ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  বুধবার ● ১৬ জুন ২০২১ ● ২ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার   বুধবার ● ১৬ জুন ২০২১
শিরোনাম: পরীমনির বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ গুলশান অল কমিউনিটি ক্লাবের, পরিদর্শনে যাবে পুলিশ       বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে নিতে ব্যর্থ মন্ত্রণালয়       বাজেট পাসের পরেই এমপিওর আবেদন       চীনকে এক হাত নিলেন জি-৭ নেতারা, কোভিডের উৎসের তদন্ত দাবি       নেতানিয়াহু যুগের অবসান, নতুন সরকারে থাকছে আরব দলও       ভারতীয় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক পরিষদের ভিডিও ব্লগিংয়ে তৃতীয় বাংলাদেশের মনসিফ        ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টাকারীর নাম জানালেন পরীমনি      
১৭ মে, ১৯৮১ এক ঐতিহাসিক দিন
মো: শফিকুল ইসলাম
Published : Sunday, 16 May, 2021 at 9:15 PM

বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা, বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪১তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আগামিকাল সোমবার (১৭ মে)। এক ঐতিহাসিক দিন ছিল ১৯৮১ সালের ১৭ মে। কারণ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা ভাগক্রমে বেঁচে যান। ওই সময়ে বিদেশে থাকায় ঘাতকরা তাদেরকে হত্যা করতে পারেনি।  আজকে সেই শেখ হাসিনার জাদুকরী নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। অন্যান্য দেশও আজ বাংলাদেশকে অনুকরণ করতে চাইছে। তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন বলে দেশ আজকে এই বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশক পূর্তি  ১৭ মে। 
 ১৯৮১ সালে ক্রান্তিলগ্নে ওই বছরের ১৪, ১৫, ও ১৬ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। দেশমাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার গুরু দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করা হয়।  জাতির পিতার কন্যার হাতে আওয়ামী লীগের মত বড় সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। যা ছিল এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। তখন এবং এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে ভয় পায় ঘাতকগোষ্ঠী। সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান শেখ হাসিনার স্বদেশে প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। কিন্তু তাতেও শেখ হাসিনাকে আটকাতে পারেননি জিয়াউর রহমান। বরং সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রিয় স্বদেশভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ৬ বছর নির্বাসন শেষে জাতির পিতার বাংলাদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। ধন্য হয় দেশ এবং গর্বিত হয় জাতির পিতাকে বিশ্বাসী জনগণ। দেশ এক নতুন প্রাণ  ফিরে পায় এবং জনগণ নতুন উদ্দীপনায় জাগ্রত হয়।  রাজধানী ঢাকা সেদিন  মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা শহর মিছিল আর স্লোগানে প্রকম্পিত হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আর প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে  লক্ষ লক্ষ মানুষের মিছিলে ঢাকা জনসমুদ্রে পরিনত হয়। কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর পরিণত হয় জন মানুষের অরন্যে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখতে সেদিন বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের গন্তব্য ছিল  ঢাকা। স্বাধীনতার অমর স্লোগান, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় বাংলার আকাশ-বাতাস। জনতার কণ্ঠে বজ্রনিনাদে ঘোষিত হয়েছিল ‘হাসিনা তোমায় কথা দিলাম, পিতৃ হত্যার বদলা নেব’। ‘ শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল আছে সবার।  তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। কিন্তু ১৯৭৫ সালের পর কিভাবে তিনি বেঁচে ছিলেন তার ইতিহাস অনেকের কাছেই অজানা। তাই আজকে তার সেই ইতিহাস মানুষ জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে রয়েছে। আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসকে ঘিরে আরও একবার টিভি পর্দায় ফিরে এলো ডকু ড্রামা ‘হাসিনা: এ ডটারস টেল’। আমি আওয়ামী লীগ সহ সকল পর্যায়ের লোককে এই অনুষ্ঠান দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি। 
দেশে ফেরার পর থেকে শেখ হাসিনা টানা ৪০ বছর ধরে সফলতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন এ দেশের স্বাধীনতার নেতৃত্ব দেওয়া প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে। সেই সঙ্গে তার যোগ্য নেতৃত্বে চার চার বার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে দলটি। শেখ হাসিনাকে এই দীর্ঘ সময় দলের প্রধানের দায়িত্বে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে অনেক কঠিন পথ ও নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে হচ্ছে।  পাড়ি দিতে হয়েছে অনেক দুর্গম পথ । কারাবরণ, জীবনের ঝুঁকি, এমনকি মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া ছাড়াও অনেক চড়াই-উৎরাই, ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে তিনি আওয়ামী লীগকে আজকের অবস্থানে এমন এক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন। যা সত্যিই প্রশংসনীয়।  তার সফল নেতৃত্বের কারণেই আওয়ামী লীগ চার বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেয়েছে। এবং বর্তমানেও ক্ষমতাসীন হয়ে দেশকে এক উন্নয়নের গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। 
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দেশকে আজকের অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন তিনি। অনেক বার তার প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়। যদিও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান।  ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এই হামলায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতাকর্মী শহীদ হন।
এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দল ও সরকারের নেতৃত্বে থেকে বাংলাদেশের জন্য অনেক অর্জনও সম্ভব হয়েছে একমাত্র শেখ হাসিনার জন্য। আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ তার নেতৃত্বেই এগিয়ে যাচ্ছে। এই ডিজিটাল বাংলাদেশের পরিকল্পনা তার নেতৃত্বেই এক নতুন রূপ ধারন করেছে। মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তার কর্মসূচিগুলো জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশই নয়, বৈশ্বিক নানা সংকট নিয়ে কথা বলা এবং মতামত দেওয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও শেখ হাসিনা নানা উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। যার মাধমে বিশ্ব দরবারে আমরা নতুন ভাবে  পরিচিতি অর্জন করেছি। 
দেশে প্রত্যাবর্তনের পর তার হাতে তুলে দেন দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যের সাফল্যগাঁথা মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের পতাকা। সেই সিদ্ধান্তটি ছিল সঠিক এবং যথার্থ। যা আজ বিভিন্নভাবে পরিলক্ষিত এবং প্রমাণিত হয়েছে সর্বক্ষেত্রে।  চারবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় বঙ্গবন্ধু হত্যার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও করতে পারছেন এবং চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তার দুই সন্তানকেও সুশিক্ষিত করে তুলেছেন। ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বিশিষ্ট তথ্য প্রযুক্তিবিদ। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন এবং দেশের নানাক্ষেত্রে তিনি অবদান রেখে যাচ্ছেন। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম বিশেষজ্ঞ হিসেবে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। যাদের জন্য আমরাও গর্বিত। 
সেদিন বিমানবন্দর থেকে শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাওয়া হয় মানিক মিয়া এভিনিউয়ে, সেখানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে এক সমাবেশে শেখ হাসিনা  এক কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই। আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেল সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই।’ সত্যি তিনি তার কথার বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। দেশের দুঃখ ও গরীব মানুষের পাশে এসে  সর্বদা দাঁড়িয়েছেন সেই মানুষটি হলেন শেখ হাসিনা। যিনি আমাদের গর্ব এবং আমাদের আস্থার ঠিকানা। তার ওপর বিশ্বাস করা যায় ফলে দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। 
দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে, অর্থনৈতিক উন্নয়নে ও আধুনিক উন্নত সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশ  গড়তে  জননেত্রী শেখ হাসিনার সুন্দর জীবন ও দীর্ঘায়ু কামনা করে সৃষ্টিকর্তার নিকট  দোয়া ও প্রার্থনা করার জন্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সকলের নিকট বিনিত অনুরোধ করছি। তারই সাথে সাথে সরকারের সকল নির্দেশ মেনে এবং সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি পালন করে করোনাভাইরাসের  সংকট মোকাবেলায় নিজেকে সচেতন করি  এবং অন্যকে সচেতন হতে উৎসাহিত করি এটাই হোক আজকের প্রত্যাশা ।  
লেখক: সাবেক সভাপতি-শিক্ষক সমিতি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল
আজকালের খবর/টিআর





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com