ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  বৃহস্পতিবার ● ১৯ মে ২০২২ ● ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
ই-পেপার  বৃহস্পতিবার ● ১৯ মে ২০২২
শিরোনাম: খালিয়াজুরীতে বজ্রপাতে দু'জনের মৃত্যু       ধান বোঝাই ট্রাক উল্টে ৩ শ্রমিক নিহত       চেয়ারম্যানের ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার পর যুবকের আত্মহত্যা       বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তে চায় যুক্তরাষ্ট্র: পিটার হাস       বিশ্বকাপের কাজে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার       সিলেটে বন্যার পানি বাড়ছে, আতঙ্কে বানভাসি মানুষ        হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় বেড়ে ২২ মে পর্যন্ত      
রুশ আগ্রাসনে ইইউ’র নিষেধাজ্ঞা ও বাস্তবতা
রায়হান আহমেদ তপাদার
Published : Saturday, 14 May, 2022 at 2:20 PM

ইউক্রেনের যুদ্ধ এমনকি বছরের পর বছর চলতে পারে এবং তার জন্য পশ্চিমা প্রতিরক্ষা জোটকে প্রস্তুত হতে হবে বলে সতর্ক করেছেন ন্যাটোর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মিরচা জুয়ানা। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার ৬৪তম দিনে জুয়ানা বলেন, এটা এখন পরিষ্কার যে এই যুদ্ধের জন্য আগামী কয়েকটা দিন এবং কয়েকটি সপ্তাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই যুদ্ধ দীর্ঘদিন চলতে পারে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর কয়েকটি বিষয়ের ওপর তা নির্ভর করবে। ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় শীর্ষ এই কর্মকর্তা বলেন, যতদিনই এই যুদ্ধ চলুক না কেন, শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনই এই যুদ্ধে জয়ী হবে। সম্ভবত রণাঙ্গনেই এই যুদ্ধের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে এবং আশা করা করা যায় ইউক্রেনই ওই যুদ্ধে জিতবে। ন্যাটো মহাসচিব বলেন, এ যুদ্ধে ইউক্রেনকে দীর্ঘ সময়ের জন্য সাহায্য জুগিয়ে যেতে ন্যাটো প্রস্তুত, এবং ন্যাটো দেশগুলো যে মানের অস্ত্র ব্যবহার করে তেমন অস্ত্র ইউক্রেনকে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে কেন ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে এখন স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে যে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সহজে থামবে না। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ বন্ধে তুরস্কের মধ্যস্থতায় যে মীমাংসা আলোচনা শুরু হয়েছিল তা কার্যত এখন থেমে গেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেজ গত কয়েকদিন ধরে আঙ্কারা, মস্কো এবং কিয়েভ সফর শেষ করার পর শান্তি প্রক্রিয়ায় এই অনিশ্চয়তায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং তার বেশকিছু ন্যাটো শরিক দেশের মধ্যে এই মনোভাব জোরদার হচ্ছে যে রাশিয়াকে এই যুদ্ধে হারাতে হবে এবং তারা মনে করছে ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করলে সেটা সম্ভব। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস সম্প্রতি স্পষ্ট করে বলেছেন রাশিয়াকে ইউক্রেনের প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা ছাড়তে হবে, এমনকি ক্রাইমিয়াও ছাড়তে হবে। এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী কায়া কালাস বলেছেন, যদি কোনো শান্তি চুক্তি হয়, তাহলে রাশিয়াকে তার পুরনো সীমানায় ফিরে যেতে হবে। তাহলেই এই আগ্রাসনের পরিণতি তারা বুঝবে। 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও এখন বারবার জোর গলায় বলছেন রাশিয়াকে তিনি এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বেন না। এপ্রিলের ১০ তারিখে তিনি বলেন, পুতিনের সাথে মীমাংসা আলোচনা তিনি চিরতরে প্রত্যাখ্যান করবেন যদি রাশিয়া দনবাসে স্বাধীনতার জন্য গণভোটের কোনো উদ্যোগ নেয়। অন্যদিকে পুতিন বদ্ধপরিকর যে পুরো দনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ তিনি চান। দনবাস ছাড়াও ইউক্রেনের দক্ষিণের কিছু অংশ নেওয়ার জন্য তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন। এ নিয়ে যে তিনি পিছু হটবেন না তা তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের কিয়েভ সফরের সময় ওই শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আরেকবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তার অর্থ, মীমাংসার সম্ভাবনা দ্রুত দূরে সরে যাচ্ছে এবং সেই সাথে এই ধারণা জোরদার হচ্ছে যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সহসা শেষ হওয়ার নয়। তাই ইউক্রেনে হামলার জেরে রাশিয়ার ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলো। নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ)। এবার নিষেধাজ্ঞার তালিকা আরো দীর্ঘ করতে যাচ্ছে ইউরোপের দেশগুলোর এই জোট। স্থানীয় সময় গত বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার জ্বালানি তেল, ব্যাংক, গণমাধ্যম ও ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে নতুন প্রস্তাব আনা হয়েছে। ইইউয়ের সদস্য দেশগুলোর অনুমোদন পেলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। নিষেধাজ্ঞার নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাবে ইইউ। উরসুলা ফন ডার লিয়েনের ভাষ্যমতে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেলের আমদানি বন্ধ করা হবে। আর ২০২২ সালের শেষ নাগাদ বন্ধ হবে পরিশোধিত তেলের আমদানি। তেলের পাশাপাশি রাশিয়ার রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। তবে ইইউয়ের প্রস্তাবে গ্যাস আমদানি বন্ধের বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর জন্য রাশিয়ার গ্যাসের বিকল্প উৎস খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। 

এদিকে আর্থিক লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সুইফট থেকে রাশিয়ার তিনটি ব্যাংককে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান। ব্যাংকগুলো হলো এসবার ব্যাংক, ক্রেডিট ব্যাংক অব মস্কো ও রাশিয়ান অ্যাগ্রিকালচার ব্যাংক। এসবার ব্যাংক রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যাংক। নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবে রয়েছে রুশ সরকার পরিচালিত তিনটি গণমাধ্যমও। এই তিন গণমাধ্যমকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘মিথ্যা প্রচারকারী’ আখ্যা দিয়েছেন উরসুলা ফন ডার লিয়েন। গণমাধ্যমগুলোকে ইইউর কেবল টিভি, স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেট সেবা থেকে বাদ দেওয়া হবে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জানিয়েছেন, রাশিয়ার ৫৮ জন নাগরিকের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। ইউক্রেনের বুচা শহরে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে তাদের অনেকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অনেকে আবার মারিউপোল শহর অবরোধের সঙ্গে জড়িত। ইউক্রেনকে আরো বেশি সামরিক সাহায্য দেওয়ার প্রশ্নে ন্যাটো জোট এবং তাদের মিত্র ৪০টি দেশের মন্ত্রীরা যখন জার্মানিতে এক বৈঠকে বসেছেন, তখন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এর বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পশ্চিমারা ইউক্রেনের কাছে অস্ত্রের চালান পাঠালে রাশিয়া সেখানে হামলা করার অধিকার রাখে। এই সংঘাত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ন্যাটোর বিরুদ্ধে সরাসরি এরকম একটা অভিযোগ তুলেছেন যে, তারা, অর্থাৎ ন্যাটো সামরিক জোট রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটা প্রক্সি ওয়ার বা ছায়াযুদ্ধ শুরু করেছে। উল্লেখ্য, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের এরকম এক আশঙ্কার কথা প্রথম শোনা গিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মুখে। ইউক্রেনের ওপর একটি নো ফ্লাই জোন আরোপের জন্য যখন ন্যাটোর ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছিল, তখন সেটা নাকচ করে দিয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছিলেন, এটা করতে গেলে যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়াকে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে হবে, আর সেটার মানে হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

এখন এই একই আশঙ্কা শোনা যাচ্ছে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে, যখন ন্যাটো ইউক্রেনে তাদের অস্ত্রের চালান আরো বাড়াচ্ছে। তবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রি কুলেবা বলছেন, লাভরভ আসলে পশ্চিমাদের ভয় দেখাতে চাইছেন, কারণ রুশরা বুঝতে পারছে তারা পরাজিত হতে যাচ্ছে। জার্মানির রামস্টেইন বিমান ঘাঁটিতে ৪০টি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং প্রতিনিধিদের যে বৈঠক চলছে, সেটির আয়োজন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনকে সামরিক অস্ত্র দেওয়ার বিরুদ্ধে ন্যাটোকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। জার্মানি বহু বছর ধরে কোন সংঘাত-পূর্ণ অঞ্চলে ভারী অস্ত্র না পাঠানোর নীতি অনুসরণ করতো। তবে ইউক্রেনের বেলায় একই নীতি অনুসরণ করতে গিয়ে জার্মানি বেশ সমালোচনার মুখে পড়ে। এখন তারা সেখান থেকে সরে আসতে যাচ্ছে, জার্মান সরকার এই প্রথম ইউক্রেনের কাছে বিমান-বিধ্বংসী ট্যাংক বিক্রির বিষয়টি অনুমোদন করেছে। কিছু সাবেক জার্মান সামরিক যান, যেগুলো ফেলে রাখা হয়েছিল গত দশ বছর ধরে, এগুলো এখন আপগ্রেড করা হচ্ছে। এরপর এগুলো ইউক্রেন সেনাবাহিনীর কাছে পাঠানো হবে। এর বিস্তারিত জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই বৈঠকে ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ বছর জার্মানরা তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট এরই মধ্যে প্রায় একশো বিলিয়ন ইউরো বাড়িয়েছে। এটাও কিন্তু জার্মানির নীতিতে একটা বড় পরিবর্তন। আর এটাও করতে হয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে। আজভস্টাল ইস্পাত কারখানা এলাকাটিই এখন মারিউপোলে ইউক্রেনীয় প্রতিরোধের সর্বশেষ কেন্দ্র। ইউক্রেনের যুদ্ধ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ন্যাটোর অন্য দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স, তারা ইতোমধ্যে ইউক্রেনকে ভারী সামরিক সাজ-সরঞ্জাম দেওয়া শুরু করেছে। ফরাসিরা দিচ্ছে কিছু সিজার কামান, যেগুলোর রেঞ্জ হচ্ছে প্রায় ৪০ কিলোমিটার। আর ব্রিটেন দিচ্ছে স্টারস্ট্রেক এন্টি এয়ারক্রাফট ক্ষেপণাস্ত্র এবং ট্যাংক। তবে এই বৈঠক থেকে সেরকম বড় কিছু আশা করা হচ্ছে না। 

এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর জন্য কয়েকদফা আলোচনা হয়ে গেছে-যার সবশেষটি হলো ইস্তাম্বুলে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের নেতারা নানা ভাবে পর্দার আড়ালে দুপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ তো চালাচ্ছেনই যার সব খবর সংবাদ মাধ্যমে বিস্তারিত আসে না। দু-পক্ষই এর আগে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে তাদের প্রধান কিছু কিছু অবস্থান বা দাবি তুলে ধরেছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, তারা মস্কোর তোলা নিরপেক্ষতার দাবি বিবেচনা করতে রাজি আছে, তবে ভূখণ্ডের ব্যাপারে কোনো আপোষ করবে না। তাদের ইঙ্গিতটা বোধগম্যভাবেই দনবাস এলাকা এবং ক্রাইমিয়া নিয়ে। দনবাসের দোনিয়েৎস্ক এবং লুহানস্ক এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা চালাচ্ছে রুশ-সমর্থিত বিদ্রোহীরা, আর রাশিয়া ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে অভিযান শুরুর ঠিক আগে এ দুটো এলাকাকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতিও দিয়েছে। তা ছাড়া ২০১৪ সাল থেকেই ক্রাইমিয়া অঞ্চলটি রাশিয়া দখল করে নিয়ে এটিকে তাদের অংশ করে নিয়েছে।

মূল কথা হচ্ছে-এ দুটি এলাকা কিয়েভের সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু ইউক্রেন বলছে, যুদ্ধ বন্ধের ব্যাপারে তাদের দাবির একটি হচ্ছে এসব ভূখণ্ডের ব্যপারে কোনো আপোষ না করা। এর মধ্যে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনের শহরগুলোতে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে, ৪০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বিদেশে পালিয়েছে। এক কোটি লোক দেশের ভেতরে ঘরছাড়া হয়েছে। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে ইউক্রেনকে পশ্চিমা ন্যাটো জোটের সম্প্রসারণের বাইরে থাকতে হবে, নিতে হবে নিরপেক্ষ বা ‘নির্জোট’ অবস্থান। কিছু বিশ্লেষক বলেছেন, এটিই রাশিয়ার ইউক্রেনে অভিযান চালানোর প্রাথমিক উদ্দেশ্য। জাপানের ওয়াসেদা ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজের একজন বিশেষজ্ঞ পাস্কাল লোটাজ বলছেন, রাশিয়া চায় যে ইউক্রেন তার সংবিধানে এমন একটি অঙ্গীকার সংযোজন করবে এবং রাশিয়ার সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করে এই অবস্থানকে জোরদার করবে।

২০১৪ সালে ক্রাইমিয়ায় ঢুকে অভিযান চালায় এবং এলাকাটি এখন কার্যত মস্কোর শাসনাধীন। কিয়েভ যদি এটা মেনে নেয়-তাহলে ইউক্রেন তার একটি বড় ভূখণ্ড হারাবে। ১৯৯৭ সালে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল যাতে ক্রাইমিয়ার ওপর ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। অবশ্য তখনো ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতায় আসেননি। যুদ্ধ বন্ধ করার শর্ত হিসেবে ক্রেমলিন আরো যা দাবি করছে তার একটা হলো-ইউক্রেনে রুশ ভাষার ব্যবহার যে সংরক্ষিত হবে তার নিশ্চয়তা। ইউক্রেনে ২০১৪ সালে মস্কোর সাথে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে ওঠার পর থেকেই রুশ ভাষা রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। ২০১৭ সালে ইউক্রেনের আদালত স্কুলে রুশ ভাষা শেখানো নিষিদ্ধ করে। তার পর থেকে দেশটিতে আরো কিছু আইন হয়েছে যার লক্ষ্য ইউক্রেনে রুশ ভাষা ব্যবহার কমানো। জানুয়ারি মাস থেকে নিয়ম করা হয় যে সেখানে সকল সংবাদপত্র ও সাময়িকী ইউক্রেনীয় ভাষায় প্রকাশ করতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব বিষয়ে ভ্লাদিমির পুতিনের দাবি যাই হোক না কেন-রাশিয়া আর ইউক্রেনের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি নিয়ে দরকষাকষিতে অনেক সময় লেগে যাবে। কিন্তু একটা শান্তি চুক্তি আসলে দুটি দেশের জন্যই দরকার। কারণ তাদের বেসামরিক মানুষের মৃত্যু বন্ধ করতে হবে, শহরগুলোর ধ্বংসের ফলে যে গুরুতর বাস্তব ক্ষতি-তার হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। যেভাবে দেশটি থেকে লাখ লাখ মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালাচ্ছে তাও ঠেকাতে হবে। অন্যদিকে রাশিয়াও একটি শান্তি চুক্তি চাইবে কারণ এ যুদ্ধে বড় সংখ্যায় তাদের সৈন্যরা মারা যাচ্ছে। তা ছাড়া পশ্চিমা দেশগুলো যেসব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা এর মধ্যেই সাধারণ রুশদের জীবনে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এ ক্ষতিগুলোও তাদের ঠেকাতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব বিষয়ে ভ্লাদিমিরি পুতিনের দাবি যাই হোক না কেন-রাশিয়া আর ইউক্রেনের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি নিয়ে দরকষাকষিতে অনেক সময় লেগে যাবে।

লেখক: কলাম লেখক। 
আজকালের খবর/আরইউ


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.net, www.ajkalerkhobor.com