ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ৩০ নভেম্বর ২০২১ ● ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার  মঙ্গলবার ● ৩০ নভেম্বর ২০২১
শিরোনাম: সিনহা হত্যা ছিল পূর্বপরিকল্পিত        কুমিল্লায় কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় ৬ ঘাতক চিহ্নিত       রামপুরায় বাসচাপায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু, ৮ বাসে আগুন        হাফ ভাড়ার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন এনায়েত উল্লাহ       কেরোসিন-ডিজেলের মূল্য নির্ধারণে রুল       করোনায় মৃত্যু ২, শনাক্ত ২২৭        ৫ ব্যাংকারের বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞা      
আফগান সংকট ও পশ্চিমাদের নেতিবাচক আচরণ
রায়হান আহমেদ তপাদার
Published : Thursday, 25 November, 2021 at 2:08 PM

আমেরিকার টুইন টাওয়ারে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হৃদয়বিদারক হামলার প্রতিক্রিয়ায় তৎকালীন বুশ প্রশাসনের শক্তিধর সশস্ত্র বাহিনী আফগানিস্তানে আক্রমণ চালায়। ৭ অক্টোবর অভিযান শুরু করে মাত্র দুই মাসের মধ্যে তৎকালীন তালেবান সরকারের পতন ঘটিয়ে মার্কিনিরা আফগানিস্তান দখল করে নেয়। এরপর তারা সুদীর্ঘ বিশ বছর তাঁবেদার সরকারের মাধ্যমে এই দখলদারিত্ব কায়েম রাখে এবং নিজেদের পশ্চিমা ধাঁচের সংস্কৃতি ও জীবনাচার আফগান জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করে। এই জন্য তারা অজস্র অর্থ-সম্পদ, অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি এবং জনবল ক্ষয় করে। কিন্তু এই ব্যয়বহুল যুদ্ধে মার্কিনিরা চূড়ান্ত বিচারে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে পরাজয়ের গ্লানি মেনে নিয়ে একটি মুখরক্ষার চুক্তির আড়ালে গত ৩১ আগস্ট আফগানিস্তান থেকে শেষ সৈন্যটি প্রত্যাহার করে নিয়ে যায়। এখন প্রশ্ন দাঁড়ায় কেন যুক্তরাষ্ট্রের চারজন প্রেসিডেন্ট দুই দশক ধরে রক্তক্ষয়ী এই ব্যয়বহুল যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন? সেই প্রশ্নেরই উত্তর বিশ্লেষণের চেষ্টা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে যত টাকা খরচ করেছে তার ৬০ শতাংশ বেশি খরচ করেছে আফগান সেনা এবং নিরাপত্তা বাহিনী গঠনে। গত বছর পর্যন্ত এই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট খরচ ছিল প্রায় আট হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এ বছর বাড়তি ৩৩০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে আফগান সেনাবাহিনীকে। সেনাবাহিনী এবং পুলিশ মিলিয়ে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা কাগজে কলমে তিন লাখের কিছু বেশি। একটি বিমান বাহিনী তৈরি হয়েছে। একটি কম্যান্ডো সেনা ইউনিট রয়েছে যাদের দক্ষতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং আফগান সরকার খুবই গর্বিত। এই বাহিনীর ক্যাডেটদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অথচ গত বছর ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকার সাথে শান্তি চুক্তি করার পর তালেবান যখন জায়গা দখলের লড়াই জোরদার করলো, আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর দুর্বলতা নগ্ন হতে শুরু করে। 
গত দুই মাসের মধ্যে আফগানিস্তানের প্রায় চারশটি জেলার অর্ধেকই এখন তালেবানের দখলে। চারটি প্রাদেশিক রাজধানী এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। তালেবান দাবি করছে আফগানিস্তানের ৮০ শতাংশ এলাকা তারা এখন নিয়ন্ত্রণ করছে। সেটা অতিরঞ্জিত হলেও আমেরিকানরাই স্বীকার করছে দেশের অর্ধেকেরও বেশি এলাকা এখন তালেবানের দখলে। ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অ্যান্ড ডেমোক্রেসিস-এর একটি গবেষণাধর্মী সাময়িকী লং ওয়ার জার্নাল বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের খতিয়ান প্রকাশ করে বলছে, জুলাই মাসে আফগানিস্তানের ৫৪ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যায়। অথচ কয়েক মাস আগেও মাত্র ২০ শতাংশ এলাকা ছিল তালেবানের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। ধারণা করা হচ্ছে গ্রীষ্ম মৌসুম শেষের আগেই ৩৪টি আফগান প্রদেশের ১৬টি তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। এদিকে জো বাইডেন চান না, যে মিশন চারজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমলে চলেছে, সেটা পঞ্চম জনের সময়ও চলুক। মানবাধিকার, নারী অধিকার, গণতন্ত্র? মনে হচ্ছে, এখন আর এসব পশ্চিমাদের সমস্যা নয়, হঠাৎ করে এখন এগুলো আফগানদের নিজেদের সমাধানের বিষয় হয়ে উঠেছে। আফগান নেতাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, সম্প্রতি বলেছেন বাইডেন। ‘তাদের নিজেদেরই তাদের জন্য লড়তে হবে, তাদের দেশের জন্য সংগ্রাম করতে হবে। অনেকদিন ধরে ইউরোপ আফগানিস্তানে ক্রমে অবনতি হতে থাকা নিরাপত্তা পরিস্থিতি উপেক্ষা করে এসেছে। এখন তালেবান ক্ষমতা দখল করায় পশ্চিমা বিশ্ব হতভম্ব হচ্ছে। এই ভণ্ডামি বন্ধ করতে হবে,’ বলছেন ডিডাব্লিউর ওয়াসলাত হাসরাত- নাজিমি। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সরে যাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে পুরো দেশ দখল করে নিয়েছে তালেবান। এতে অনেক মানুষের হতভম্ব হওয়ার কারণ, তারা এখন বুঝতে পারছেন যে, ২০ বছর আগে তাদের সরকারগুলো মানবাধিকার রক্ষা করতে আফগানিস্তানে যায়নি, গিয়েছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে। 
কিন্তু এখন রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে পরিবর্তন আসায় এবং খরচ-লাভের হিসাব যুক্তিসঙ্গত মনে না হওয়ায় তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরে যেতে চেয়েছেন। কিন্তু বাইডেন তার বক্তব্যে এটা উল্লেখ করেননি যে, ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র শুধু তালেবান ও আল-কায়েদার সঙ্গে লড়তে আফগানিস্তানে যায়নি। আফগানদের গণতন্ত্র এনে দেওয়ারও অঙ্গীকার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। আফগান নারীদের অধিকার রক্ষার কথাও বলেছিল তারা। কিন্তু এখন এটা পরিষ্কার যে, ওই বক্তব্যগুলো শুধু ফাঁকা বুলিই ছিল; নারী অধিকার কিংবা গণতন্ত্র কোনোটাই মূল অগ্রাধিকারের বিষয় ছিল না। আফগানিস্তানের যে নারীরা এতদিন তাদের অধিকারের জন্য লড়ছিলেন, তাদের এই আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সবসময় জয়ী হয়। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আবারো তাদের ২০০১ সালের আগের কালো সময়ে ফিরে যেতে হবে। এই নারীরা এখন নিজেদের প্রতারিত ও পরিত্যক্ত মনে করছেন। অনেক নারী অধিকার কর্মী এখন তাদের জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জার্মানির শরণার্থী নীতিও কম ভণ্ড নয়। সাম্প্রতিক সময়ে লাখ লাখ আফগান ঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। এরপরও আফগানিস্তানকে ‘নিরাপদ দেশ’ চিহ্নিত করে ইউরোপে আশ্রয় নেওয়া অনেক শরণার্থীকে দেশে পাঠানো হয়েছে। গ্রিস, তুরস্ক আর বলকান দেশগুলোতে অনেক আফগান করুণ অবস্থায় আছেন। এতদিন আফগানিস্তানের যুদ্ধবাজ ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদদের সমর্থন না করে জার্মানিসহ পশ্চিমা বিশ্বের উচিত ছিল আফগান মানুষ, সমাজ ও সংস্কৃতি বোঝার চেষ্টা করা। নারী অধিকার কর্মীদের অর্থহীন অঙ্গীকারের বাণী না শুনিয়ে তাদের শঙ্কার কথা শোনা উচিত ছিল। আরো উচিত ছিল সেনাবাহিনী গড়ে তোলায় সহায়তা না করে ভবিষ্যৎ গড়তে আফগান মানুষদের সহায়তা করা। এখন কী হবে? পশ্চিমা বিশ্বে আশ্রয় নেওয়া আফগান শরণার্থীদের এখন যত দ্রুত সম্ভব আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে শরণার্থীদের আশ্রয় আবেদন ঝুলে আছে সেগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। 
আগামী কয়েক মাস ও বছরে যে আফগানরা আসবেন তাদেরও গ্রহণ করতে হবে। এভাবে অন্তত ইউরোপ আফগানিস্তানের মানুষের ঋণ কিছুটা পরিশোধ করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে যুদ্ধ চালিয়ে, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে এবং অসংখ্য মানুষের জীবনহানি করে শেষমেশ সবকিছু গুটিয়ে ফিরে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষ্ফল প্রত্যাবর্তনের পর অনেক পশ্চিমা বিশ্লেষক বলেছেন, আমরা কিছুই অর্জন করতে পারিনি। কিন্তু তাদের এই কথা ভুল। তাদের বলা উচিত, আফগানিস্তানের মাটি যাতে সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর না হয়, সেই জন্য আমরা সেখানে অভিযান চালিয়েছিলাম। আমরা সে জায়গাটাকে যেভাবে পেয়েছিলাম, এখন তার চেয়ে অনেক খারাপ অবস্থায় রেখে এসেছি। অনেক নিকৃষ্ট অবস্থায় তাদের রেখে চলে এসেছি। কোনো অন্যায় ও অবিচার বিশ্বের সবচেয়ে উদার ও সহিষ্ণু মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দিলে শেষ পর্যন্ত তারাও কট্টরপন্থী হয়ে উঠতে পারে। বসনিয়ার মুসলমানরা বিশ্বের সবচেয়ে সহিষ্ণু মুসলমান হিসেবে অনেক আগে থেকেই পরিচিত। কিন্তু সেই বসনিয়ানদের মধ্যে ক্রমে সালাফি ধারা ঢুকছে। বসনিয়ার মুসলমানদের মধ্যে কট্টর দর্শন ঢুকছে এবং তারা আল-কায়েদা, আইএস অথবা বোকো হারামের মতো দর্শনের প্রতি ঝুঁকে যাচ্ছে। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে আমাদের ১৯৯১ সালে ফিরে যেতে হবে। সে বছর সার্ব নেতা রাদোভান কারাদজিচ (আন্তর্জাতিক আদালতে যিনি গণহত্যাকারী হিসেবে ইতোমধ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন) বসনিয়ানদের বলেছিলেন, বসনিয়া হার্জেগোভিনা থেকে মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হবে। সেই কথামতো তিনি ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় মুসলমানদের ওপর নির্বিচার গণহত্যা চালান। তিনি সার্ব বাহিনী নিয়ে বসনিয়ায় ঢুকে স্থানীয় সার্বদের সহায়তায় মুসলিম নিধন শুরু করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ তা চুপ করে দেখেছিল। সেই দৃশ্য যে বসনিয়ান দেখেছে, তার মনে স্থায়ীভাবে মানসিক আঘাতের ক্ষত তৈরি হয়েছে। 
কিন্তু যেসব বসনিয়ান পীড়নের শিকার হয়েছে, তাদের মধ্যে সেই ক্ষত সারানোর জন্য পশ্চিমা বিশ্ব কী করতে পেরেছে? সেই বঞ্চনার অনুভূতিই বিশ্বের সবচেয়ে সহিষ্ণু মুসলমানদের মনে চরমপন্থার ভাবনা জাগিয়ে তুলছে। এবার আফগানিস্তানের দিকে তাকান। সেখানে যুগের পর যুগ সাধারণ মানুষ সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে। তারা প্রতিবারই দেখেছে, বাইরের শক্তিগুলো তাদের ‘সহায়তা’ করতে এসে শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসঘাতকতা করে চলে যায়। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য তাদের গ্রাস করে আছে। তাদের শিশুরা পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছে না। ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত কয়েক কয়েক লাখ আফগান নাগরিক মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের হিসাব অনুযায়ী, গত ২০ বছরে আফগানিস্তানে ৩৩ হাজার শিশু নিহত হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনায় গত আগস্টে আইএসকের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালায় বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। দেখা গেছে, ওই হামলায় এমন একটি পরিবারকে বোমা মেরে শেষ করে দেওয়া হয়েছে, যাদের সঙ্গে আইএসকের দূরতম সম্পর্কও নেই। যুক্তরাষ্ট্র যাদের সন্ত্রাসী বলে নির্বিচার মেরেছে, তারা আফগানদের চোখে কেবলই সন্ত্রাসী নয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ তাদের মা, কেউ বাবা, কেউ ভাই, কেউবা বোন। শীতল যুদ্ধের সময় আফগানিস্তানে প্রথম যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করে। ১৯৭৮ সালে সোভিয়েত-সমর্থিত কমিউনিস্ট পার্টি আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করার পর যুক্তরাষ্ট্র এখানে নাক গলাতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র অশিক্ষিত ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান আফগানদের সোভিয়েতের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে সহযোগিতা দেয়। নব্বইয়ের দশকের শেষে সোভিয়েতবিরোধী তালেবান ক্ষমতা দখল করে। এরপর সেই তালেবানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ২০০১ সালে যুদ্ধ করে তালেবান সরকারের পতন ঘটায়। এরপর থেকে সেখানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী কথিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে হাজার হাজার মানুষ মেরেছে। এই রক্তপাত ২০ বছর ধরে আফগানদের দেখতে হয়েছে। 
এমনকি বারবার পশ্চিমাদের নেতিবাচক আচরণে সাধারণ আফগানদের মধ্যে পশ্চিমাদের সম্পর্কে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। ২০০১ সালে, অর্থাৎ আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন যখন আফগানিস্তানে ছিলেন, তখন বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের সূচকে দেশটি ১৬ নম্বরে ছিল। আজ সেই দেশ সন্ত্রাসের তালিকায় এক নম্বরে উঠে এসেছে। আর এর দায় তাদের নিজেদেরই। এদিকে মস্কো সংবাদ মাধ্যম বলছে, আফগানিস্তানে তালেবানের জয়যাত্রা রুশ গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম দখল করে আছে। তবে সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে রাশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে এর কী প্রভাব পড়তে পারে, সেই বিষয়টি। একজন রুশ কূটনীতিক কমসোমস্কোয়া প্রাভদা পত্রিকাকে বলেছেন, তালেবানের যেহেতু দেশ চালাতে হবে, তাই তাদের বাইরে কিছু দেশের সহযোগিতা লাগবে, বিনিয়োগ লাগবে। বিশেষ করে খাদ্য সংকটের সুরাহা করতে হবে। আর মস্কোকেও কিছু সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে, বিশেষ করে আফগানিস্তানের সঙ্গে তাজিকস্তান এবং উজবেকিস্তানের সীমান্তের পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সাহায্য করতে হবে। আফগানিস্তানের ক্ষমতায় তালেবান ফিরে আসার পর বাকী বিশ্ব যখন দেশটির ভবিষ্যৎ কী দাঁড়াবে তা নিয়ে শঙ্কিত, তখন বেইজিং, মস্কো এবং ইসলামাবাদে দেখা যাচ্ছে কিছুটা ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। বেশিরভাগ দেশ যখন কাবুলে তাদের দূতাবাস থেকে জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফিরিয়ে আনছে তাদের কূটনীতিকদের, তখন এই তিন দেশ আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত এরই মধ্যে দিয়ে রেখেছে। চীন বলেছে, তারা আফগানিস্তানের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরো গভীর করতে প্রস্তুত। রাশিয়া বলেছে, কাবুল থেকে তাদের কূটনীতিকদের সরিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। আর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তো এমন মন্তব্য করে বসেছেন যে, আফগানিস্তানের জনগণ অবশেষে দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙ্গেছে। তালেবান যখন ১৯৯৬ সাল হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ছিল, তখন দেশটি ছিল আন্তর্জাতিকভাবে প্রায় একঘরে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সেরকম নাও হতে পারে, সেরকম ইঙ্গিত এখনই দেখা যাচ্ছে।

লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট।  
আজকালের খবর/আরইউ


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.net, www.ajkalerkhobor.com