বুধবার ২৪ জুলাই ২০২৪
পূর্বধলায় মৃত মুক্তিযোদ্ধাকে ‘গার্ড অব অনার’ দিতে গাফিলতি, ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা
মোস্তাক আহমেদ খান, পূর্বধলা (নেত্রকোনা)
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪, ১২:৩৪ PM
নেত্রকোনার পূর্বধলায় গত বুধবার (২২ মে) মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা সানোয়ার হোসেন খানকে (৭০) নির্ধারিত সময়ের প্রায় একঘন্টা পরে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এতে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা, মুসল্লি ও পরিবারের লোকজনের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের ঈদগাহ মাঠে মরহুমকে জানাজা পূর্ব গার্ড অব অনার ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে।

এই নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সকাল দশটায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে উপজেলার সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তার সন্তানরা একত্রিত হয়ে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দিলে তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. খবিরুল আহসান মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিয়ে উপজেলা সকল অফিসারদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলী, ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা তারা মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের উপদেষ্টা মাসুদুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান শহিদুল ইসলাম আঙ্গুর, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি আফাজ উদ্দিন রাসু, সাধারণ সম্পাদক হাসান তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাদির, হানিফ মিয়া প্রমুখ,

মরহুম মুক্তিযোদ্ধার স্বজনেরা জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সানোয়ার হোসেন খান গত মঙ্গলবার দিবাগত মধ্য রাতে মারা যান। পরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মো. আব্দুর রব তালুকদারের মাধ্যমে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাশেদুল ইসলামের সাথে পরামর্শক্রমে দুপুর আড়াইটাই জানাজার সময় নির্ধারন করা হয়। সে অনুযায়ী প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মুর্দা সালাম টিম ২টা ১৫ মিনিটের পূর্বেই উপস্থিত হয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা ছিল। জানাজার সময় জানিয়ে এলাকায় মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচারনাও দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী আত্মীয় স্বজন, বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত মুসল্লিরা মরদেহ সামনে নিয়ে জানাজার জন্য অপেক্ষা করছিল। নির্ধারিত সময়ের পূর্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজনীন আখতার উপস্থিত হলেও পূর্বধলা থানার ওসি মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম ও মুর্দা সালাম টিম না আসায় উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ও মুসল্লীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বাড়তে থাকে। পরে জানাজার পর গার্ড অনার দেওয়া হবে বলে জানাজা পড়ানো শেষ করা হয়।

এই জানাজায় উপস্থিত ছিলেন, নব নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম ফয়জুর সিরাজ জুয়েল। জানাজার পরে মরদেহে প্রশাসনের পক্ষে পুষ্পাঞ্জলির মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজনীন আখতার। পরে ৩টা ১০ মিনিটে ওসি সাহেব উপস্থিত হলেও মুর্দাটিম উপস্থিত হয়নি। এতে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে গার্ড অব অনার অনুষ্ঠান বয়কট করেন। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপস্থিতিতেই ৩টা ১৭ মিনিটে নেত্রকোনার থেকে আগত মুর্দা টিম গার্ড অনার দিলে মরদেহ দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নিজাম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ নিয়ে এমন গাফিলতি করা মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করার শামিল। এই পর্যন্ত অনেক মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছেন তাদের গার্ড অব অনার এর জন্য লিখিত কোন কাগজ দিতে হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ওসি সাহেব নির্ধারিত সময়ে পর উপস্থিত হয়ে লিখিত কাগজ দেওয়ার কথা জানালে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং মুসল্লিদের তোপের মুখে পড়েন। এর আগেও মুক্তিযোদ্ধার চিরবিদায় মুহুর্তে তার মরদেহে গার্ড অনার দিতে গিয়ে পুলিশের গাফিলতি করতে দেখা গেছে।

এনিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে উর্ধ্বতন মহলে এর বিচার চাইলে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ ফয়েজ আহমেদ তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই ঘটনার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নিজে উপস্থিত দুঃখ প্রকাশ করায় আপাতত আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। মুর্দা সালাম টিমের প্রধান এসআই মো: আবদাল জানান গাড়ির ত্রুটি ও রাস্তা খারাপ থাকায় নেত্রকোণা থেকে আসতে একটু দেরী হয়েছে।

পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, নেত্রকোণা পুলিশ লাইনের মুর্দা সালাম টিমকে ২ টার সময় উপস্থিত থাকার জন্য আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গাড়ীর ত্রুটি ও রাস্তা খারাপের কারনে তাদের আসতে একটু দেরী হয়েছে।

সহকারি কমিশনার (ভুমি) নাজনীন আখতার বলেন, আমি প্রশাসনের পক্ষে মরহুম মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে ২টার মধ্যেই উপস্থিত ছিলাম। পুলিশ সদস্যদের আসতে একটু দেরী হলেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও গার্ড অব অনার দেওয়ার পরই মরদেহ দাফন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: খবিরুল আহসান জানান, আমি নির্বাচন পরবর্তী কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় প্রশাসনের পক্ষে সকল কার্য সম্পন্ন করার জন্য সহকারী কমিশনার ভূমি নাজনীন আখতারকে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই সেখানে উপস্থিত থাকা নিশ্চিত করা হয়েছিল।

আজকালের খবর/এসএইচ








সর্বশেষ সংবাদ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেড়েছে যান চলাচল
বান্দরবানে যৌথবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য নিহত
নেপালে ১৯ আরোহী নিয়ে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৮
ইথিওপিয়ায় ভয়াবহ ভূমিধস, মৃত্যু ২২৯
রাজধানীর ৮ থানার ওসিকে বদলি
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত