ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  বৃহস্পতিবার ● ২২ অক্টোবর ২০২০ ● ৭ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার  বৃহস্পতিবার ● ২২ অক্টোবর ২০২০
শিরোনাম: লিটারে ২ টাকা কমছে সয়াবিন       নৌ-ধর্মঘট : আজকের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর       মায়ের লাশ নিজ হাতে ৫ টুকরো করে থানায় ছেলের মামলা       কায়সারের মৃত্যু পরোয়ানা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে       ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের অবস্থা অপরিবর্তিত       কবরস্থান থেকে ফিরে এসে আশা জাগিয়েও ফিরল না শিশুটি       বিশ্বে মৃত্যু ছাড়াল ১১ লাখ ৩০ হাজার      
ফরিদা পারভীন, এগিয়ে চলা এক নারীর কথা
আহমেদ তেপান্তর
Published : Saturday, 7 March, 2020 at 8:35 PM, Update: 07.03.2020 9:01:41 PM

ফরিদা পারভিন। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদা পারভিন। ছবি: সংগৃহীত

কন্যা-জায়া-জননী রূপে নারীরা সৃষ্টির প্রথম লগ্ন থেকে আমাদের সেবা করেছেন, আপন করেছেন। অথচ সেই নারীকে বারে বারেই বঞ্চিত করেছে সমাজ, রাষ্ট্র, এমনকি পরিবারও। নারী স্বাধীনতার টেউ এখনও পৌঁছোয় নি বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে। আর পৌঁছোলেও, তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থেকে গেছে শুধু কাগজে-কলমে। নারীকে নারী হিসেবে তো নয়ই, মানুষ হিসেবেও নিজের পায়ে দাঁড়াতে দিতে চায় নি পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজ। 

তবে তারপরেও, বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলির সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও নারীবাদি সংস্থা নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দলিল প্রকাশ করেছে।  ইউরোপ-আমেরিকার সঙ্গে হাত মিলিয়ে, ভারত-বাংলাদেশের মতো দেশও নারীর অধিকার বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় নারী অগ্রগতির জন্য প্রশংশিতও হয়েছে তারা।

বর্তমান সময়ের মেয়েরা পুরুষের পাশাপাশি সমতলে এগিয়ে যাচ্ছে। নারী এখন দুর্বল নয়, অবলা নয়। সবল নারীরা দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে সম্মুখে। সব বাঁধা, বিপত্তি, ক্লান্তি, দুঃখ, উষ্মাকে পেছনে ফেলে অন্ধকার রাতে ঝলমল করছে এক একটি নারী উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো। তারার মতো ঝলমলে এসব নারীরা সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি চাকরি ক্ষেত্রে গ্রহণ করেছেন চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ পুলিশ, সেনা বিমান, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, আনসার-ভিডিপি, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ক্রিকেট-ফুটবল সব ক্ষেত্রেই সমান বিচরণ নারীদের। বাংলাদেশ পুলিশের এরকম এক নক্ষত্রের নাম ফরিদা পারভীন। 

জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি থানায় ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৮ তারিখ জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। জন্মসূত্রে জামালপুরের মেয়ে হলেও বাবার চাকুরির সুবাদে বেড়ে উঠেছেন টাঙ্গাইল সদরে। বাবা মো. আব্দুর রাজ্জাক পল্লী বিদুৎ সমিতির প্রকৌশলী এবং মা নিলুফা ইয়াসমিন গৃহিণী। তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় তিন কন্যা সন্তান। সমাজের প্রচলিত রীতি না মেনে মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছেন। মানুষের মতো মানুষ করাই ছিল যাদের ব্রত। বাবার চাকরির সূত্র ধরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পড়াশোনা টাঙ্গাইলে। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ইডেন কলেজ কর্তৃপক্ষ তার ভালো ফলাফলের জন্য এ সময় তিনি মেধা পদকে পুরুষ্কৃত করেন। 

ফরিদা ছোটবেলা থেকেই বই পড়তে বিশেষ করে সাহিত্যের বই পড়তে ভালোবাসতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন পুরুষ শাসিত সমাজে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও পারে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে। তাই ৩১তম বিসিএসের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে নৌ পুলিশ ঢাকায়  কর্মরত। বড় বোন জনতা ব্যাংকে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার এবং ছোট বোন বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার হিসেবে কর্মরত। 

ফরিদা পুলিশের মত ব্যস্ত পেশায় থেকেও পরিবার এবং সমাজকে সময় দেন। দাফতরিক কাজের পাশাপাশি নৌ পুলিশের লিগ্যাল, মিডিয়া এবং ট্রেনিংয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি নৌ পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে অংশগ্রহণ করছেন। এ সম্পর্কে ডিপার্টমেন্টর সিনিয়র কর্তকর্তারাও বেশ উচ্ছ¡সিত। তাদের বক্তব্য- ফরিদা কোন কোন ক্ষেত্রে একজন পুরুষ অফিসারের চেয়েও বেশি কাজ করে থাকেন। বিশেষ কারে কাজের প্রতি তার ডেডিকেশন ডিপার্টমেন্টকে প্রশংসিত করছে। 

ডিপার্টমেন্ট খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদাকে খুব অল্প সময়ে নিজ কর্মে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। অথচ অন্য আর সবার মতো তিনিও যাপিত জীবনের সমস্যার বাইরে নন।  বিয়ের পৌঁনে চার বছরের মাথায় তার স্বামীকে হারান। সে সময় তার দেড় বছরের একটি কন্যা সন্তান ছিল।অন্যদিকে সাড়ে চার মাসের অনাগত সন্তানকে শরীরে ধারন করে ওই কঠিন সময়েও নিজেকে ধীরে ধীরে প্রমাণ করেছেন। বর্তমানে তার তিন বছরের কন্যা রাইম ও এক বছরের উপরে পুত্র সন্তান রোরিকে নিয়ে খুব সাহসিকতা ও ধৈর্য্যরে সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন। এর পাশাপাশি সাহিত্য-সংস্কৃতিতে রয়েছে তার সমান অংশগ্রহণ। প্রয়াত স্বামী শফিকুল ইসলামের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ এবার বই মেলায় প্রকাশ করেন কবিতার বই ‘ভালোবাসা কথা কয়’। বইটি পাঠক সমাজে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। তার প্রয়াত স্বামী ছিলেন ইউএনও। 

স্ত্রীর মতো স্বামীও ছিলেন সাহিত্য পিপাসু। মৃত্যুর আগে কৈশোর  জীবনের গোপন প্রেমের নাটক লিখেছিলেন। নাম ‘নৈঃশব্দের ভালোবাসা’। নাটকে অকাল প্রয়াত নাট্যকার ব্যক্তি জীবনে অনেক না বলা কথা রেখে গেছেন। গত বই মেলায় ফরিদা পারভিনের সম্পাদনায় নাটকটি বই আকারে প্রকাশ হয়। এমন কাজ গুছিয়ে করা একজন আদর্শবান স্ত্রীর পক্ষেই সম্ভব। স্বামী হারিয়ে মা হিসেবেও এগিয়ে চলছেন ফরিদা। স্বামীর অবর্তমানে এক কন্যা শিরিন শিমরাহ শাবাহাত রাইম ও পুত্র শাফক্বাত শুফাইক রোরিরকে মানুষের আদর্শে গড়ে তোলার কঠিন ব্রত নিয়ে এগিয়ে চলছেন। কাজের পর বাকি সময়টুকু তিনি বরাদ্দ রেখেছেন তার সন্তানদের জন্য। তার কথা একজন নারীর আগে আমি মানুষ। তাই আমি চাইব আমার সন্তানদের ‘মানুষ’ চরিত্রে গড়ে তুলতে।

ইউনিফর্মে মোড়ানো ফরিদা দেশের সেবায় নিজেকে সদা প্রস্তুত রাখেন। দেশের কল্যাণে মধ্য নদীতে স্পিড বোট নিয়ে ছুটে যান অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করতে। রাত জেগে নদীতে নদীতে পুরুষ অফিসারদের সঙ্গে তাল দিয়ে সমানভাবে অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও ফরিদা কবিতা আবৃত্তি করতে ও শুনতে বেশ পছন্দ করেন। ঘরে গড়ে তুলেছেন সেই আবহ। ট্রাভেল করার পাশাপাশি গরিব অসহায়দের পাশে বাড়িয়ে দেন সহযোগিতার হাত। যে হাতে সহকর্মীরাও আস্থা খুঁজে পান। স্বল্পভাষী ফরিদার বক্তব্য, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’- এমন আপ্তবাক্য অনুসরণ করলে নারী-পুরুষের ভেদাভেদ কমে আসবে। পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতাও কমে আসবে। এজন্য শ্রদ্ধাবোধ শব্দটির সঙ্গে পরিচিত হতে পরিবারকে ভূমিকা রাখতে হবে।  

আজকালের খবর/আতে


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com