ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  রোববার ● ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ● ১০ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার  রোববার ● ২৩ জানুয়ারি ২০২২
শিরোনাম: দেড় মাস পর দেখা মিলল ডা. মুরাদ হাসানের       এবার গণঅনশনের ঘোষণা শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের       শিক্ষার্থীদের জন্য আলোচনার দ্বার খোলা রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী       নিজস্ব সম্পদে বুদ্ধিদীপ্ত জ্বালানি মিশ্রণ নিশ্চিত করতে হবে        পুলিশ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে : প্রধানমন্ত্রী        করোনা রোধে স্কুল-কলেজের জন্য ১১ নির্দেশনা       শপথ নিলেন সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ      
পর্যটনকেন্দ্রে ছবির ফাঁদ
আল-মামুন
Published : Friday, 14 January, 2022 at 7:52 PM

পৃথিবীর মানচিত্রে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে দক্ষিণ এশিয়ার ছোট্ট একটি দেশ বাংলাদেশ। সমুদ্র-পাহাড়-নদী- সব পর্যটন আকর্ষণই আছে এই দেশটিতে। প্রিয় এই দেশটিকে জানার জন্য প্রয়োজন দেশ ভ্রমণ। অপরূপ সৌন্দর্যের এই দেশের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই রয়েছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক ঘুরে বেড়ানোর জন্য প্রতিবছর ভিড় জমিয়ে থাকেন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যুগে যুগে ভ্রমণকারীদের করেছে মুগ্ধ। এর মধ্যে প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহাসিক মসজিদ এবং মিনার, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, পাহাড়, অরণ্য, বিস্তীর্ণ হাওর, চা বাগান, এমনকি মেঘের রাজ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলার মতো চোখ জুড়ানো স্থান রয়েছে। 

২০২০ সালের মার্চ থেকে করোনা পরিস্থিতির কারণে মানুষ কোথাও বেড়াতে যেতে পারেনি। করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ায় খুলে দেওয়া হয়েছে পর্যটন কেন্দ্রগুলো। দীর্ঘদিন ভ্রমণে বের হতে না পারার অস্বস্তি কাটাতে পর্যটন কেন্দ্রে আসার জন্য মানুষ মুখিয়ে ছিল। সরকারের স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা মেনেই পর্যটকদের সেবা দিতে প্রস্তত ছিল কতৃপক্ষ। গেল ডিসেম্বরে শীতের ছুটিতে তাই অনেকেই ছুটে যান তাদের পছন্দের জায়গাগুলোতে। পরিবার-পরিজন ও স্বজন কিংবা ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে বেড়াতে গিয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখতে কে-না চায়। আর তাই আনন্দঘন স্মৃতি ফ্রেমে বন্দী করতে অনেকেই মেতে ওঠেন ফটোসেশনে। পর্যটকদের এ চাহিদাকে পুঁজি করে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দিনদিন বাড়ছে ফটোগ্রাফারের সংখ্যা। পর্যটকদের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে হর-হামেষায় ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছিন্নমূল ও অনভিজ্ঞ কিছু কিশোর স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ফটোগ্রাফি করছে। এরমধ্যে অনেকেরই ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতাতো নেই বরং আদব-কায়দারও কোনো বালাই নেই। একজন পর্যটকের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, কীভাবে আচরণ করতে হয় সেটাও তারা জানে না। আবার এদের মধ্যেই অনেকেই ফটোগ্রাফির আড়ালে পর্যটকদের মামলামাল চুরির সাথেও জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। অন্যদিকে না বলা স্বত্তেও একাধিক ছবি তুলে পর্যটকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করা তাদের নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের দেখে ফটোগ্রাফাররা ছুটে আসেন ছবি তুলে দেওয়ার জন্য। পর্যটক না করে দিলেও তারা কিছু ছবি তুলে দেওয়ার জন্য জোড়াজুড়ি করতে থাকে। প্রতিটি ছবির বিনিময়ে তারা পাঁচ টাকাকে অনেক সামান্য বলে উপস্থাপন করে। পর্যটকরা ভাবে পাঁচ টাকাই তো, এ তেমন কিছুই নয়। এভাবেই পা দেন ফটোগ্রাফারদের ফাঁদে। ছবি তোলার সুযোগ পেয়ে একের পর এক ছবি তুলতে থাকেন ফটোগ্রাফার। ছবি তোলা শেষে যখন জানতে চাওয়া হয় ছবির সংখ্যা, সেই সংখ্যা শুনে যেন রীতিমতো চোখ কপালে উঠে যায় পর্যটকদের। আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টার ব্যবধানে তারা তুলে ফেলেন পাঁচশ-ছয়শ ছবি। যার মূল্য দাঁড়ায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। ফটোগ্রাফাররা সব ছবি নেওয়ার জন্য পর্যটকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। পর্যটকরা সব ছবি নিতে না চাইলে তারা ধমক দেন। একই ছবি একাধিকবার থাকায় বেছে বেছে ছবি নিতে চাইলে ফটোগ্রাফাররা জুড়ে দেয় আর এক শর্ত। বেছে বেছে ছবি নিলে প্রতিটি ছবির বিনিময়ে পরিশোধ করতে হবে দশ টাকা করে। এতে পর্যটক পড়েন আর এক ফাঁদে। ছবি বাছাই করলো কি করলো না দু-চারটি ছবি ডিলিট করে তারা তখন দাবি করে তার থেকে আরো বেশি টাকা। পর্যটক এত টাকা দিতে রাজি না হলে তখন রীতিমতো তাদের সাথে পর্যটকদের কথা কাটাকাটি হয়। এভাবে এক পর্যায়ে ফটোগ্রাফাররা তার সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। এই হলো বর্তমান পর্যটন কেন্দ্রগুলোর চিত্র। তারা মূলত ডিএসএলআরকে পুঁজি করে কৌশলে পর্যটকদের দামি দামি মোবাইল টাকা পয়সা ও জিনিসপত্র হাতিয়ে নিচ্ছে।

ফটোগ্রাফারের এমন আচরণ প্রায়ই পর্যটকদের আনন্দ নষ্ট করে। তবে ঝামেলা এড়াতে এ ধরনের হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন না পর্যটকরা। ফটোগ্রাফারের হাতে হয়রানির শিকারের অভিযোগ প্রায়শ আসলেও কিছু ঘটনার তাৎক্ষণিক সমাধান হয়, অধিকাংশই কূল-কিনারাই পাওয়া যায় না। হয়রানির ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে অধিকাংশ ফটোগ্রাফার তা এড়িয়ে যান। এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। ফটোগ্রাফারদের প্রতারণা এড়াতে পেশাদার ফটোগ্রাফারদের ডাটাবেজের আওতায় আনতে হবে। আর কোনো পর্যটক হয়রানির শিকার হলে কর্তৃপক্ষের কাছে তৎক্ষণাৎ অভিযোগ করতে হবে। কেননা অভিযোগ না করে এড়িয়ে গেলে এ সমস্যার সমাধান হবে না। বরং আরো বৃদ্ধি পাবে। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো কঠোর নজরদারি ও যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। 

লেখক : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। 
আজকালের খবর/আরইউ


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.net, www.ajkalerkhobor.com