ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  শুক্রবার ● ১২ আগস্ট ২০২২ ● ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯
ই-পেপার  শুক্রবার ● ১২ আগস্ট ২০২২
শিরোনাম: করোনার ভ্যাকসিন কার্যক্রমে সরকারের ব্যয় ৪০ হাজার কোটি টাকা       সালমান রুশদির ওপর হামলা       ইউক্রেনে পৌঁছেছে যুক্তরাজ্যের সেই অস্ত্রের নতুন চালান       এবার চিনির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব        তথ্যগত গরমিলে ডিএনসিসির ১০ গাড়িচালকের নিয়োগ বাতিল       ডিমের দামে রেকর্ড, ব্রয়লার মুরগির ডাবল সেঞ্চুরি        সিরিজ হারের লজ্জা নিয়ে দেশে ফিরলো তামিম বাহিনী      
শাবাশ শেখ হাসিনা
রায়হান উল্লাহ
Published : Friday, 24 June, 2022 at 8:17 PM, Update: 25.06.2022 5:24:40 PM

বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পদ্মাসেতু। আনন্দের আবহে পুরো দেশ। আগে যা ভাবেনি দেশবাসী, তাই হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলাদেশে। তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে এমন আরাধ্য সাধন হয়েছে। সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয়েছে নয় দশমিক ৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু (মূল সেতু ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার, দুই প্রান্তের উড়ালপথ তিন দশমিক ৬৮ কিলোমিটার)।

অপেক্ষার ক্ষণগণনা শেষ হচ্ছে আজ ২৫ জুন, ২০২২। স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজকের তারিখটি নিশ্চয়ই ইতিহাস হয়ে থাকবে। জাতির পিতার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এটাই সবচেয়ে বড় অর্জন। স্বপ্নের এই সেতু উদ্বোধনের অপেক্ষায় পুরো দেশ। স্বপ্ন ডানা মেলার সেই ঐতিহাসিক ক্ষণের আনন্দ উদযাপনে সাজসাজ রব সারাদেশে। দেশের বাইরে প্রবাসীরাও এ সেতু গড়ার আনন্দে উদ্বেলিত। তাদের শ্রম-ঘামের অর্থও যে আছে সেতুতে। মধ্যখানে কিছু এলাকায় সৃষ্ট বন্যা পুরো দেশে সেতু উদ্বোধনের আনন্দ কিছুটা ম্লান করে দিতে চাইলেও, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হওয়ায় তা হচ্ছে না। পুরো দেশ আজ মাতবে আনন্দে। জেলায় জেলায়, এমনকি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আনন্দের ধারা বইছে। আর মন খারাপ ভাব তাদের, যারা এই সেতু নির্মাণ না হওয়ার জন্য দেশে-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলো। তাদের সেই ষড়যন্ত্রের জাল একাই ছিন্ন করে সম্পূর্ণ একক সিদ্ধান্তে নিজস্ব অর্থায়নে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশের আরেক অবিসংবাদিত নেতা শেখ হাসিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর এমন নেতা আর বাংলার মাটিতে আর জন্ম নেননি। ‘শাবাশ শেখ হাসিনা’।

নানা ক্ষেত্রে পদ্মাসেতু নির্মাণ একটি ইতিহাস। সবচেয়ে বড় ইতিহাস এর আগে এত বৃহৎ প্রকল্প সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে করতে পারেনি দেশ। এর পুরোটুকু কৃতিত্ব বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি পদ্মাসেতু নির্মাণে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্রের পর দৃঢ় থাকেন দেশের অর্থেই পদ্মাসেতু গড়বেন। এবং তা বাস্তবে করে দেখালেন। অসম্ভবকে সম্ভব করা আর কথামালার মাঝে যোজন যোজন ফারাক। কিন্তু একজন আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা দেখালেন চাওয়ার মতো চাইলে স্বপ্নকেও বাস্তব রূপ দেওয়া যায়। শাবাশ বাংলাদেশ, শাবাশ শেখ হাসিনা। একাগ্রতা ও দেশপ্রেমে ভর করে কী না করা য়ায়। পদ্মাসেতু নির্মাণে ইতিহাসের স্বর্ণালি অধ্যায় হয়ে থাকলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।  

পদ্মা বাংলাদেশের প্রধান নদী। হিমালয়ে উৎপন্ন গঙ্গা নদীর প্রধান শাখা এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী। হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন গঙ্গা নদী রাজশাহী জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, এখান থেকে নদীটি পদ্মা নাম ধারণ করেছে। গঙ্গার অন্য শাখাটি ভাগীরথী নামে ভারতে হুগলির দিকে প্রবাহিত হয়। উৎপত্তিস্থল থেকে ২২০০ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দে যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রবাহ পদ্মা নামে আরো পূর্ব দিকে চাঁদপুর জেলায় মেঘনা নামে পরিণত হয়েছে। সবশেষে মিলিত এই প্রবাহ দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়। এ হলো পদ্মার মূল ও প্রাথমিক পরিচয়।

পদ্মা নামটি নিলেই প্রমত্তা কথাটি চলে আসে। এতেই বোঝা যায়, পদ্মা কেমন প্রকৃতির। পানি প্রবাহের দিক দিয়ে সবচেয়ে খরস্রোতা নদী আমাজনের পরই পদ্মা দ্বিতীয়। পদ্মার সর্বোচ্চ গভীরতা এক হাজার পাঁচশ ৭১ ফুট (চারশ ৭৯ মিটার) এবং গড় গভীরতা ৯৬৮ ফুট (২৯৫ মিটার)। বাংলাদেশে নদীটির দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১০ কিলোমিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার।

সহজেই জানা এসব তথ্য প্রমাণ দেয়, নদীটি বাংলাদেশে সড়ক ও রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে কতটুকু বাধা হয়ে আছে। এ বাধা দূর হয়েছে। প্রমত্তা পদ্মার বুকে এখন ছুটবে গতিময় যান। পদ্মার ওপর গড়ে উঠেছে একটি বহুমুখী সড়ক ও রেলসেতু। এর মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের সঙ্গে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা যুক্ত হয়। এই সেতু রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশকে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার সঙ্গে যুক্ত করেছে।

দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাসের পদ্মাসেতুর ওপরের স্তরে চার লেনের সড়কপথ এবং নিচের স্তরে একটি একক রেলপথ রয়েছে। পৃথিবীতে এই প্রথম কোনো সেতু নির্মাণে কংক্রিট এবং স্টিল উভয়ই ব্যবহৃত হয়েছে। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ৪২টি পিলার ও ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ৪১টি স্প্যানের মাধ্যমে সেতুটির মূল অবকাঠামো তৈরি করা হয়। পদ্মা সেতুর (মূল সেতু) দৈর্ঘ্য ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দুই প্রান্তের উড়ালপথ তিন দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে সেতুর দৈর্ঘ্য নয় দশমিক ৮৩ কিলোমিটার। 

খরস্রোতা পদ্মার মাটির ১২০ থেকে ১২৭ মিটার গভীরে গিয়ে বসানো হয়েছে পদ্মা সেতুর পাইল। এর আগে পৃথিবীর অন্য কোনো সেতুর জন্য এত গভীরে গিয়ে পাইল বসাতে হয়নি; যা একটি রেকর্ড। সেতুতে ব্যবহৃত ‘ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং’-এর সক্ষমতা ১০ হাজার টন। এখন পর্যন্ত কোনো সেতুতে এমন সক্ষমতার বিয়ারিং লাগানো হয়নি। ফলে রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার ভূমিকম্পে টিকে থাকার মতো সক্ষমতা রয়েছে এ সেতুর। 

এই সেতুতে ব্যবহৃত একেকটি বিয়ারিংয়ের ওজন ১০ হাজার পাঁচশ টন। পৃথিবীতে এর আগে কোনো সেতুতে এমন বড় বিয়ারিং ব্যবহার করা হয়নি। সেতুটি নির্মাণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রেন ব্যবহার করা হয়েছে। পিলারের ওপর স্প্যান বসাতে যে ক্রেনটি ব্যবহৃত হয়েছে, সেটি এসেছিল চীন থেকে। প্রতি মাসে এর ভাড়া বাবদ গুনতে হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। ক্রেনটি বাংলাদেশে ছিল প্রায় সাড়ে তিন বছর। এজন্য মোট খরচ হয়েছে ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বিশ্বে প্রথম কোনো সেতু তৈরিতে এত দীর্ঘদিন ক্রেনটি ভাড়ায় থেকেছে। এই ক্রেনটির দাম দুই হাজার পাঁচশ কোটি টাকা। সেতুটির সুরক্ষায় নদীতীরের ১৪ কিলোমিটার (এক দশমিক ছয় কিলোমিটার মাওয়া প্রান্তে ও ১২ দশমিক চার কিলোমিটার জাজিরা প্রান্তে) এলাকা নদীশাসনের আওতায় আনা হয়েছে। এ কাজে ব্যয় হয়েছে নয় হাজার চারশ কোটি টাকারও বেশি। 

এমন অনেক আনন্দের সাক্ষী পদ্মাসেতু বদলে দেবে আশপাশসহ সারাদেশের মানুষের জীবন। তাদের অর্থেই পদ্মা পোষ মেনেছে। সর্বশেষ সেতুটি নির্মাণে দেশবাসীর সমর্থনের জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জয়তু বাংলাদেশ, জয়তু শেখ হাসিনা।

আজকালের খবর/আরইউ


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.net, www.ajkalerkhobor.com