ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  বুধবার ● ১৬ জুন ২০২১ ● ২ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার   বুধবার ● ১৬ জুন ২০২১
শিরোনাম: পরীমনির বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ গুলশান অল কমিউনিটি ক্লাবের, পরিদর্শনে যাবে পুলিশ       বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে নিতে ব্যর্থ মন্ত্রণালয়       বাজেট পাসের পরেই এমপিওর আবেদন       চীনকে এক হাত নিলেন জি-৭ নেতারা, কোভিডের উৎসের তদন্ত দাবি       নেতানিয়াহু যুগের অবসান, নতুন সরকারে থাকছে আরব দলও       ভারতীয় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক পরিষদের ভিডিও ব্লগিংয়ে তৃতীয় বাংলাদেশের মনসিফ        ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টাকারীর নাম জানালেন পরীমনি      
মধুমাসে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে সচেতনেতা জরুরী
মো. রায়হান আলী
Published : Wednesday, 9 June, 2021 at 5:53 PM

ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। বিভিন্ন ঋতুতে ফলে বিভিন্ন মৌসুমী ফল। ঋতুচক্রের তালিকায় মধুমাস বলতে কোন মাসের নাম না থাকলেও জৈষ্ঠ্য মাসকে ফলের সমাহারে ‘মধুমাস’ হিসেবে আবহকাল থেকেই প্রচলিত নাম হিসেবে চলে আসছে। প্রকৃতির অপার মহিমায় বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিবেশকে মুখরিত, সুশোভিত করে গাছ-গাছালি মৌসুমী ফলে পূর্ণ হয়ে উঠে। জৈষ্ঠ্যের প্রথম সপ্তাহ থেকেই প্রায় এসব মৌসুমী ফল-মুল বাজারে আসতে শুরু করে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নতুন ফল-মূলের চাহিদা বেশি থাকার ফলে বাজার হয়ে ওঠে রমরমা। ফরমালিন ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাককে মেরে ফেলে এবং নতুন করে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম রোধ করে। আর তাই তাজা ফল, শাকসবজি, মাছ-মাংস বেশি সময় পর্যন্ত সতেজ রাখার জন্য এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা খাবার ক্ষতিকর এই উপাদানটি ব্যবহার করে। ফলের ভরা মৌসুম হলেও ফরমালিন ছাড়া কোন ফল বাজারে পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নাই বললেই চলে। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) পরীক্ষা করে দেখেছে, ‘রাজধানী ঢাকার বাজারের ৯৪ শতাংশ আমে ফরমালিন রয়েছে। আর শতভাগ লিচু ও জামে ব্যবহৃত হচ্ছে এই রাসায়নিক। অতি মুনাফালাভের জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা ফলকে দীর্ঘক্ষণ তাজা ও সতেজ রাখতে ব্যবহার করে ফরমালিন। অন্যদিকে রাসায়নিক দ্রব্য কারবাইড ব্যবহার করা হয় সহজে ফল পাকানোর জন্য। অতিমাত্রায় মুনাফা লাভের নেশায় আম গাছে না পাকিয়ে কাঁচা আম পেড়ে ফেলা হয় আর সুবিধামতো দূরদূরান্তে অর্ডার অনুযায়ী পার্সেল করার সময় কারবাইড মিশিয়ে পার্সেল করা হয়, যাতে এক রাতের মধ্যে আমগুলো পেকে যায়।’ আইনের চোখে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে এমন সব ধোকাবাজি করে লাভবান হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এমনকি যারা এই বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান মেশান তারা যেনো অনেকটা এরকম যে,কাকের চোখ বন্ধ করে খাবার লুকানোর মতোই কাজটি করেন। তারা সাময়িক লাভবান হলেও একবারও ভাবেন না এই খাবারই যে আবার ঘুরেফিরে তাদের নিজেদের কিংবা তাদের ঘরেই যাচ্ছে। এই ফরমালিন জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ এবং খাদ্য দ্রব্যের সংরক্ষণ, পচনরোধ বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে অননুমোদিত, মাত্রাতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় ফরমালিন ব্যবহার অনিরাময়যোগ্য রোগ ব্যাধির সৃষ্টি করছে।
কৃষি ও স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ফরমালিন দেহে গেলে ক্যান্সার, লিউকেমিয়া, কিডনি, চর্ম ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ হয়। কার্বাইড মেশানো আম খেলে জন্ডিস, গ্যাসট্রিক, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও ক্যান্সার সমস্যা দেখা দেয়। নষ্ট হয়ে যায় কিডনি ও লিভার। গর্ভবর্তী মা এইসব বিষ মেশানো খাবার খেয়েই তার গর্ভের শিশুটিকে জন্ম দেবেন। ফলশ্রুতিতে আমরা পাবো অসুস্থ, অপুষ্ট ও বিকলাঙ্গ শিশু, যারা আগামীর ভবিষ্যত। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ নামের নরপশু নীরব এই অপকর্ম চালাচ্ছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে এই জঘন্য অপকর্ম। সরকার ফরমালিনের অপব্যবহার রোধ এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার প্রয়োজনে ফরমালিন আমদানি, উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ, বিক্রয় ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিকর পদার্থ হিসাবে এর অপব্যবহার রোধ করার উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালে ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন পাশ করে। এ আইনে বলা হয়, ‘কোন ব্যক্তি যদি লাইসেন্স ব্যতীত ফরমালিন বিক্রয় বা ব্যবহার করেন অথবা কোন ব্যক্তি যদি উক্ত অপরাধ সংঘটনে কাহাকেও সহায়তা করেন তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড, তবে ৬ (ছয়) মাসের নিম্নে নহে, বা অনধিক ৪ (চার) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, তবে ১ (এক) লক্ষ টাকার নিম্নে নহে, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’ এমন সাজার বিধান থাকা স্বত্বেও অসাধু ব্যবসায়িচক্ররা খুব তৎপর হয়ে উঠেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় খুচরো পন্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আমেরিকার ওয়ালমার্ট তাদের লন্ডন শাখার জন্য বাংলাদেশ থেকে আম কিনবে বলে জানা গিয়েছিল। এটাও জানা যায়, গত বছর ওয়ালমার্টের প্রতিনিধিসহ একটি বিদেশী দল রাজশাহী, সাতক্ষীরাসহ কয়েকটি জেলায় উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায় দেখার জন্য সরেজমিন পরিদর্শন করে। আমে কোন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহৃত হয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত করার পর ওই আম জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে নিরাপদ হিসেবে প্রমাণিত হওয়ার পরই ওয়ালমার্টে রফতানির অনুমতি পায়। অথচ আমার দেশে অতি মুনাফাখোর কিছু সরবরাহকারী নির্দ্বিধায় আম কে দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণের জন্য আমে বিভিন্ন রকম কেমিক্যাল মিশ্রণ করে যাচ্ছে। গত বছর এই মৌসুমী ফল নিয়ে ব্যাপক হাঙ্গামা হয়েছিলো। বোঝাই বোঝাই ট্রাকভর্তি আম নষ্ট করে ফেলা হয়েছিলো। রাজধানী ঢাকাতে প্রবেশের চারটি পয়েন্টেই চেকপোস্ট বসানো হয়েছিলো। তাতে যদিও বা আপাতদৃষ্টিতে দেখা গেছে, ফল ব্যবসায়ীদের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু প্রকারান্তরে পুলিশের ওই সাঁড়াশি অভিযান মানুষকে দীর্ঘমেয়াদী বিষের ছোঁবল থেকেই বাঁচিয়েছে। এখানে সমষ্টিগত উদ্যোগ ছাড়া রাষ্ট্র বা সরকারের একার পক্ষে এ অবস্থার পরিবর্তন আদৌ সম্ভব নয়। সরকারী উদ্যেগের পাশপাশি গণসচেতনতা না থাকলে সরকারী উদ্যোগও একসময় মুখ থুবড়ে পড়ে। সেজন্যই অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন ও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ফলের নামে বিষ খেতে যাবেন না। হয়তবা অনেক আদর করে আপনি আপনার প্রিয় সন্তান বা অসুস্থ মা-বাবার জন্য মৌসুমী ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন আর ভাবছেন মৌসুমী ফল কি করে প্রিয় মানুষদের না খাওয়াই, সাহস করে নির্দ্বিধায় তাই কিনে নিলেন। চোখ বন্ধ করে একবার দেখুন তো আপনি ফলের নামে জেনেশুনে তাদের মুখে বিষ তুলে দিচ্ছেন কি না? বিষমিশ্রিত বলে হয়তো কয়েক মৌসুমে আপনি ফল কিনতেই পারলেন না, তাতে কি? ফলের নামে আপনজনদের বিষ তো আর খাওয়াচ্ছেন না। এভাবে পরপর কয়েক বছর ব্যবসায়িক মার খেলে হয়তো অতি মুনাফালোভীদের চৈতন্য আসতেও পারে। দেশের সিংহভাগ লোক না হয় অসচেতন কিন্তু সচেতন যারা তারাও হাত গুটিয়ে বসে আছে বলেই দিনকে দিন এদের দৌড়াত্ম্য বেড়েই চলেছে।
 কিছু দিন আগের কথা, রমজান মাসে তরমুজের রমরমা ব্যবসা হয়। কেজি দরে বিক্রি। এক একটা তরমুজ প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ৭০-৮০ টাকা নিয়ে শহরে কেজি দরে বিক্রি করে প্রায় ৩০০-৪০০ টাকা বিক্রি করেছে অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। এমনটা দেখে ক্রেতারা কয়েকদিন কেনা বন্ধ করলে লোকসানের মুখে পড়ে তরমুজ সিন্ডিকেট। ফলের এ বিষ থেকে রক্ষায় ফরমালিনযুক্ত ফল, শাক-সবজি বাজার থেকে নিয়ে আসার পর ৩০ মিনিট ভিনেগার মেশানো হালকা গরম পানিতে সেগুলো ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর ভালো করে ধুয়ে ব্যবহার করা উচিৎ। এতে ফরমালিনের আধিক্য অনেকটাই কমে যাবে। এছাড়াও মৌসুমী ফল যদি খেতেই হয় তাহলে পাড়লে দলবদ্ধ হয়ে নিজস্ব লোক দিয়ে গ্রাম থেকে পরিবহনে এনে ভাগ করে নিয়ে খান। অসাধু ব্যবসায়িদের কোন সন্ধান পেলে প্রশাসনকে অবহিত করুন। ফরমালিন বিষের হাত থেকে নিজে বাঁচুন, পরিবার, আত্মীয়-স্বজনদের বাঁচান, দেশকে ভালবাসুন।
লেখক: কলামিস্ট ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী, জজ কোর্ট, খুলনা।
আজকালের খবর/টিআর




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com