রোকেয়া প্রাচী, অরুণা বিশ্বাস সেন্সরবোর্ডের সদস্য। অঞ্জনা জুরিবোর্ডের সদস্য। অপরদিকে এসডি রুবেল সরকারি অনুদানের সিনেমা বানিয়ে আলোচনায় ছিলেন। একইভাবে খোরশেদ আলম খসরু অনুদান নিয়ে সর্বশেষ ‘গলুই’ সিনেমা বানিয়েছিলেন। এতে পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন এস এ হক অলিক। অনুদানের সিনেমায় সুবিধাভোগী হয়েছেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও মোস্তাফিজুর রহমান মানিকও- এমন সুবিধাভোগী মুখ নিয়ে সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন- বিএফডিসিতে।
চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের জেরে গোটা দেশ এখন দু’ভাগে বিভক্ত। একদল আন্দোলনের পক্ষে তো আরেকদল সরকারের পক্ষে। গোটা দেশজুড়েই চলছে পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিবাদ। সকল ধরনের হত্যা এবং সহিংসতার বিপক্ষে ‘আমরা সর্বদাই শান্তির পক্ষে’-স্লোগানে গুটি কয়েক সুবিধাভোগী ব্যানার হাতে শনিবার (৩ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) মানববন্ধন করেছে ‘সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদ’। এসময় তারা নিহত সকলের আত্মার মাগফেরত কামনা করেন। সেই সঙ্গে কোমলমতি মেধাবী ছাত্রদের আন্দোলন ছিনতাই করে তৃতীয় পক্ষের সহিংসতার নিন্দা জানান। তবে এমন মানববন্ধনে অন্যান্য সংগঠনগুলোর নেতাদের দেখা যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের নেতৃত্ব নিয়ে।
এই মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের আহ্বায়ক খোরশেদ আলম খসরু, অভিনেত্রী অঞ্জনা রহমান, রোকেয়া প্রাচী, অরুণা বিশ্বাস, রত্না, প্রযোজক আলিমুল্লাহ খোকন, সঙ্গীতশিল্পী-পরিচালক এসডি রুবেল, পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, বজলুর রাশেদ চৌধুরী, এস এ হক অলিক, মোস্তাফিজুর রহমান মানিক প্রমুখ।
হত্যাকে সমর্থন করেন না জানিয়ে খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘ছাত্রদের আন্দোলনে আমাদের সর্মথন ছিল ও আছে। ছাত্ররা যা চেয়েছিল তার চেয়ে বেশি পেয়েছে। তবে ছাত্র আন্দোলন এখন আর ছাত্রদের হাতে নেই। এটি এখন তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে গেছে। এরপর থেকে ধ্বংসের পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আর ছাত্র আন্দোলন নেই। তাই চলচ্চিত্রে সূতিকাগার থেকে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মানবন্ধন করছি। এই দেশে আমরা শান্তি চাই। চলচ্চিত্র পরিষদ সবসময় শান্তির পক্ষে।’
হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার কামনা করে অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী বলেন, ‘যারা বাংলাদেশে হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংস করতে চায় তাদের হাতের পুতুল আপনারা (শিক্ষার্থীরা) হবেন না। তাই অভিভাবকদের অনুরোধ করব আপনার সন্তানদের ঘরে ফিরিয়ে নেন।’
‘সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদ’-চলচ্চিত্রের ১৯ সংগঠনের একটি প্ল্যাটফর্ম। তবে এই মানববন্ধনে হাতেগোনা কয়েকজন প্রযোজক, পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ছাড়া অধিকাংশ ছিল অপরিচিত মুখ। দেখা যায়নি পরিচালক সমিতি, প্রদর্শক সমিতি, শিল্পী সমিতি, চিত্রগ্রাহক সমিতি, ফাইটার সমিতিস, ফিল্ম ক্লাবসহ অন্যান্য সংগঠনগুলোর নেতাদের। ফলে চলচ্চিত্র পরিষদের ব্যানারে এই মানববন্ধন নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে প্রদর্শক, শিল্পী, চিত্রগ্রাহক সমিতির একাধিক নেতারা জানিয়েছেন- যারা মানববন্ধন করেছেন তারা সবসময় সরকারের সুবিধাভোগী। আমরা বিবেক বিসর্জন দিয়ে কোনো কিছু করতে পারবো না। শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত আন্দোলনে আমাদের সমর্থন ছিলো আছে থাকবে। তবে যে কোনো সহিংসতার বিপক্ষে আমরা, এটাও পরিস্কার করছি। আমরাও শান্তি চাই। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে উন্নয়নযাত্রা অব্যাহত থাকবে এটা আমরাও প্রত্যাশা করি।
আজকালের খবর/আতে