ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  শুক্রবার ● ১২ আগস্ট ২০২২ ● ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯
ই-পেপার  শুক্রবার ● ১২ আগস্ট ২০২২
শিরোনাম: করোনার ভ্যাকসিন কার্যক্রমে সরকারের ব্যয় ৪০ হাজার কোটি টাকা       সালমান রুশদির ওপর হামলা       ইউক্রেনে পৌঁছেছে যুক্তরাজ্যের সেই অস্ত্রের নতুন চালান       এবার চিনির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব        তথ্যগত গরমিলে ডিএনসিসির ১০ গাড়িচালকের নিয়োগ বাতিল       ডিমের দামে রেকর্ড, ব্রয়লার মুরগির ডাবল সেঞ্চুরি        সিরিজ হারের লজ্জা নিয়ে দেশে ফিরলো তামিম বাহিনী      
এক চিঠি নিয়ে কওমি ঘরানায় তোলপাড়, বৈঠক চলছে
নিউজ ডেস্ক
Published : Saturday, 6 August, 2022 at 2:24 PM

একটি চিঠিকে সামনে রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের খবর শুনে তোলপাড় শুরু হয়েছে কওমি মাদ্রাসার আলেমদের মধ্যে। এই খবরে আলেমরা নিজেদের করণীয় নির্ধারণ করতে জরুরি বৈঠকে বসেছেন। 

শনিবার (০৬ আগস্ট) দুপুর ১২টায় রাজধানীর মতিঝিলে আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিআ’তিল কওমিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকটি শুরু হয়েছে। সংস্থার চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠকে আসতে বলা হয়।

কওমি মাদ্রাসার দায়িত্বশীল আলেমদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কওমি মাদ্রাসার বোর্ড প্রধানদের একটি বৈঠকের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়। বাংলা ট্রিবিউনের কাছে চিঠির একটি কপি এসেছে।

উপ সচিব মো. শামীম হাসান স্বাক্ষরিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত বছর (২০২১) ২৬, ২৭, ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে সংঘটিত ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ সংঘটিত হয়। এ বিষয় অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনে দেওয়া সুপারিশের আলোকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ এবং চলতি বছর গত ২৫ জুন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমিরের পাঠানো চিঠির সুপারিশের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। হেফাজতের আমিরের চিঠিতে বাংলাদেশ কওমী ধারার দ্বীনি শিক্ষা ও শিক্ষকের মান উন্নয়নকল্পে আটটি সুপারিশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে আগামী ১০ আগস্ট (বুধবার) সকাল ১১টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় যোগ দিতে শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের  সচিব, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, এনএসআই মহাপরিচালক, ডিজিএফআই মহাপরিচালককে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেফাক, কওমি মাদ্রাসা বোর্ড গহরডাঙ্গা, ইত্তেহাদুল মাদারিস, আযাদ দ্বীনি বোর্ড, তানযীমুল মাদারিস, জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও মহাসচিবকেও বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

কওমি মাদ্রাসার একাধিক দায়িত্বশীল সিনিয়র আলেম জানিয়েছেন, হেফাজতে ইসলাম একটি ধর্মীয় সংগঠন। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার বিষয়টি দেখভালের জন্য কওমি বোর্ড আছে। সেক্ষেত্রে হেফাজতের নায়েবে আমির মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী গত ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে চিঠি দিয়েছেন তা তার এখতিয়ার বহির্ভূত। আর এ কারণেই আলেমদের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

কোনও-কোনও দায়িত্বশীল আলেম মনে করছেন, সরকারের অভ্যন্তরের কারও পরামর্শেই মিজানুর রহমান চৌধুরী এই প্রস্তাব দিয়েছেন।

গত ২৫ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন হেফাজতের নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী। ‘কওমি ধারার দ্বীনি শিক্ষা ও শিক্ষকের মান উন্নয়নকল্পে সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ’ শীর্ষক চিঠিতে মিজানুর রহমান আটটি সুপারিশ করেন।

সুপারিশগুলো হচ্ছে-

১। কওমি ধারার দ্বীনি শিক্ষার মান উন্নয়নে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের মর্যাদা দিয়ে সনদের ব্যবস্থা করেছেন এবং এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের জন্য জাতি আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবে। ওই আইনে কওমি শিক্ষার সূচনা অর্থাৎ প্রাথমিক স্তরের ভিত্তি উল্লেখ নেই, সাধারণ শিক্ষায় যেমনটি আছে। কওমি শিক্ষা আইনে এই বিষয়টি উল্লেখ না থাকায় কওমি শিক্ষা ব্যবস্থাটি ভবিষ্যতে অস্তিত্ব সংকটের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীন 'কওমি মাদরাসা সমূহের দাওরায়ে হাদিসের (তাকর্মীল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রির (ইসলামিক স্টাডিস ও আরবি) সমমান প্রদান আইন, ২০১৮'এর ২(১) ধারায় ‘কওমি মাদরাসা’ এর সংজ্ঞায় বর্ণিত ‘কওমি মাদরাসা’ অর্থ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত ও দারুল উলূম দেওবন্দের আদর্শ, মুলনীতি ও মত-পথের অনুসরণে মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তার উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ইলমে ওহির শিক্ষাকেন্দ্র;’ উক্ত ধারার সঙ্গে ‘যেখানে মক্তব, নাজেরা, হেফজ থেকে শুরু করিয়া দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত এবং তৎপর ইফতা, উলুমুল হাদিস, তাফসিরসহ উচ্চতর শিক্ষা দেওয়া হয়’ সংযুক্ত করা আবশ্যক। 

২। কওমি ধারার শিক্ষা একটি বিশেষায়িত শিক্ষা ব্যবস্থা। উহার শিক্ষক ও শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রতিটি শিক্ষকের বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা।জাতীয়ভাবে বা ব্যক্তি উদ্যোগে ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করা খুবই প্রয়োজন। 

৩। যেহেতু কওমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের আর্থিক সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে, সেকারণে মাদরাসার সকল প্রকার দান আয়কর মুক্ত থাকা দরকার। এই বিষয়ে পরিপত্র জারি করলে দাতারা উৎসাহের সঙ্গে কওমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দান করতে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করবেন।

৪। মাদ্রাসার নিজস্ব আয় থেকে শিক্ষক কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড গঠন, স্বল্প আয়ের শিক্ষকদের মাসিক বেতন নিয়মিত পরিশোধ করা, মেধাবি, এতিম, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা।

৫। কোনও সরকার প্রধানের উদ্যোগে একই সঙ্গে ৪৬০টি উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ একটি বিশ্ব রেকর্ড বটে। উক্ত মসজিদ সমূহে ইমাম ও খতিব নিয়োগের ক্ষেত্রে কওমি মাদরাসা থেকে পাস করা মেধাবি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকিদার অনুসারিদের ইমাম খতিব নিয়োগ প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং নিয়োগ বোর্ডে স্থানীয় কওমি মাদ্রাসা থেকে বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা যেন ভিন্ন মতাদর্শীরা নিয়োগ পেতে না পারে। তাহলে সরকারের প্রদত্ত স্বীকৃতি বাস্তবে আরও প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

৬। কওমি শিক্ষাঙ্গন এবং সংশ্লিষ্ট ছাত্র শিক্ষক, কর্মচারীদের সকল প্রকার প্রচলিত রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। 

৭। সকল কওমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়া-র আওতাভুক্ত করে তার নীতিমালার আলোকে পরিচালনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা; যাতে ছাত্রদের পড়ালেখার মান নিশ্চিত করা যায়।

৮. মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী মনে করেন, তার দাবি বাস্তবায়িত হলে এবং প্রতিটি কওমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে ব্যক্তি ও জাতি গঠনে কওমি মাদরাসাগুলো অনেক বেশি অবদান রাখতে পারবে। পাশাপাশি জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, মাদক নির্মূল ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে তৃণমূল পর্যায়ে মাদরাসাগুলোর উলামায়ে কেরামের সম্পৃক্ততা অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, কওমি ধারার দ্বীনি শিক্ষা ও শিক্ষকের মান উন্নয়নকল্পে আমি কাজ করছি। শিক্ষার মানের অবনতির মূল কারণ হলো আমরা যোগ্য শিক্ষক তৈরি করতে পারিনি। তাই যোগ্য শিক্ষক তৈরি জন্য প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। তা না হলে কওমি অঙ্গণে শিক্ষক সংকট দেখা দেবে। আমি বেফাক কিংবা হাইআতুল উলয়া’র কোনও কমিটিতে নাই। যে কারণে তাদের কাছে উপস্থাপনের সুযোগ পাইনি। তবে হেফাজত নেতা হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে এ বিষয়ে আলোচনার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কেউ গুরত্ব দেয়নি। এ কারণে আমি মনে করি, এ বিষয়গুলো সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিতে পারবেন।

মিজানুর রহমান চৌধুরী আরও বলেন, আমি জানি, এসব অনেকেই বিরোধিতা করবে, বিশেষ করে আমার অঙ্গনের (কওমি) মানুষরাই আগে করবে। কিন্তু শিক্ষার মানের যে অবনতি হচ্ছে, শিক্ষকরা যে শিক্ষকসুলভ আচরণ করছে না, তার কারণ তারা প্রশিক্ষিত না। শিক্ষা স্তরের প্রতিটি ধাপ সরকার কর্তৃক স্বীকৃতিও পায়নি। এগুলো সমাধানও দরকার।

তবে মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রস্তাবিত বিষয়ে বৈঠক ডাকা হলেও সেই বৈঠকে তাকেই আহ্বান জানানো হয়নি। এ প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমন্ত্রণ জানায়নি। আমি জানি না কেন ডাকেনি। তবে বৈঠকে আমি থাকলে প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে কারও কোনও প্রশ্ন থাকলে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে পারতাম। আমি জানি একদিনে সমাধান আসবে না। তবে আলোচনার মাধ্যমেই একদিন সমাধান হবে।

শনিবার (০৬ আগস্ট) সকালে চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সহ সভাপতি ও আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিআ’তিল কওমিয় ‘র সদস্য মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু  বলেন, আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে হাইআ’র মিটিং ডাকা হয়েছে। এখন শুরু হবে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার বিষয়ে আমরা সব সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কিন্তু হেফাজতে ইসলাম তো ধর্মীয় সংগঠন। মাদ্রাসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কয়েকটি বোর্ড আছে।

আলাপে মুসলেহ উদ্দিন জানান, হাইআ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করবে কিনা, কী করণীয়, এসব ঠিক করতেই আজকের বৈঠক।

জানতে চাইলে হাইআ’র সদস্য বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা‘র চেয়ারম্যান ও বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা রুহুল আমীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হাইআ’র মিটিং শেষ হলেই আপনারা জানতে পারবেন বৈঠকে যাবে কি যাবে না। আমি চিঠির বিষয়ে জানি না।

আজকালের খবর/বিএস 


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.net, www.ajkalerkhobor.com