পিকে এন্টারপ্রাইজের দিপা রানী নাথ, ইনোভেট বিডির কাজল দত্ত, বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের রেজাউল ইসলাম, সেঞ্চুরি এগ্রো লিমিটেডের শাহ আলম, ইয়ন গ্রুপের ফরিদুজ্জামান, সিগমা বাংলাদেশের রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ।

এদিকে টাকা বকেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন উত্তরা ফুডস অ্যান্ড ফিডসের অডিটর সন্দীপ তাভানি। তিনি বলেন, গত মার্চ মাসে তাদের সমুদয় পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল; কিন্তু করোনার কারণে সেটি দেরি হয়ে গেছে। মালিকপক্ষ অবশ্যই টাকা পরিশোধ করবে।

আজকালের খবর/এএইস



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com