ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  সোমবার ● ২৫ অক্টোবর ২০২১ ● ১০ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার  সোমবার ● ২৫ অক্টোবর ২০২১
শিরোনাম: সুদানে জরুরি অবস্থা জারি       আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দিতে হাইকোর্টের রুল       পুঁজিবাজারে সর্বোচ্চ দরপতন        সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন ২৪ নভেম্বর        বিএনপি এখনও পুরোনো ধূসর পথে হাঁটছে        দুর্দান্ত শুরুর পর লিটন সাজঘরে        টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ      
শিক্ষা ক্যাডারে জট খুলছে পদোন্নতির
নূরুজ্জামান মামুন
Published : Thursday, 14 October, 2021 at 6:42 PM

তিন বছর পর বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকদের পদোন্নতির জট খুলছে। সহকারী অধ্যাপকের শূন্য পদে এক হাজার ৫৩২ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হবে। টানা চার দিন ‘বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি’ (ডিপিসি) যাচাই-বাছাই করে পদোন্নতির তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছে। বিসিএস ২৮তম থেকে ৩৩তম ব্যাচের প্রভাষকরা পদোন্নতি পাচ্ছেন। দীর্ঘ দিন পদোন্নতি জটের কারণে ৩৪তম ব্যাচের আড়াই শতাধিক প্রভাষক পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও তারা পদোন্নতি পাচ্ছেন না। 

পদোন্নতি দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তৈরি করা ডিপিসি সভার কার্যপত্র সূত্রে জানা গেছে, বিসিএস শিক্ষাক্যাডারের সহকারী অধ্যাপক পদে (ষষ্ঠ গ্রেড) দিতে মাউশি অধিদপ্তরে ১৭টি ও বিষয়ভিত্তিক চার হাজার ৩৫৩টিসহ মোট চার হাজার ৩৭০টি পদ রয়েছে। সহকারী অধ্যাপক এর বিষয় ভিত্তিক শূন্যপদ ৪৪৪টি, সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি জনিত শূন্য পদ এক হাজার ৮৮টি এবং সহকারী অধ্যাপক এর চার হাজার ৩৭০টি পদের ১০ শতাংশ হিসেবে ৪৩৭টি রিজার্ভ পদের মধ্যে ২৫৩টি শূন্য রিজার্ভ পদের বিপরীতেও পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে শূন্য পদের সংখ্যা এক হাজার ৭৮৫টি। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রস্তাবিত সমন্বিত পদ সৃজনের ১২ হাজার ৪৭৯টি পদের মধ্যে সহকারী অধ্যাপকের পদ রয়েছে চার হাজার ৪২৭টি। সব মিলিয়ে দুই হাজার ১৬৬জনকে পদোন্নতির প্রস্তাব করেছে মাউশি। 

মাউশির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন প্রভাষক হতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিতে যোগ্য প্রভাষকদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য জ্যেষ্ঠতার তালিকা মাউশির ওয়েবসাইটে দুই বার প্রকাশের পর প্রাপ্ত আপত্তিগুলো বিবেচনায় নিয়ে তথ্য সংশোধন করে জ্যেষ্ঠতার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পদোন্নতি প্রদানের বিষয়ে আদালতের কোন-বিধি নিষেধ নেই। মাউশির তৈরি করা তালিকা নিয়ে গত চার দিন পদোন্নতি কমিটি সভা করেছে। 

মাউশির পদোন্নতিযোগ্য তালিকা অনুযায়ী অর্থনীতিতে ১৮৭ জন, ইংরেজি বিষয়ের ১৭৭ জন, উর্দু বিষয়ে দুই জন, আরবী বিষয়ে ১২ জন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে ১৩৮ জন, আরবী ও ইসলামী শিক্ষা বিষয়ে ২৯ জন, সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে ২৭ জন, সঙ্গীতের ইতিহাস এক জন, সংস্কৃত ছয় জন, হিসাব বিজ্ঞান ১১০ জন, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং পাঁচ জন, মেন্টাল হাইজেন এক জন, দর্শন ১৪৭ জন, কৃষি বিজ্ঞান দুই জন, কম্পিউটার একজন, গার্হ্যস্থ অর্থনীতি পাঁচ জন, গণিত ১৫৯ জন, পরিসংখ্যান ছয় জন, প্রাণিবিদ্যা ১০৭ জন, বাংলা ২০৪ জন, সমাজকল্যাণ ৪৫ জন, ভূগোল ৪৫ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ২১১ জন, রসায়ন ১৪১ জন, মার্কেটিং সাত জন, মৃত্তিকা বিজ্ঞান ২১১ জন, মনোবিজ্ঞান ১৫ জন, ইতিহাস ১৩৮ জন, উদ্ভিদ বিদ্যা ১২৮ জন, ব্যবস্থাপনা ১৪৪ জন, পদার্থ বিদ্যায় ১৫১ জন।  টিটিসি কলেজেগুলোতে ২৬ জন। এর মধ্যে সরাসরি ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক দুই হাজার ৪৩৭ জন।  আর বাকিরা আতত্মীকৃত।

পদোন্নতির সকল শর্ত পূরণ করেও বছরের পর বছর পদোন্নতি বঞ্চিত শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। এর মধ্যে কোনো কোনো ব্যাচের কর্মকর্তারা দেড় যুগ ধরে একই পদে কর্মরত আছেন। দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরত থাকায় শিক্ষা ক্যাডারের মূল পদ সরকারি কলেজের শিক্ষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। সামাজিকভাবেও বিব্রত হচ্ছেন। শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বৈশ্বিক মহামারি করোনার মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ২৯ জুন সহকারী অধ্যপকদের পদোন্নতি দিলেও প্রভাষকদের পদোন্নতি আটকে ছিল। অবশেষে প্রভাষকদেরও পদোন্নতির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদন পেলে যে কোনো দিন পদোন্নতির সরকারি আদেশ জারি করা হবে। 

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে কর্মরত শিক্ষকরা বলেছেন, অন্য ক্যাডারে ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি দেওয়া হলেও শিক্ষা ক্যাডারে বিষয়ভিত্তিক পদোন্নতি দেওয়া হয়। যে কারণে শিক্ষকরা বঞ্চনার শিকার হন। বিসিএস ২৮ ব্যাচের শিক্ষা ক্যাডারে নিয়মিত পদোন্নতি না পাওয়ায় অন্য ক্যাডারের চেয়ে অন্তত মাসে ২০ হাজার টাকা বেতন কম পান। চাকরি জীবনের শেষে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা কম পাবেন। সামাজিকভাবেও হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন। পদোন্নতি দিলেও সরকারের বাড়িত অর্থ খরচ হবে না। জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী প্রতি বছর পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট পেয়ে বর্তমানে ষষ্ঠ গ্রেডের সমান বেতন পাচ্ছেন তারা। 

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সাবেক সদস্য সচিব ও মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শাহেদুল খবির বলেন, মানসস্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের দাবিগুলো সময়মতো পূরণ করতে হবে। শিক্ষা ক্যাডার শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক নয়, ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি তাদের বেতন স্কেল আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে হবে। অন্যথায় মানসম্মত শিক্ষাদান সম্ভব নয়।

২৮তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা সিনিয়র সহকারী সচিব পদে অনেক আগে পদোন্নতি পেয়েছেন। এ ব্যাচের কর্মকর্তাদের উপসচিব পদো পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলছে। অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারাও নিয়মিত পদোন্নতি পেয়েছেন। অথচ একই ব্যাচের শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্তরা এখনো প্রভাষক। তারা এক যুগ ধরে একই পদে কর্মরত আছেন। অন্য ক্যাডারে ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি দেওয়া হলেও শিক্ষা ক্যাডারে বিষয়ভিত্তিক পদোন্নতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া নিয়মিত পদোন্নতি দেওয়া হয় না। যে কারণে তারা বঞ্চিত হয়েছেন। নিয়মিত পদোন্নতি না হওয়ার কারণে পদোন্নতির জট সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। সরকারি কলেজের শিক্ষকদের দাবি ব্যাচভিত্তিক ও নিয়মিত পদোন্নতির। 
 
জানতে চাইলে মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, ‘সহকারী অধ্যাপক’ পদে পদোন্নতিযোগ্যদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তালিকা নিয়ে চার দফায় ডিপিসি সভা করেছেন। মাউশি চায় যোগ্য সবার পদোন্নতি। তবে বাকিটা পদোন্নতি কমিটির ওপর নির্ভর করছে কত শতাংশ পদোন্নতি তারা দেবেন। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সদস্য সচিব শাহেদুল চৌধুরী বলেন, আমাদের এখন মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের সময়। তাই সবার আগে শিক্ষকদের দাবির প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং তাদের বঞ্চনাগুলো দূর করতে হবে। যোগ্য সবার পদোন্নতি দেওয়া  হোক এটি আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। সেক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক নয়, ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে এ ক্যাডারে বঞ্চনা থাকবে না।
সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির শর্তে বলা হয়েছে, প্রভাষক পদে অন্তত পাঁচ বছর চাকরি করতে হবে। বিধি মোতাবেক চাকরি স্থায়ী হতে হবে। চাকরিতে যোগদানের ১৪ বছরের মধ্যে সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় পাস করতে হবে। এসিআর/বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন সন্তোষজনক ও এসিআর এ বিরুপ মন্তব না থাকা। বিভাগীয় মামলা না থাকা।  
 
এছাড়া বিশেষ বিবেচনায় সিনিয়র স্কেল পদোন্নতি পরীক্ষা হতে প্রমার্জিত হওয়া তবে চাকরি স্থায়ী হতে হবে। বয়স ৫০ বছর পূর্ণ হলে বিধি মোতাবেদক চাকরি স্থায়ী হতে হবে। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস  (পদোন্নতি পরীক্ষা) বিধিমালা-২০১৭  এর বিধি ৮ অনুসারে কোন কর্মকর্তা পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হলে চাকরির মেয়াদ ১৫ বছর পূর্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির যোগ্য হবেন। সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পাঁচ বছর ফিডার পদ পূর্ণ হলে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির যোগ্য হবে। তবে এরপর তিনি আর কোনো পদোন্নতি পাবেন না। তবে বিধি লঙ্ঘন করে বিগত দিনে বহু জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। 

আজকালের খবর/মামুন/বিএস 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.net, www.ajkalerkhobor.com