ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  শনিবার ● ১৩ আগস্ট ২০২২ ● ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯
ই-পেপার  শনিবার ● ১৩ আগস্ট ২০২২
শিরোনাম: করোনার ভ্যাকসিন কার্যক্রমে সরকারের ব্যয় ৪০ হাজার কোটি টাকা       সালমান রুশদির ওপর হামলা       ইউক্রেনে পৌঁছেছে যুক্তরাজ্যের সেই অস্ত্রের নতুন চালান       এবার চিনির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব        তথ্যগত গরমিলে ডিএনসিসির ১০ গাড়িচালকের নিয়োগ বাতিল       ডিমের দামে রেকর্ড, ব্রয়লার মুরগির ডাবল সেঞ্চুরি        সিরিজ হারের লজ্জা নিয়ে দেশে ফিরলো তামিম বাহিনী      
৬৩ জেলা ফেরিমুক্ত সড়ক নেটওয়ার্কে
নূরুজ্জামান মামুন
Published : Friday, 24 June, 2022 at 8:03 PM, Update: 24.06.2022 11:08:50 PM

ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক দিয়ে বাংলাদেশ একটি ব-দ্বীপ। পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা-এই তিনটি নদী বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডকে চারটি ভাগে ভাগ করেছে। ঢাকা ঘিরে মধ্যাঞ্চল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ নিয়ে পূর্বাঞ্চল, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ নিয়ে উত্তরাঞ্চল, খুলনা ও বরিশাল নিয়ে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল। ‘কাঁচপুর’, ‘দাউদকান্দি’, ‘দ্বিতীয় মেঘনা সেতু’ ও ‘সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু’ রাজধানীর সঙ্গে পূর্বাঞ্চল ফেরিমুক্ত সড়কপথ তৈরি করেছে। ‘বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু’ ও ‘লালন শাহ সেতু’ উত্তরের সঙ্গে মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে মিতালি গড়েছে। 

শনিবার পদ্মাসেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ফেরিমুক্ত সড়কে যুক্ত হবে দেশের চারটি অঞ্চল। পদ্মাসেতুর প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক, যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা তথা সামগ্রিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে বলে বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন। শুধু দ্বীপজেলা ভোলা ফেরিমুক্ত সড়ক যোগাযোগের বাইরে রয়েছে। মেঘনা নদীতে পদ্মাসেতুর চেয়েও বড় সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ সেতুটি নির্মিত হলে নদীমাতৃক বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ফেরিমুক্ত সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

জানতে চাইলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান আজকালের খবরকে বলেন, বাংলাদেশের যে ভৌগোলিক বিভাজন পদ্মাসেতু সেই বিভাজনকে মুক্ত করে একটি একীভূত অর্থনীতিতে দেশকে নিয়ে যাবে। পদ্মাসেতুকে শুধু একটা সেতু এবং যোগাযোগ করিডর হিসেবে চিন্তা করলে হবে না, এটাকে (সেতু) অর্থনৈতিক করিডোর চিন্তা করতে হবে। পদ্মাসেতুর মাধ্যমে আমরা ট্রান্সপোর্ট কানেকটিভিটি, ইনভেস্টমেন্ট কানেকটিভিটি, ট্রেড কানেকটিভিটি, জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ স্থাপন-ত্রিমাত্রিক সংশ্লেষণ করতে পারবো। পদ্মাসেতু মোংলা ও পায়রা পোর্ট আমাদের অর্থনীতির মূল সঞ্চালক হিসেবে কাজ করবে। এই সেতু অর্থনৈতিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে উপআঞ্চলিক বিভিআইএনের (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল) সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের মূল চালিকাশক্তি হবে। পদ্মাসেতুকে কাজে লাগিয়ে আমরা একটা উপআঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট গঠন করতে পারবো। 

তিনি আরো বলেন, পদ্মার ওপারে ২১ জেলার মধ্যে ১৭টিতে অর্থনৈতিক বিশেষ জোন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক করার কথা। ট্রান্সপোর্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিনিয়োগ করতে পারলে সেতু নির্মাণের ১৯ শতাংশ খরচ ১৫ বছরে তোলা যাবে। জিডিপি দুই দশমিক ছয় শতাংশ বাড়বে। স্পেশাল ইকোনমিক জোন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, ট্যুরিজম হাবের জন্য প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করতে হবে। ফিন্যানসিয়াল ইন্সর্টুমেন্ট, ব্যাংকিং সুবিধা, ঋণ সুবিধা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সমান্তরাল উদ্যোগ নিতে হবে। এ উদ্যোগ নিলে সেতুর যে প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন সম্ভব।  

পদ্মাসেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা পর্যন্ত ২৪৬ কিলোমিটার সড়কপথ ফেরিমুক্ত হবে। রাজধানীর পাশ দিয়ে প্রবাহিত বুড়িগঙ্গা নদীর পোস্তোগলায় ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী’ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এ সেতু হয়ে পদ্মাসেতুর সংযোগ সড়ক এক্সপ্রেস ওয়েতে মিলিত হয়েছে। বুড়িগঙ্গা নদীতে আলুবাজার এলাকায় আরো একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। পদ্মাসেতু পর্যন্ত ধলেশ্বরী নদীতে পর পর দুটি সেতু, ইছামতি নদীতে এবং মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের কাছে মুন্সীগঞ্জ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। পদ্মাসেতুর ওপারে মাদারীপুরের আড়িয়াল খাঁ নদীর উপর ‘হাজী শরীয়তুল্লাহ সেতু’ নির্মাণ করা হয়েছে। ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের টেকেরহাটে কুমার নদীতে ‘টেকেরহাট সেতু’। বরিশালের দোয়ারিকা নদীর উপর ‘এমএ জলিল সেতু’, শিকারপুর নদীর উপর ‘ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু’ বিভাগীয় শহর বরিশাল ফেরিমুক্ত সড়কযোগাযোগ যুক্ত হয়েছে। 

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু আজকালের খবরকে বলেন, পদ্মাসেতু চালুর মাধ্যমে রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি সড়কযোগাযোগ স্থাপন হবে। পায়রাবন্দর দিয়ে বিদেশে আমদানি-রপ্তানি সহজ হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের শিল্প উদ্যোক্তারা বরিশালে অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করেছেন। গার্মেন্টসসহ অন্যান্য ফ্যাক্টরি এখানে নিয়ে আসবেন। 

তিনি আরো বলেন, দক্ষিণাঞ্চল ইলিশের জন্য বিখ্যাত। মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাছের ট্রাক ফেরিঘাটে দুই-তিন দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। এখন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে দেশের যেকোনো প্রান্তে মৎস্য পরিবহন করতে পারবেন। দক্ষিণাঞ্চলের সর্বত্র এখন তরমুজ হয়। আটঘরকুড়িয়ানার পেয়ারা বিখ্যাত। সময়মতো পরিবহন করতে না পারায় কৃষকের উৎপাদিত ফসল ক্ষেতে পচে নষ্ট যায়। পদ্মাসেতুর মাধ্যমে এখন সহজে পরিবহন করা সম্ভব হবে। কম দামে মানুষ কিনতে পারবেন। কৃষিতে আমরা লাভবান হবো। দক্ষিণের পর্যটন শিল্পও বিকশিত হবে। যেহেতু কুয়াকাটা এমন একটি সৈকত যেখানে সূর্য উদয় ও সূর্যাস্ত দুটিই উপভোগ করা যায়। সেতুকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের উদ্যোক্তরা কুয়াকাটায় নতুন করে বিনিয়োগ শুরু করেছেন। 

বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের কীর্ত্তনখোলা নদীতে  ‘শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু’, লেবুখালীতে পায়রা নদীতে ‘পায়রা সেতু’, পটুয়াখালীর লাউকাঠি নদীর ওপর ‘পটুয়াখালী সেতু’ নির্মাণ করা হয়েছে। পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের কলাপাড়ার আন্ধারমানিক নদীর উপর ‘শেখ কামাল সেতু’, সোনাতলা নদীর উপর ‘শেখ জামাল সেতু’ এবং শিববাড়িয়া নদীর উপর ‘শেখ রাসেল সেতু’ নির্মাণ করা হয়েছে। বরিশালের বাকেরগঞ্জ হয়ে উপকূলের আরেক জেল বরগুনাও ফেরিমুক্ত। এ জেলার সঙ্গে কুয়াকাটার ফেরিমুক্ত সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পায়রা নদীতে একটি সেতু নির্মাণে সমীক্ষা চলছে।

সাগরকন্যা পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী আসনের (পটুয়াখালী-৪) এমপি মো. মহিবুর রহমান আজকালের খবরকে বলেন, পদ্মাসেতু নির্মাণ একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সড়ক যাতায়াতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের অপবাদকে চ্যালেঞ্জ করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করেছেন। ঢাকা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন ফেরিবিহীন সড়কপথে মানুষ যাতায়াত করতে পারবেন। কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকের ঢল নামবে। অর্থনৈতিকভাবে এলাকা অনেক উন্নত হবে। অনেক শিল্পপতি আমার নির্বাচনী এলাকায় বিনিয়োগ করতে শুরু করেছেন। লাখো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি লাভ করবে।

তিনি আরো বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার আর্শীর্বাদপুষ্ট কলাপাড়ায় পায়রা পোর্ট, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, শের-ই বাংলা নৌঘাটি, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল সেতু নির্মাণ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। পদ্মাসেতু চালুর পরে এসব প্রতিষ্ঠান আরো সমৃদ্ধি লাভ করবে। যাতায়াত সহজ হবে। বিনোয়োগ বৃদ্ধি পাবে। অর্থনৈতিক চাঞ্চল্য লাভ করবে আমার এলাকা।  

খুলনা-বাঘেরহাট-পিরোজপুর-বরিশাল মহাসড়কের ভৈরব নদীতে ডোরাটানা ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। একই মহাড়সকের পিরোজপুরের পশ্চিম পাশে বলেশ্বর নদীতে ‘বলেশ্বর সেতু’ ও পূর্ব পাশে বেকুটিয়ায় কচা নদীতে নির্মাণ করা হয়েছে চীন বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু। ঝালকাঠির গাবখান চ্যানেলে নির্মাণ করা হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ উঁচু সেতু; যেটি ‘গাবখান সেতু’। এ সেতু বিভাগীয় শহর বরিশালকে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ফেরিমুক্ত সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করেছে।

পদ্মাসেতু পার হয়ে ভাঙ্গা-গোপালগঞ্জ-বাঘেরহাট-খুলনা মহাসড়কের কালিগঙ্গা নদীতে ‘মোল্লারহাট সেতু’ নির্মাণ করা হয়েছে। গোপালগঞ্জের শংকরপাশা ও নড়াইলের কালনাঘাটের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে মধুমতি নদী। এ নদীর উপরই নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম ছয় লেনের ‘কালনা সেতু’। কালনা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়ে এখন চালুর অপেক্ষা। এ সেতু বেনাপোল, যশোর, খুলনা, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সড়কযোগাযোগ স্থাপিত হবে। এশিয়ান হাইওয়ের আওতায় ভারতের সঙ্গে ঢাকার সরাসরি সড়কযোগাযোগ চালু হবে। 

আন্তজার্তিক পানিসম্পদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আইনুন নিশাত আজকালের খবরকে বলেন, পদ্মার মতো শক্তিশালী নদীতে সাহস করে সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া একটি বিরাট সিদ্ধান্ত। নদীমাতৃক বাংলাদেশে এটি বিশাল অর্জন। পদ্মা, যমুনা ও লালন শাহ- এই তিনটি সেতু নির্মাণ করে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে আমরা সাহসী হবো। 

তিনি আরো বলেন, পদ্মাসেতু দক্ষিণাঞ্চলে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। দক্ষিণাঞ্চল হবে শিল্পসমৃদ্ধ নগরী; যা দেশের অর্থনীতিতে বিস্তর প্রভাব ফেলবে। পদ্মাসেতুকে কেন্দ্র করে অর্থনীতিতে ঘুরে দাঁড়াবে বরিশালসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল। 

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক ফেরিমুক্ত। খুলনার পাশ দিয়ে প্রবাহিত রূপসা নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে ‘খান জাহান আলী সেতু’। এ সেতু শিল্প নগরী খুলনার সঙ্গে ঢাকার সরাসরি সড়ক নেটওয়ার্ক যুক্ত করবে পদ্মাসেতু। প্রাণ ফিরে পাবে খুলনার রুগ্ন শিল্প। কুষ্টিয়ার পাশ দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি নদীতে গড়াই ও মীর মোশাররফ হোসেন সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। ফরিদপুর-মাগুরা-ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, মহাসড়কের মধুমতি নদীতে ‘কামারখালী ব্রিজ’ নির্মাণ করা হয়েছে। ঝিনাইদাহ-যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে চিত্রা,  মধুমতি, কপোতাক্ষ, বেতনা নদীতে ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। 

পাবনার ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদীতে ‘লালন শাহ সেতু’ উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে ফেরিমুক্ত মিতালি করেছে। লালন শাহ সেতু হয়ে যশোর, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ফেরিমুক্ত সড়কযোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। পদ্মাসেতু ফরিদপুর ও রাজবাড়ি জেলা, শরীয়তপুরসহ দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলা ফেরিমুক্ত সড়কে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত হবে।
 
খুলনার চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মোস্তফা জেসান ভুট্টো আজকালের খবরকে বলেন, এখানে অর্থনৈতিক জোন হচ্ছে। আগে থেকেই ইপিজেড আছে। মোংলা বন্দরের আশপাশের সব জায়গা বড় বড় শিল্পপতিরা নিয়ে নিয়েছেন। এখানে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। মোংলা, বেনাপোল, ভোমরা বন্দর সচল হয়ে যাবে। সড়কপথে পণ্য পরিবহনে খরচ ও সময় কমে যাবে। খুলনা বিভাগের চিংড়ি বড় শিল্প। চিটাগাং থেকে রপ্তানি হয়। সেতু চালুর মাধ্যমে কনটেইনার মোংলা বন্দর থেকে রপ্তানি হবে। খুলনা অঞ্চলে এখন পর্যন্ত কৃষি শিল্প গড়ে উঠেনি। বর্তমানে বড় বড় অ্যাগ্রো ফার্ম হচ্ছে। বেশিরভাগ ইমপোর্টার ঢাকাকেন্দ্রিক। সেখান থেকে পরিবেশন করেন। পদ্মাসেতু চালু হওয়ায় রাজধানীর সঙ্গে মোংলা সমুদ্র বন্দর, বেনাপোলসহ স্থল বন্দরগুলোর দূরত্ব কমে আসবে। কানেকটিভিটি বাড়বে। কিছু প্রতিবন্ধকতাও আছে। ভাঙ্গা থেকে মোংলা পর্যন্ত এখনো দুই লেনের সড়ক। এ সড়কে যানজট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সড়কে লোড ক্যাপাসিটিও নেই। বর্তমানে ৩০-৩৫ টনের লরি চলতে পারে। পদ্মাসেতু চালুর পর ১৫০ টনের লরি চলবে। দুই দিন পর পর সড়ক নষ্ট হয়ে যাবে। এখনই রোড ক্যাপাসিটি বাড়তে হবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে বলা হয় বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার ‘ধমনী’। এ সড়ক ধরেই বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, তিন পার্বত্যজেলা, প্রস্তাবিত মেঘনা বিভাগের সব জেলায় যেতে হয়। ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জসহ চট্টগ্রাম ও মেঘনা বিভাগের ১৩ জেলা এখন ফেরিমুক্ত সড়কপথ। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শীতালক্ষ্যা নদীর উপর নির্মাণ করা হয়েছে ‘কাঁচপুর সেতু’। এ সেতু পার হয়ে নারায়ণগঞ্জের পূর্বপ্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে মেঘনা নদী। জাপানের আর্থিক এবং কারিগরি সহযোগিতায় মেঘনা নদীর উপর নির্মিত সেতুর নাম ‘জাপান-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু’। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার এন-১ সড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। এ জন্য মেঘনা ঘাট এলাকায় সৃষ্টি হতো অসহনীয় যানজট। যানজটমুক্ত করতে মেঘনা সেতুর পাশেই ‘দ্বিতীয় মেঘনা সেতু’ নির্মাণ করা হয়েছে। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মেঘনার শাখা গোমতি নদীর উপর নির্মাণ করা হয়েছে ‘দাউদকান্দি সেতু’। এ সেতু চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, রাঙ্গামাটি জেলা ফেরিমুক্ত সড়কপথ। চট্টগ্রাম শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কর্ণফুলি নদীতে নির্মাণ করা হয়েছে শাহ আমানত ও কালুরঘাট সেতু। এ সেতু দুটি বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার ও দুর্গম পার্বত্য জেলা বান্দরবান জেলাকে ফেরিমুক্ত সড়কপথে যুক্ত করেছে। রাজধানী থেকে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের টেকনাফ পর্যন্ত ৪৭৫ কিলোমিটার সড়কপথ ফেরিমুক্ত। এর ফলে দেশের ব্যবসা, পর্যটন ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশাল প্রভাব ফেলেছে। 

নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ধলেশ্বরী নদীর উপর নির্মাণ করা হয়েছে ‘মুক্তারপুর সেতু’। এ সেতু নির্মাণের ফলে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের নতুন দীগন্ত সূচিত হয়েছে। কুমিল্লা শহর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে সিলেট সড়কপথ ফেরিমুক্ত। আখাউড়া হয়ে ভারতের ত্রিপুরা ও আগরতলা সড়কপথে যেতে কোনো ফেরি পার হতে হয় না।

রাজধানী থেকে নরসিংদী হয়ে সিলেট মহাসড়ক ফেরিমুক্ত হয়েছে বহু বছর আগে। নারায়ণগঞ্জের পাশ দিয়ে প্রবাহিত শীতালক্ষ্যা নদী। রূপগঞ্চের তারাবো এলাকায় নির্মিত ‘সুলতানা কামাল সেতু’ ও ‘কাঞ্চন সেতু’ নারায়ণগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ককে ফেরিমুক্ত করেছে। কিশোরগঞ্জের ভৈরবের পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর নির্মাণ করা হয়েছে ‘জগন্নাথপুর সেতু’। 

ঢাকা বিভাগকে থেকে দেশের পূর্বাঞ্চলকে বিভক্ত করেছে মেঘনা নদী। কিশোরগঞ্জের ভৈরব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদীর উপর নির্মাণ করা হয়েছে ‘সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু’। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুরে তিতাস নদীর উপর নির্মাণ করা হয়েছে ‘তিতাস সেতু’ বা ‘শাহবাজপুর সেতু’। এ মহাসড়ক হবিগঞ্জকে যুক্ত করেছে ফেরিমুক্ত সড়ক নেটওয়ার্কে।

সিলেট মহসড়কে খোয়াই নদী, বিজনা নদী ও কালনী নদীর উপর সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কুশিয়ারা (মরা) নদীতেও ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। সিলেটের সুরমা নদীর উপর ‘ক্বীন ব্রিজ’, ‘অ্যাডমিরাল এম এ খান সেতু’ ও ‘কাজীর বাজার সেতু’ নির্মাণ করা হয়েছে। সিলেট-জাফলং বাইপাস সড়কে সুরমা নদীর উপর নির্মাণ করা হয়েছে ‘হজরত শাহ পরান সেতু’। সিলেট-তামাবিল সড়কের সাড়িয়াঘাট এলাকায় সাহাড়ি-গৌয়ান নদীর উপর নির্মাণ করা হয়েছে সারিঘাট সেতু। সিলেট মহাড়ক থেকে শ্রীমঙ্গল হয়ে মৌলভীবাজার জেলা ফেরিমুক্ত। দেশের পূর্ব সীমান্তের উপজেলা কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, বিয়ানীবাজার ফেরিমুক্ত। সিলেট শহরের আগে মহাসড়ক থেকে পশ্চিম দিকে সুরমার বাঁকে বাঁকে নির্মিত সড়ক হাওরবেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জকে ফেরিমুক্ত করেছে। 

প্রমত্তা যমুনা নদীর একপাড়ে টাঙ্গাইল। অন্যপাড়ে সিরাজগঞ্জ তথা বাংলার আরেক অঙ্গ উত্তরবঙ্গ। উত্তরবঙ্গের মানুষের দুঃখ, দুর্দশা লাগবে নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু। এই সেতু ফেরিমুক্ত সড়কপথই তৈরি হয়নি; সেতু দিয়ে গ্যাস লাইনে যুক্ত হয়েছে উত্তরবঙ্গ। বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের ফলে উত্তর বঙ্গে গড়ে উঠেছে শিল্প কারাখানা। দূর হয়েছে মঙ্গা। ‘বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু’ উত্তরবঙ্গের রাজশাহী ও রংপর বিভাগের ১৬ জেলা ফেরিমুক্ত হয়েছে। রাজশাহী-বগুড়া মহাসড়কের আত্রাই নদীতে সেতু নির্মাণ করায় বিভাগের আট জেলা (রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট) ফেরিমুক্ত সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোহনন্দ নদীতে ‘শেখ হাসিনা সেতু’সহ বিভাগের অভ্যন্তরে ছোট ছোট অনেকগুলো সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জে-পাবনা সহসড়কের গুমানি নদীতে নির্মাণ করা হয়েছে বাঘাবাড়ি বড়াল ব্রিজসহ এ সড়কে একাধিক ব্রিজ নির্মাণ করায় পাবনা জেলা ফেরিমুক্ত হয়েছে। 

তিস্তা ও ধরলা নদীর মাঝখানে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার অবস্থান। তিস্তা নদীর উপর সেতু নির্মাণের ফলে ফেরিমুক্ত সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে এ দুটি জেলা। দিনাজপুর-ফুলবাড়ি সড়কের আত্রাই নদীতে নির্মাণ করা হয়েছে ‘মোহনপুর সেতু’। বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের বাঙালি নদীতে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। দিনাজপুর হয়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবন্দ স্থলবন্দর মহাসড়কে একাধিক ছোট ছোট ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এসব সেতু নির্মাণের ফলে রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, রংপুর জেলা রাজধানীর সঙ্গে ফেরিমুক্ত সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগে বদলে গেছে উত্তরের দুই বিভাগের জীবনযাত্রার চিত্র।  

টঙ্গীতে তুরাগ নদীতে নির্মিত ব্রিজ রাজধানীর সঙ্গে গাজীপুর জেলাকে যুক্ত করেছে ফেরিমুক্ত সড়ক। গাজীপুরের ভাওয়াল হয়ে কাপাসিয়া-নরসিংদী মহাসড়কের শীতলক্ষ্যা নদীর উপরে ‘ফকির মজনু শাহ সেতু’ নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকা-গাজীপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ফেরিমুক্ত। ফলে সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের শিল্প কারখানা। 

ময়মনসিংহ শহরের পাশে ব্রহ্মপুত্র নদীতে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এ  সেতু নেত্রকোনা জেলা, পূর্ব সীমান্তের উপজেলা দুর্গাপুর, নালিতাবাড়ি হয়ে শেরপুর জেলা ফেরিমুক্ত সড়ক। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নরসুন্দা নদীতে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ বাইপাস সড়ক ও কিশোরগঞ্জ-ভৈরব সড়কে একাধিক ছোট ছোট সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। ময়মনসিংহ শহর থেকে মুক্তগাছা উপজেলা হয়ে জামালপুর জেলা শহর ফেরিমুক্ত সড়কপথ। ময়মনসিংহ-মুক্তাগাছা-মধুপুুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ফেরি নেই। জামালপুর শহরের কাছে ব্রহ্মপুত্র নদীতে নির্মিত সেতু শেরপুর জেলাকে ফেরিমুক্ত করেছে। দেশের উত্তর সীমান্তের ঝিনাইগাতি পর্যন্ত ফেরিমুক্ত সড়ক।  

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী আজকালের খবরকে বলেন, পদ্মাসেতু দেশের জন্য একটি মাইলফলক। রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ফেরিমুক্ত সড়কযোগাযোগ চালু হবে। রাজধানী থেকে প্রতিদিন আট থেকে ১০ হাজার গাড়ি পদ্মাসেতু হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় আসা-যাওয়া করবে। রাজধানীর প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ী ও বাবুবাজার ব্রিজ সড়ক যানজট নিরসন ও গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের ধারবাহিক উন্নয়নের প্রচেষ্টায় ফেরিমুক্ত হচ্ছে সড়কপথ। ৬৩ জেলা ফেরিমুক্ত সড়ক নেটওয়ার্কের বিষয়ে তিনি বলেন, আগে ফেরি ঘাটে দীর্ঘ সময় নষ্ট হত। দিনের পর দিন পণ্যবাহী ট্রাক আটকে থাকতো। এ দুর্ভোগ থেকে বেরিয়ে আসবে যাত্রীরা। 

চাঁদপুর-শরীয়তপুরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মেঘনা নদীতে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এ সেতু নির্মাণ হলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সঙ্গে বরিশাল, খুলনা ও উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত ফেরিমুক্ত সড়কযোগাযোগ স্থপিত হবে। 

চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর, শরীয়তপুর, ভাঙ্গা কুষ্টিয়ার লালন শাহ সেতু দিয়ে উত্তরবঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। কয়েকশ কিলোমিটার পথ কমে যাবে। রাজধানী এড়িয়ে দেশের পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গ এশিয়ান হাইওয়েতে ফেরিমুক্ত সড়কযোগাযোগ যুক্ত হবে। তিনটি সমুদ্রবন্দরের মধ্যে সড়কপথে পণ্য পরিবহনে সময় কমে আসবে। চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে ভারত, নেপাল ও ভুটানে পণ্য পরিবহন সড়ক নেটওয়ার্ক যুক্ত হবে।    

আজকালের খবর/আরইউ


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.net, www.ajkalerkhobor.com