বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪
গোয়েন্দা প্রেমিক
আসহাবে কাহাফ
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪, ৩:৫৩ PM
বেলা তখন প্রায় ১১টা। ওসি সাহেবের রুমে, সেকেন্ড অফিসার আলতাফসহ আরো দুজন অফিসার বসে আছেন। ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি হওয়াতে প্রায় একটু দেরিতে অফিসে আসে, ওসি জাফর সাহেব। আফিসে এসেই প্রয়োজনীয় আলাপ সেরে নেয় সেকেন্ড অফিসার ও অন্যান্যদের সাথে। আজও তার ব্যতিক্রম নয়। হঠাৎ আলতাফ কী যেন একটা কথা বলতে গিয়ে থেমে গেল। বাইরে থেকে একটা ষোড়শী মেয়ে চার-পাঁচ বছরের একটা ছেলে সহ চিৎকার করতে করতে তাদের রুমের দিকে এগিয়ে আসছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেয়েটি তাদের সামনে দাঁড়িয়ে, ‘আমি ইফা রহমান।আমি, আমার বাবা মেজর আরিফ খান ও মা-কে গত রাতে খুন করেছি, আমাকে গ্রেফতার করেন।’ ইফার এ কথা শুনে উপস্থিত সবার মধ্যে ক্ষণিকের নিরবতা নেমে এল। এই প্রথম কোনো ষোড়শী রমণী তার মা-বাবাকে খুন করে থানায় ধরা দিচ্ছে! জাফর মনে মনে ভাবছে মেয়েটি বোধই পাগল হবে। ইফা আবারো ধমকের সুরে বলে ওঠে, ‘তাহলে আপনারা কি আমাকে বন্দী করবেন না?  বিশ্বাস না হলে আমার সাথে চলেন।’ এখন জাফর সাহেব কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে। ‘আচ্ছা মা, তুমি তাদের খুন করেছ কেন?’ জানি না। ওনারা কি এখনও বেচে আছে না মরে গেছে? গত রাতে খুন করেছি, মরেছে অনেক আগে! জাফর এইবার সংশয় না রেখে আলতাফের উদ্দেশে বলল, ‘আলতাফ, গাড়ি বের করেন। ফোর্স বি রেডি।’ কিছুক্ষণ পর আলতাফ ওসির উদ্দেশ্যে বলল, ‘স্যার চলেন।’ ইফাসহ গাড়ি করে রওনা দিল পুলিশের লোকজন সাথে ইফার ছোট ভাই দিহান। ক্যান্টনমেন্টের রাস্তা হওয়ায় খুব অল্প সময়ে তারা পৌঁছে গেল। ইফা, উচ্চ দেওয়ালে ঘেরা বাড়িটা দোতলায় নিয়ে গেল তাদের। তারপর গোসল খানার দরজার দিকে দেখিয়ে দিল তাদের। সেকেন্ড অফিসার আলতাফ গিয়ে দেখেই চিৎকার, ‘স্যার, মেয়েটা মার্ডারের আসামি, তাকে গ্রেফতার করেন।’ জাফরও সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখল ভয়ংকর এক দৃশ্য। দুটা মৃত দেহ পড়ে আছে। মনে হচ্ছে কেউ যেন খেলার ছলে অনেক্ষণ তাদের বুকে ছুরি চালিয়েছে। মুহূর্তেই সারা দেশে খবর ছড়িয়ে গেল। নিজের মা-বাবাকে খুন করেছে ইফা। চলমান আইনে শুরু হল ইফার বিচার। কিন্তু ইফা যে তার মা বাবা-কে খুন করেছে তার কোনো সাক্ষী নেই, কেবল তার নিজের স্বীকারোক্তি ছাড়া। অন্যদিকে ইফার বয়স কম হওয়ায় তাকে পাঠানো হয়েছে কিশোর সংশোধন কারাগারে।

ঘটনাক্রমে চাকরির সুবাধে আমার উপর দায়িত্ব পড়ে এই খুনের আসল কারণ বের করার। জীবনে প্রথম মামলা। যেভাবে হোক সফল হতেই হবে। আমি ইফাকে প্রথমবার দেখে খুব আপসোস করেছিলাম। এত সুন্দর মেয়ে কীভাবে খুন করতে পারে। আর মনে মনে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলাম এই মেয়ের যেন ফাঁসি না হয়। যেহেতু আমি অবিবাহিত ছিলাম, তাই মনে মনে ইফাকে বিয়ে করে সংসার করার ছকও কষে বসি। এসব হয়, যখন কোনো ঘটনার মধ্যে মানুষ ঢুকে যায়, তখন সে নিজেকেই ঘটনার ভেতরের একজন ভাবতে পছন্দ করে। কিন্তু সে সুযোগ বা পরিস্থিতি আমার ছিলো না। এখন যখন নিজের উপর দায়িত্ব পড়েছে, তাকে নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম, যেভাবে হোক তাকে আমার বাচাতেই হবে, মনে হচ্ছে সে যেন খুনি ইফা না, আমার কাছের কেউ। ফলে ইদানিং আমি নিয়মিত কিশোর সংশোধন কারাগারে যায়, ইফার সাথে কথা বলি, তাকে বুঝতে দিই না যে আমি একজন গোয়েন্দা। ইতোমধ্যে, আমি জেনে গেছি, নাচের শিক্ষক মাসুমের সাথে ইফার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এমনকি মাসুমের সাথে বাইরে প্রায় সময় বিভিন্ন নাচ গানের অনুষ্ঠানে যেত সে। কিন্তু মা বাবা বিষয়টা ভালো হিসেবে দেখেনি বলেই, ইফা মা বাবার প্রতি মন খারাপ করে। মা-বাবার এ ভালো না লাগার কথাটা একদিন ইফা, মাসুমকেও বলে। মাসুম তখন ইফাকে একবার বলেই ফেলল, তাদের শেষ করে দাও। আমি বুঝতে পারলাম, নিশ্চয় এই খুনে মাসুমই জড়িত। আমি তদন্তের এ পর্যায়ে যখন, মাসুমের বিষয়টা নিয়ে সিনিয়র অফিসারের সাথে কথা বলতে যাব, ঠিক সেই মুহূর্তে শুনলাম ইফা পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে, কীভাবে সে তার মা-বাবাকে খুন করেছে।

আমি জবানবন্দিটা পড়ে একটু অবাক হয়। এতদিন আমি যখনই ওর সাথে কথা বলি তার মধ্যে একটা মনুষ্যত্ব দেখেছি। আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না, তাই আমি আবার সেদিনই কিশোর সংশোধন কারাগারে যায়। আমি ইফাকে বলে ফেললাম, ‘ইফা, আমি তোমাকে ভালোবাসি। আর তোমাকে এখান থেকে নিয়ে যেতে চাই। তার জন্য তোমারও সাহায্য দরকার। আমার কথা শোনে সে প্রথমে হেসে ফেলে, হাসলে মেয়েদের আলাদা একটা সৌন্দর্য ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে। মেয়েদের এ হাসি এবং হাসির সৌন্দর্য বড়োই ভয়ঙ্কর অস্ত্র, যা দিয়ে সহজেই একজন কমান্ডোকেও ঘায়েল করা যায়। আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি। তারপর আমার কাছে সে জানতে চাইল, মিস্টার, তাহলে কীভাবে আমাকে নিয়ে যাবেন? তখন আমি তাকে আমার আসল পরিচয় দিলাম। তখন সে, কাদতে শুরু করল, এবং আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘শেষ পর্যন্ত তুমিও আমার সাথে মাসুমের মতো করতে পারলে? আমি এই কারাগারে তোমাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করতাম এবং কাছের মনে করতাম, আর তুমি আমার ক্ষতি করবে? আমি পাল্টা প্রশ্ন করলাম। আমি তোমাকে নিয়ে যেতে চাচ্ছি, আর তুমি বলছ ক্ষতি করছি। বিষয়টা কেমন জানি হয়ে গেল। আর, মাসুমের মতো বলতে তুমি কী বুঝিয়েছ? এটা আমাকে বলতে হবে। এবার সে আমার নাম ধরে সম্বোধন করল। কাছের কেউ, অর্থাৎ আমরা যদি কাউকে ভালোবাসি, আর সে যদি আমাদের নাম ধরে ডাকে, তবে আমাদের ভেতরে তখন অন্যরকম একটা শিহরণ ঢেউ খেলে। এ মুহূর্তে আমার ভেতরেও সে মৃদু বাতাসের দোলা বয়ে যাচ্ছে। দেখ রিমন, তুমি আর যাই কর, আমি যে মাসুমের কথা তোমাকে বলছি তা আর কাউকে বলিও না। আমি কথাটা শুনে কিছুটা বিচলিত হয়। আমার মনে আসল তাহলে এখানেই কোনো কারণ থাকতে পারে। সেদিন আমি আর বেশি কিছু জিজ্ঞেস করিনি। পেশাগত অবস্থান এবং চিন্তা-চেতনার মধ্যে দিয়েই যাচ্ছি। ইতোমধ্যে অনেকদিন পরিচয়ের সুবাধে আমরাও খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। তখন আমি আমাদের সম্পর্কের দিব্যি দিয়ে জানতে চাইলাম, সেদিন কী হয়েছিল? স্বাভাবিক কারণে, সেও আমার প্রতি দুর্বল ছিল। যদিও আমাদের বয়স এবং অবস্থানের কিছুটা তফাৎ ছিলো। হয়তো বিপরীত লিঙ্গের প্রতি মানুষের দুর্বলতা থাকে, বলেই পৃথিবীর এত সুন্দর। তাই আমি জানতাম সেও বলতে বাধ্য হবে। যথারীতি সে বলাও শুরু করল, আমি তোমাকে ছাড়া কীভাবে বাঁচব? আমার যে মা-বাবা কেউ নেই, এখানে একমাত্র তোমাকে বিশ্বাস করি, ভালোবাসি। তুমি বিশ্বাস কর, আমার বাবা-মাকে আমি হত্যা করিনি।

আমার মা-বাবাকে মাসুম শেষ করে দিয়েছে। আমি একটু নড়েচড়ে বসলাম, এই ফাকে মোবাইলে রেকডারটা চালু করে নিলাম। তারপর বললাম, এখন বল সেদিন কী হয়েছিল। ইফার সে বর্ণনাটা ছিল নিম্নরূুপ, ‘সেদিনও আমি আর মাসুম নাইটক্লাবে যাই এবং আমি মনে হয় যথেষ্ট ড্রিংকস করে ফেলি। যার কারণে মাসুম আমাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। মাসুম আমাকে প্রায় সময় আমাদের বাড়িতে দিয়ে যেত। সেদিন যখন আমরা বাড়িতে পৌঁছায় তখন আমার বাবা ছিল না। আমি দেখলাম, আমার মা মাসুমকে বকা দিচ্ছিল, হঠাৎ মাসুম আমার মাকে টেবিলের উপর রাখা ফুলের টব দিয়ে আগাত করে, আমার মা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আমি মায়ের মাথায় রক্ত দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এরপর আমি আর কিছুই জানি না। পরের দিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখি আমার নিজের রুমে মাসুমের লিখা একটা চিরকুট। যাতে লেখা, আমি তোমার মা-বাবাকে খুন করেছি। এখন যদি তুমি নিজেকে এবং তোমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে চাও, তাহলে আমার চিরকুটে যে লেখা ঠিক মত সে কথায় থানায় গিয়ে বলবি। আর সেদিন, আমি পুলিশের কাছে ঠিক সেই চিরকুট মুখস্ত করে বলেছি। আমি কথাটা শুনার পর চলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছি। তারপর সেদিনের মতো আবারো ইফার কাছ থেকে বিদায় নিলাম।

তার পরের দিন আমি সকাল সকাল চলে গেলাম ইফাদের বাসায়। দারোয়ানকে পরিচয় দিয়ে ঢুকে পড়লাম ভিতরে। ইফার মিষ্টিমুখের সতেজ ছবিগুলো দেওয়ালে এখনো আছে। মা বাবা আর ছোট ভাইয়ের সাথে একটা ছবিতে সজল নয়নে তাকিয়ে তাকা ইফা যেন, আমাকে বলছে, আমি তোমাকে ভালোবাসি, তুমি আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও। হঠাৎ আমার ভিতরে ঘুমন্ত রিমন জেগে ওঠল। আমি বলেই ফেললাম, আমি আসছি ইফা! এবার সোজা চলে গেলাম দ্বিতীয় তলায় ইফার রুমে। টেবিলে ইফার ডায়েরিটা এখনও পড়ে আছে। হয়তো পুলিশ যা আলামত সংগ্রহ করার করেছে, ঘরের বাকি জিনিসপত্র আগের মতই রয়ে গেছে। বেশ সুন্দর হাতের লিখা, কয়েকটা রোমান্টিক প্রেমের কবিতা পড়ে সামনে এগুলাম। শুরু হল একটা অজানা ঠিকানায় চিঠি...।

প্রিয়, আমি জানি না এই চিঠি কাকে লিখছি, কেন লিখছি।...এইভাবে শুরু হওয়া চিঠিটি চলতে থাকে ১২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। মাঝখানে এক জায়গায় মা বাবার কথা লিখেন, তা হল- মা বাবা কখনো তাকে বুঝার চেষ্টা করেননি, সব সময় দোষ-ত্রুটি খুঁজতেন তারা, তারও যে কিছু ভালো দিক আছে যা তাদের চোখে কোনো দিনও পড়েনি। ইফার চিঠির শেষের দিকের কথাগুলো পড়ে আমার চোখেও জল চলে এসেছে। তখন মনে হল, ‘সুখ অর্থেবৃত্তে নয় মনের যৌন্দর্যে লুকায়িত থাকে।’ এবার ডায়েরিটা সাথে করে নিয়ে চলে আসলাম। আমার প্রথম পর্বের কাজ শেষ। ইফার স্বীকারোক্তি পেলাম যে সে খুন করেনি। আমি বিষয়টা আমার সিনিয়র বোরহান সাহেবের সাথে শেয়ার করলাম। কীভাবে এখন মাসুমের মুখ থেকে বের করতে হবে যে, মাসুমই ইফার বাবা-মাকে খুন করেছে। বোরহান স্যার আমাকে এই বিষয়ে পরামর্শ দিলেন। আমরা সিদ্বার্ন্ত নিলাম। স্যার আর তার স্ত্রী এবং বড়ো মেয়ে নিতু মিলে ঠিক, ইফা ও তার মা বাবার কাহিনী রচনা করব, এইক্ষেত্রে খল নায়ক থাকব আমি। পরের দিন আমি আর নিতু ভর্তি হয়ে গেলাম মাসুমের নাচের স্কুলে। খুব অল্প দিনেই আমি মাসুমের সাথে জমিয়ে নিলাম বন্ধুত্ব। কিছুদিন পরে আমি মাসুমকে বললাম, আমার আর নিতুর সম্পর্ক ওদের পরিবারে মেনে নিচ্ছে না। এখন কী করা যায়? মাসুমের সহজ উত্তর- শেষ করে দাও। আমি আৎকে উঠি, খুব সহজেই সে বলে দিল শেষ করে দাও। আমি একটু বোকামীর অভিনয় করতে লাগলাম। আচ্ছা, মাসুম ভাই, কীভাবে শেষ করব? শুন, আমি একজনকে ভালোবাসতাম। সে আমার কাছে নাচ শিখতে আসত।...সেদিন, আমি পাশ কাটিয়ে চলে আসি। আমি তাকে বুঝাতে চাইলাম যে আমার শুনার ইচ্ছে নাই। তারপর, আমি আর বোরহান স্যার মিলে আমার নিজের রুমটাকে সিসি টিভির আওতায় নিয়ে আসি। এবং আমার রুমের প্রতিটি চেয়ারে সাউন্ড রেকর্ডার স্থাপন করি। পরের দিন আমি নিজেই মাসুমকে ফোন করে আমার রুমে আসতে বলি। যথারীতি মাসুম আসল। আমিও তার সাথে গতানুগতিক ধারায় গল্প শুরু করি। এমন সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নিতু আমাকে ফোন করে। আমিও মাসুমের সামনে রেগে যায়। আমি কথার এক ফাকে নিতুকে বললাম, ঠিক আছে দেখি কী করা যায়। গুড বাই, রাখি। ফোন কাটার পর মাসুম প্রশ্ন করল, কী হল দোস্ত? আমি বললাম, নিতুর মা বাবা সমস্যা করছে। বাদ দাও সেইসব কথা। আজ তোমার সেই প্রেমিকার কথাটা বল মাসুম। শুন তাহলে- ‘আমি যাকে ভালোবাসতাম, তার নাম ইফা। আমরা প্রায় বাইরে রাত কাটাতাম,  ড্রিংকস করতাম। এবং রাতে ওকে ওর বাড়ি পৌঁছে দিতাম। সেদিনও মদ্যপায়ী ইফাকে আমি তাদের বাসায় নিয়ে যাই। কিন্তু বাসায় ঢুকার পর, ইফার মা আমাকে যা তা বলা শুরু করল। আমি রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তার মাথায় আঘাত করি। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, ইফা তা দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আমি ইফাকে তার রুমে শুইয়ে রাখি, কিন্তু এদিকে দেখি তার মায়ের আর কোনো সাড়া শব্দ নেই। আমার আর বুঝতে বাকি রইল না তিনি মারা গেছেন। আমি কী করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। তাই নিজেকে বাচানোর জন্য সিদ্ধান্ত নিলাম তাদের সবাইকে হত্যা করব। প্রথমে দারোয়ানের কাছে গেলাম, তার কাছে জানতে চাইলাম, তাদের বাসায় সিসি টিভির নিয়ন্ত্রণ কক্ষ কোনটি? প্রথমে সিসি টিভি অফ করলাম। তারপর রেকর্ড করা মেমরি নিয়ে নিলাম। আমি জানি ইফার বাবা বাসায় ফিরতে আরো দেরি হবে, সোজা আবার উপরে চলে গেলাম। গিয়ে ইফার মাকে বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলাম। এবং তার মৃত দেহ গোসলখানায় নিয়ে রেখে দিলাম। পরে তার ছোট ভাইকে খুন করব, দেখি সে ঘুমাচ্ছে, তাই আর কিছু করতে পারলাম না। এরপর চলে গেলাম ইফার রুমে, আমি যখন ওর বুকে ছুরি বসাতে যাব ঠিক তখনি বাইরে গাড়ির শব্দ, বুঝলাম, ইফার বাবা এসেছে। গিয়ে দাঁড়ালাম দরজার সামনে। যখনি ভদ্রলোক ভেতরে পা দিল, সোজা ছুরিটা ঢুকিয়ে দিই পেঠের ভেতর। তিনি চিৎকার করার চেষ্টা করলে আমি মুখ চেপে ধরি, মনে হয়, সেই সময় তিনিও মদ্যপায়ী ছিল। পরে আরো কয়েক বার ছুরিকাঘাত করলাম। মৃত্যু নিশ্চিত করে তাকেও নিয়ে গেলাম গোসলখানায়। পরে আবার ইফার রুমে ঢুকি। ইফার মাথার দিকে যেতেই চোখে পড়ল, তার টেবিলে ডায়েরিটা। পাতা উল্টাতেই চোখে পড়ল ওর লেখা একটি কবিতা।

কবিতাটা সে আমাকে নিয়ে লিখে ছিল। এবং প্রায় সময় আমাকে শোনাতো। আমি হারিয়ে গেলাম আমার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যেখানে সে আমাকে কবিতাটা প্রথম আবৃত্তি করে শুনিয়েছিল। আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। একটা চিরকুটে সে কী করবে তা লিখে চলে আসলাম। কিছুদূর আসার পর মনে পড়ল বাড়ির দারোয়ানের কথা।

আবার পিছনে ফিরে গিয়ে তাকেও ভয় দেখালাম, আমি যে এই বাড়িতে আসলাম তা যেন কাউকে না বলে। যদি বলে তাকেও আমি বাচতে দিব না।’ মাসুম এটি বলে শেষ করতেই আমি উঠে দাঁড়ালাম, বাহ! চমৎকার! এমন সময় পাশ থেকে দরজায় কড়া নাড়ে বোরহান স্যার। দরজা খুলতেই পুলিশ মাসুমকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। সবাই চলে যায়, এবার আমার রুমে প্রবেশ করে নিতু। সে হাসি মুখে বলেই ফেলল, এখন ইফার দায়িত্ব শেষ, আমার দায়িত্ব কবে নিবে? নিতুর এমন প্রশ্ন শুনে বুঝেছি, সে কী জানতে চাই। তবু আমি না বুঝার ভান করে উত্তর দিই। আমাকে এখনি ইফার কাছে যেতে হবে। আমি বের হয়ে গেলাম। পরের সাপ্তাহে আদালত ইফাকে নির্দোষ ঘোষণা করে মুক্তি দিবে। সবাই সেখানে গেলেও নিতু যাবে না। সে ইফাকে আমার বাসায় দেখতে চাই। ইফার জন্য আমার বাসায় অপেক্ষা করবে। মুক্তির পর আমি ইফা ও বোরহান স্যার এবং গ্রাম থেকে আসা ইফার কয়েকজন আত্মীয় ও ছোট ভাইকে সাথে নিয়ে আমার বাসায় এলাম। ঘরে ঢুকতেই সব কিছুতে অন্যরকম সাজ। আমি ইফাকে নিয়ে উপরে চলে গেলাম। সেখানেও সুন্দরভাবে সবকিছু সাজানো। আমাদের জন্য সুন্দর করে বেড রুম সাজিয়ে তার উপর ইফার ডায়েরিটা সাজিয়ে রাখা। যদিও আমাদের বিয়ে হয়নি। কিছুটা ইতস্তত বোধ করলেও, ইফা কিছুটা নির্ভার! সে আমাকে ভরসা করে। ডায়েরিটা চোখে পড়তেই ইফা হাতে তুলে নিল। সেখান থেকে বের হল, নিতুর চিরকুট! আমি হাতে নিয়ে চিরকুটটা পড়া আরম্ভ করলাম। ‘আমি যাচ্ছি, আমাকে আর খুঁজিও না। তোমার সাথে অভিনয় করতে গিয়ে আমি নিজেই তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি, কিন্তু তোমাকে ইফার কাছ থেকে আলাদা করতে পারব না, তাই চলে গেলাম। আমার অনেকেই আছে কিন্তু ইফার কেউ নেই, তুমি তাকে দেখে রাখিও।’ আমি পড়া শেষ করে দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছি। ঘর থেকে বের হব, এমন সময় পিছন থেকে নিতুর ডাক, ‘দাঁড়াও গোয়েন্দা!’ উল্টো ফিরে নিতুর চোখের দিকে তাকিয়ে দেখি, বিশাল এক আকাশের নিচে আমি একা! একলা পথিক!

আজকালের খবর/আরইউ








সর্বশেষ সংবাদ
আলোচনা আর গোলাগুলি একসঙ্গে হয় না
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫ কোটা আন্দোলনকারী আটক
রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় আগুন
আন্দোলন চললেও আলোচনার দরজা খোলা: সমন্বয়ক টিম
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় রাজি সরকার
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
রাতে হঠাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় রাজি সরকার
শনিরআখড়ায় এই আন্দোলনকারী কারা?
সরকারি ৭ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
বাড্ডায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft