সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের উপ- নির্বাচন আগামী ২৫ মে। শেষ মুহূর্তে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা চলছে জম জমাটভাবে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার গ্রামে গ্রামে চলছে মন ভোলানো নির্বাচনী গান পরিবেশনের মাধ্যমে প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা। চায়ের দোকান, পাড়া-মহল্লা, অফিস-আদালত ও পরিবারের সদস্যদের মাঝে চলছে প্রার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণ। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীদের পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে উপজেলার প্রতিটি জনপদ। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রার্থী হলেও আওয়ামী লীগে নুরুল ইসলামের (নৌকা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর তালহা আলমের (কাপ পিরিচ) মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে ভোটাররা মনে করছেন। তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হারুন রশীদ (আনারস) হিসাবের মধ্যে রাখছেন ভোটাররা।
নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় শেষ মুহূর্তের প্রচারে প্রার্থীরা ছুটে যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। প্রার্থীরা ঘরে ঘরে গিয়ে নিজের পরিচয়ের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে দোয়া প্রার্থনা ও ভোট ভিক্ষা করছেন।
উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫ পুরুষ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নিজ নিজ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ঘরোয়া বৈঠক, গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা করছেন পুরোদমে। প্রার্থীরা ভোটারদের মন ভোলানোর জন্য এলাকার নানা সমস্যার কথা তুলে ধরছেন এবং নির্বাচিত হলে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন ছাড়াও সুখে দুঃখে সবসময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন।
নির্বাচনে পাঁচ প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম (নৌকা) জাতীয় পার্টির মনোনীত আতাউর রহমান (লাঙ্গল) জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম আব্দুল কাইয়ুম কামালী (খেজুর গাছ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তালহা আলম (কাপ পিরিচ) স্বতন্ত্র প্রার্থী হারুন রশীদ (আনারস)।
এ দিকে উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী পাঁচজন হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী তালহা আলম (কাপ পিরিছ প্রতীকে) বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে ভোটাররা জানিয়েছেন। কারণ তালহা আলম বেশ কয়েক বছর ধরে বন্যায় করোনায় বিভিন্ন ভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। এই হিসাবে তালহা আলমের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ উপজেলায়।তালহা আলম স্বতন্ত্র থাকলেও জমিয়তের ও খেলাফতের লিডার পার্সন নেতার কাজ করছেন তালহা আলমের পক্ষে।
ভোটাররা জানান, একেবারে সুষ্ঠু ভোট না হলেও বড় ধরনের কোনো কারচুপি না হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী তালহা আলমের বিজয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি রয়েছে।
তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী নুরুল ইসলাম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন। তার পক্ষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটাররা নৌকার প্রার্থী নুরুল ইসলাম মোটামুটি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনে করছেন। মূলত আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তালহা আলমের মধ্যে লড়াই হবে বলে ভোটাররা জানিয়েছেন। সেই সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী হারুন রশীদকে ও হিসেবে রাখছেন ভোটাররা।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২ নভেম্বর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ইভিএম এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়ে ৮ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।২৬ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যু বরন করলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ শুন্য হয়।এই শুন্য পদে তফসিল অনুযায়ী ২৫ মে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ উপজেলায় পুরুষ ভোটার ৯৫ হাজার ৩২৩ ও নারী ভোটার ৯৩ হাজার ৭১৬ জন। ৮৯টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম মেশিনের মাধ্যম ভোট দেবেন ভোটাররা।