ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  বুধবার ● ১৬ জুন ২০২১ ● ২ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার   বুধবার ● ১৬ জুন ২০২১
শিরোনাম: পরীমনির বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ গুলশান অল কমিউনিটি ক্লাবের, পরিদর্শনে যাবে পুলিশ       বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে নিতে ব্যর্থ মন্ত্রণালয়       বাজেট পাসের পরেই এমপিওর আবেদন       চীনকে এক হাত নিলেন জি-৭ নেতারা, কোভিডের উৎসের তদন্ত দাবি       নেতানিয়াহু যুগের অবসান, নতুন সরকারে থাকছে আরব দলও       ভারতীয় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক পরিষদের ভিডিও ব্লগিংয়ে তৃতীয় বাংলাদেশের মনসিফ        ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টাকারীর নাম জানালেন পরীমনি      
আইবিডি রোগ থেকে সচেতন থাকতে হবে
আলিসা জাহান মিম
Published : Friday, 11 June, 2021 at 5:50 PM

বাঙালি বরাবরই ভোজনরসিক। মাছ, ভাত, ডাল বাঙালিদের নিত্যদিনের খাদ্যাভাস। বাংলার সংস্কৃতির সাথে এই খাদ্যাভাসের রয়েছে এক নিবিড় সম্পর্ক। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে এই খাদ্যাভাসের এক বড়সড় পরিবর্তন ঘটেছে। আধুনিক যুগ বাঙালিদের পশ্চিমা দেশগুলোর খাদ্যাভাসকে অনুসরণ করতে শিখিয়েছে। নতুন প্রজন্ম পশ্চিমা দেশের জাঙ্কফুডের দিকে অত্যাধিক ঝুঁকে পড়েছে। যেমন: বার্গার, চিপস, চকলেট, চিকেন ফ্রাই প্রভৃতি। যেটির ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে আইবিডি নামক নতুন ধরনের রোগ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এই রোগের প্রবণতা এতই বেশি যে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে ১৯ মে দিনটিকে আইডিবি দিবস হিসেবে প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে। রোগটি মূলত ১৫ থেকে ৫০ বয়সী যে কারোর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বর্তমানে এশিয়া দেশগুলোর চেয়ে ভারতে আইবিডির প্রবণতা বেশি। ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজ বা আইডিবি হলো পরিপাক বা গ্যাস্ট্রোইন্টেসটিনাল ট্রাক্টের একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধি যা প্রদাহের ধাপ গুলোর দ্বারা চিহ্নিত করা হয় এবং সারা জীবন ধরে উপশম হয়। সহজ ভাষায়, এটি মানুষের অন্ত্রের সাথে সম্পর্কিত একটি রোগ, যাতে বৃহৎ অন্ত্রের প্রদাহ এবং জ্বালা- যন্ত্রণা হয়। এটি হলো পরিপাকতন্ত্রের প্রদাহজনিত একটি জটিল সমস্যা। আইবিডি রোগের লক্ষণ স্বরূপ জ্বর, শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা, পেটে ব্যথা, রক্ত আমাশয়, ওজন কমে যাওয়া, খাদ্য গ্রহণে অনাসক্তি প্রভৃতি। তবে ব্যাক্তি বিশেষে উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা যা বছরের পর বছর চলতে থাকে। হঠাৎ করে এই রোগের মাত্রা কখনো বেড়ে যায় আবার কমে যায়, এরকম ওঠানামা চলতেই থাকে। এছাড়াও ডায়রিয়া, বুকে ব্যথা, দুর্বলতাবোধ সাধারণ উপসর্গ। মূলত কয়েকটি অসুখের একটি সম্মিলিত নাম আইবিডি। এই মধ্যে দুইটি রোগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটি হলো ক্রনস ডিজিজ, আরেকটি হলো আলসারেটিভ কোলাইটিস। ক্রনস ডিজিজ হলো একপ্রকার অন্ত্রের প্রদাহজনিত অসুখ। এটি পাচকতন্ত্রের একটা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের দশা এবং এর ফলে মুখ থেকে মলদ্বার অবধি যেকোনো অঙ্গকে প্রভাবিত করতে পারে। ডায়রিয়া, জ্বর, ক্লান্তি, পেটে ব্যথা, পায়খানায় রক্ত, মুখে ঘা, হজমশক্তি কমে যাওয়া প্রভৃতি উপসর্গ থাকতে পারে। এছাড়াও জটিল আকার ধারণ করলে ফোড়া, ফিস্টুলাও হতে পারে। মহিলা ও পুরুষ উভয়ই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এই রোগ খুবই সাধারণ ব্যাপার। বাংলাদেশের তুলনায় উন্নত বিশ্বে ক্রনস ডিজিজ বেশি হয়। বর্তমানে প্রায় ৩ মিলিয়ন আমেরিকান এই রোগে ভুগছেন। ক্রনস ডিজিজ প্রতিরাধ করার জন্য প্রাণীজ খাদ্য পরিহার, উদ্ভিজ্জ খাদ্য গ্রহণ, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার, স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস প্রভৃতি বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। বর্তমান বিশ্বে ক্রনস ডিজিজের একমাত্র চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। হোমিওপ্যাথি ছাড়া এই রোগের অন্য কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই। মূলত এই চিকিৎসার মাধ্যমে ক্রনজ ডিজিজ এর উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়। পারিবারিক ইতিহাস পর্যালোচনা ও সঠিক যত্নের সাথে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করলে ধীরে ধীরে এই রোগ স্থায়ীভাবে সারানো অসম্ভব নয়। আলসারেটিভ কোলাইটিস হলো পেটের প্রদাহ জনিত সমস্যা। যেটির কারণে পেটে ঘাসহ সে স্থানে অসহ্যকর ব্যথা হয়। এবং ছোট ছোট আলসার বা ঘাগুলো পুরো কলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশে ক্রনস ডিজিজের চেয়ে আলসারেটিভ কোলাইটিস বেশি হচ্ছে। সাধারণত ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সের মাঝামাঝি লোকজনের মধ্যেই এই রোগ বেশি দেখা দেয়। ঘন ঘন পাতলা পায়খানা, রক্ত যাওয়া প্রভৃতি উপসর্গ দেখা যেতে পারে। সময়মতো আলসারেটিভ কোলাইটিস এর চিকিৎসা করতে না পারলে কোলনে ক্যান্সার, দেহের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা, আলসার, চোখের বিভিন্ন প্রদাহজনিত রোগ হয়ে অন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা,  মুখ হাত ও পায়ে পানি এসে শরীর ফুলে যাওয়া, জন্ডিস, লিভার নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। তাই সময়মতো চিকিৎসা করাটা খুব জরুরি। 
সাধারণত স্টেরয়েড ও সালফাসেলজিন জাতীয় ওষুধ দিয়ে এ রোগের চিকিৎসা করা হয়। এ রোগের স্থায়ী চিকিৎসা হলো অপারেশন। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে অপারেশনের দরকার হয় না। যাদের অবস্থা খুবই সঙ্কটজনক,  দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ ব্যবহারের পরও কোনো উন্নতি হয় না, রক্তশূন্যতার ভোগান্তি, কোলনোস্কোপি করার পর ক্যান্সার ধরা পড়ে প্রভৃতি। তাদের জন্য অপারেশন করাটাই মুখ্য। সময়োপযোগী ব্যবস্থা ও চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগ আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।
আইবিডি রোগের মূল কারণ অজ্ঞাত। তবে বিশেষজ্ঞরা যেসব কারণ কে আইবিডির জন্য দায়ী বলে ধারণা করেছেন সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়।  জেনেটিকভেবে যে কারোর এই রোগে ভুগতে পারেন। বাবা - মা, ভাইবোনদের যদি এই রোগ হয় তাহলে এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ধূমপান যেকোনো ব্যক্তির ক্রোন রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন ধরনের ড্রাগস যেমন: আইবুপ্রোফেন, নেপ্রোক্সেন সোডিয়াম, ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম প্রভৃতি ব্যবহার আইবিডি হওয়ার ঝুঁকি কে বাড়িয়ে দিতে পারে। পরিবেশ কারণ যেমন: শহর অঞ্চলে বা শীতল জলবায়ুতে বাস করা আইবিডি ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
আবার উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার, বেশি ভাজা পোড়া, জাঙ্কফুড খাদ্যভাস ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে তোলে। মূলত আইবিডি রোগের পিছনে পশ্চিমা দেশগুলোর সংস্কৃতি অনুকরণ সবচেয়ে ক্রিয়াশীল কারণ। আইবিডি রোগ নির্ণয়ে শারীরিক পরীক্ষা, দীর্ঘকালীন পর্যবেক্ষণ ছাড়া এটি সাধারণত এন্ডোস্কোপি অথবা কোলোনোস্কোপি এবং ইমেজিং স্টাডিসের একটি সমাহারের সাথে নির্ণয় করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে এমআরআই, সিটিস্ক্যান এবং কন্ট্রাস্ট রেডিওগ্রাফি। রোগ নিশ্চিত করার জন্যে মল এবং রক্ত পরীক্ষা করা হয়। আইবিডি রোগটি যেমন দীর্ঘমেয়াদী  তেমনি এর চিকিৎসাও দীর্ঘমেয়াদী। স্টেরয়েড, স্যালাজিন, মিথোট্রিক্সেট, সাইক্লোস্পরিন, এন্টাই টিএনএফ ইত্যাদি শক্তিশালী ঔষধ ব্যবহার করা হয়। যাদের ৮ বছরের বেশি সময় ধরে এই রোগ থাকে তাদের অন্ত্রে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যেকারনে এই রোগ অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। কেননা, আইবিডি চিকিৎসার প্রধান উদ্দেশ্য হলো অন্ত্রের প্রদাহ কমানো এবং উপসর্গ গুলি থেকে স্বস্তি দেওয়া।
আইবিডি রোগ নিরাময়যোগ্য না হলেও অবশ্যই নিয়ন্ত্রণযোগ্য। উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ কে প্রতিকার করা অবশ্যই অসম্ভব নয়। তবে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। বাঙ্গালিদের চিরচরিত যে খাদ্যভাস তা সঠিকভাবে বজায় রাখার পাশাপাশি পশ্চিমাদেশ গুলোর সংস্কৃতি বা জাঙ্কফুডকে পরিহার করাই শ্রেয়। বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্মকে তাদের নিজেদের খাদ্যভাস পরিবর্তন,  আইবিডি রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগের ভয়াবহতা নিয়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণার আয়োজন করা, এর প্রেক্ষিতে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আইবিডি ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। সুতরাং, আইবিডিকে নিয়ে আতঙ্ক নয় সচেতনতাই মুখ্য।
শিক্ষার্থী : ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আজকালের খবর/টিআর



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com